

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
ইমরান খান ও জেমিমা খানের বিবাহ বিচ্ছেদের সময় কোর্টের বিচারক ঘোষণা করলেন, জেমিমার সম্পত্তির অর্ধেক ১২ হাজার কোটি পাউন্ড অর্থাৎ সাড়ে তের লাখ কোটি টাকা ইমরান খান পাবেন।
ইমরান খান উত্তর দিলেন, আমার তার মোটেও দরকার নেই।
বিচারক আশ্চর্য হয়ে গেলেন, জেমিমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কেন এরকম নির্লোভ এবং মহান একজন স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ চাচ্ছেন?
জেমিমার উত্তর ছিল, ইমরান খান যদি লন্ডনে তার সাথে বসবাস করেন তাহলে তিনি এই বিচ্ছেদ চাইবেন না।
বিচারক জিজ্ঞেস করলেন জেমিমা আপনি কেন পাকিস্থানে থাকতে চান না?
জেমিমার উত্তর ছিল, পাকিস্তানের কলুষিত রাজনৈতিক নোংরা শিকারে পরিণত হচ্ছেন তিনি। নওয়াজ শরিফ সরকার তাকে স্মাগলিং মামলায় ফাঁসিয়েছে।
বিচারক ইমরান খানকে জিজ্ঞেস করলেন তিনি কেন লন্ডনে থাকতে চাচ্ছেন না? ইমরান খানের উত্তর ছিল পাকিস্তান অনেক গরিব দেশ এই দেশে অশিক্ষা দারিদ্র্য অবিচারে ভরপুর। তিনি কিছু একটা করতে চান দেশের জন্য। তাই লন্ডনে থাকা তার জন্য সম্ভব নয়।
বিচারক বলেন সে ক্ষেত্রে বাচ্চা দুজন তাদের মায়ের সাথে থাকবে। ইমরান সানন্দে রাজি হলেন এবং বললেন জেমিমা অত্যন্ত চমৎকার একজন স্ত্রী এবং তার চেয়েও চমৎকার একজন মা সুতরাং বাচ্চাদের তার কাছেই থাকা উচিত।
বিচারক আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইলেন ইমরান খানের দিকে। ইমরান খানের সাথে হাত মেলালেন এবং তার পরপরই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করলেন। জেমিমা ও ইমরান খান পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকলেন।
দেশের মানুষের কথা ভেবে ইমরান সেদিন সপরিবার লন্ডনে যাননি। অথচ সে দেশের ক্ষমতালোভীরা, পশ্চিমাদের সহয়তা, ষড়যন্ত্র করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাঁড়িয়ে ইসলাম ফোবিয়া আর মুসলিমরা কেন আল্লাহকে ভালোবাসে—তার যুগান্তকারী ভাষণ দিয়ে একদিকে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন অন্যদিকে পশ্চিমা শয়তানদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে৷ ইমরান খান প্রায় চার বছর ক্ষমতাকালে, কখনো বিদেশি প্রভুদের কাছে মাথানত করেননি; বরং ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে স্পষ্ট ভাষায় আমেরিকাকে জবাব দিয়েছেন, আমরা কী আপনাদের গোলাম নাকি!
এই স্পষ্ট সাহসী জবাব তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ষড়যন্ত্রকারীদের দিয়ে শেষ পর্যন্ত ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন আমেরিকা। ইমরানকে হয়ত ক্ষমতাচ্যুত করেছেন ঠিকই কিন্তু পাকিস্তানের মানুষের ভালোবাসা থেকে তাকে দূরে সরাতে পারেনি। তাই তার বিদায়ে, লাখ লাখ তরুণ আজাদী আজাদী, ইমরান খান জিন্দাবাদ স্লোগান রাস্তায় নেমে এসেছে।
ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে জাতির উদ্দেশ্য সর্বশেষ ভাষণে বলেছেন, আমার পরিবার কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো না। আমি অনেক সংগ্রাম করে ২২ বছর পর এ জায়গায় এসেছি, পাকিস্তানের মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি; আজ আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। বিদেশি গোলামদের আমি কখনো মেনে নিবো না। আগামী পাকিস্তানের ভাগ্য পাকিস্তানের জনগণ-ই নির্ধারণ করবে। তরুণদের বলব, তোমাদের ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতে। আমি মানুষের সাথে মিশে যাব। আমি আরো দৃঢ়ভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
ইমরান বিদায় নেয়ার সময়, তার সচিবকে বলে গেলেন, গত চার বছরে তার সকল হিসাব জাতির সামনে উপস্থাপন করতে। একজন নেতা কতটা সৎ আর দেশপ্রেমিক হলে এমন দৃঢ় মনোবলের হতে পারে!
ইমরানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের সাংবাদিকরা ভেবেছিল, দৃশ্যটা আফগানিস্তানের মতো হবে। ইমরান খান ও তার দল পিটিআই এর হাজার হাজার নেতাকর্মী বিমানে করে পালাবেন। এই দৃশ্য ধারণ করতে ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতভর অপেক্ষায় ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
কিন্তু আশায় হতাশা! ইমরান খান তো নয়ই, তার দলের একজন নেতাও দেশত্যাগ করেননি। রোববার সকালে ইসলামাবাদে ইমরান খানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকরা দেখেন, তিনি দিব্যি ড্রইংরুমে বসে টিভি দেখছেন!
যে ইমরান দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে স্ত্রী’র সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে হইছে, সে ইমরান কী করে বিদেশি দাসত্বদের ভয়ে দেশ থেকে পালাবেন!
ইনশাআল্লাহ, ইমরান আরো পরিপক্ব, আরো শক্তিশালী, আরো দৃঢ় হয়ে ফিরে আসবেন। আবারো নেতৃত্ব দিবেন পাকিস্তানের।
একজন দেশপ্রেমিক প্রধানমন্ত্রীর বিদায়
** সংগৃহিত।












