ঋণ অবলোপনে অনিয়ম বন্ধে দুদকের ১০ সুপারিশ

আর্থিক প্রতিবেদনে দুর্বলতা লুকাতে দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী খেলাপি ঋণ অবলোপন করতে পারে ব্যাংকগুলো। যদিও আইনানুযায়ী স্বীকৃত এ পদ্ধতি ব্যবহারের বেশকিছু শর্ত পালন করতে হয়; কিন্তু সেটা না করেই অনিয়মের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ অবলোপন করছে ব্যাংকগুলো। মামলা না করে কিংবা প্রভিশন না রেখেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে তা করা হচ্ছে। এটি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০ দফা সুপারিশ পাঠায়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। এ সময় পর্যন্ত অবলোপনকৃত ঋণের পরিমাণ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এটাও খেলাপি ঋণ। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সোয়া লাখ কোটি। মূলত অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণ আদায় না হওয়ার কারণেই তা খেলাপি হয়ে যায়। আর সেটা দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি থাকলে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন দুর্বল বলে উপস্থাপিত হয়। তাই অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণকৃত ঋণখেলাপি হওয়ার পর তা আর্থিক প্রতিবেদন থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়।

দুদক সূত্র জানায়, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) গত ১৫ বছরের অবলোপনকৃত ঋণের অবলোপন প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রত্যেক ব্যাংকের পাঁচটি অবলোপনকৃত ঋণের যাবতীয় প্রক্রিয়া নিবীড়ভাবে পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছে দুদক। তাই এ অনিয়ম বন্ধে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশমালা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সুপারিশে বলা হয়েছে, অবলোপনকৃত ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সব পরিচালককে খেলাপি হিসেবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলা ছাড়া অবলোপন বন্ধ করতে হবে। ঋণ অবলোপনের কারণ নির্ধারণ এবং ঋণের টাকা অব্যবহার হয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হতে হবে। ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ থেকে অবলোপন পর্যন্ত ম্যানেজমেন্টের অনিয়ম আছে কিনা, খতিয়ে দেখতে হবে। বিদ্যমান আইনে তা আদায়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। অবলোপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়াও বাধ্যতামূলক করতে হবে। ঋণ অবলোপনের জন্য আগের বছরের লভ্যাংশ থেকে শতভাগ প্রভিশন রাখার শর্ত থাকলেও ব্যাংকগুলো চলতি বছর থেকে রাখে। এটি বন্ধ করতে হবে। ঋণ অবলোপনের পূর্বে অর্থঋণ আদালতেও মামলা করতে হবে। অর্থাৎ অবলোপনকৃত ঋণে দুটি মামলা থাকবে। প্রচলিত নিয়মে অনেক ক্ষেত্রে মামলা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ঋণ অবলোপন করা যায়। এ ক্ষেত্রে মামলা ছাড়া কিছুতেই কোনো ঋণ যেন অবলোপন করা না যায়, সে রকম বিধান প্রণয়ন করতে হবে।