
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
‘সাংবাদিকদেরকে জাতির বিবেক বলা হয়’ কথাটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দায়িত্বশীল লোকের কণ্ঠে শোনা যায়। সমাজের তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্বরতদের সর্বোচ্ছ পর্যায় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রের প্রচার, প্রসার,অর্থ ও বানিজ্য, দুর্নীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি,ব্যার্থতা সফলতা, সব কিছুরই উপস্থাপন ও প্রকাশ হয় সাংবাদিকের কলমের মাধ্যমে এ জন্যই সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক।
অনেকের মতে আমাদের দেশে গত কয়েক বছর থেকে সংবাদ পত্রের এবং সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা না থাকলেও সারাদেশের সাংবাদিক সমাজের বিশেষ আপত্তির মুখে শুধু নয় জাতীয় সংসদে সরকারের অংশ হিসাবে গৃহপালিত বিরুধী দলের সংসোধন প্রস্তাব উপেক্ষা গত ৮ অক্টোবর ২০১৮ পাস হল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এইআইনের বেশ কিছু ধারার ব্যাপারে সকল সাংবাদিক সমাজ একত্র হয়ে আপত্তি জানালেও এর প্রতি গুরুত্ত না দিয়ে গোটা সাংবাদিক সমাজকে অবহেলিত করেছে বললেও নিতান্তই কম বলা হবে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার নিজস্ব স্বার্থে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে তড়িগড়ি করে উক্ত আইন পাশ করে নেয়ার পর থেকেই দেশে-বিদেশে সমলোচিত হয় ।
বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কূটনীতিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমা এসব কূটনীতিকের মতে, বাংলাদেশের নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা এবং এই আইন জনগনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচারিক ধারার লঙ্ঘন হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার। জার্মান পররাষ্ট্র দফতরও বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার আহব্বান জানিয়েছে সেই সাথে নির্ভরযোগ্য ও সত্যনির্ভর তথ্য জনগনের জানার আধিকারের কথাও বলা হয়েছে।

এরপরই বাংলাদেশের গণমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যা একটি উন্নয়নমুখি রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমুর্তিকে চরমভাবে বিগ্নিত করে। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম নিজেদের সম্পাদকীয়তে এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এবং অন্য বিভিন্ন আইনের কিছু ধারাকে দায়ী করে? সরকার গনমাধ্যমের প্রতি মুখেমুখে সজাগ থাকলেও পাসকৃত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সেই অবস্থানটাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ডিজিটাল আইনের অনেক সুবিদা থাকলেও প্রয়োগকারিদের অনেকের অনৈতিকতার কারনসহ লোভি, চাটুকার ও অতি উৎসাহিদের কারনে এর অপপ্রয়োগও কম হয়না। কিছুকিছু অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এই আইনটি পাস হলেও আইন প্রয়োকারীদের দায়মুক্তির বিধান শীব গড়তে যেন বানর গড়ার সন্দেহ থেকে যায়। সরকার যেহেতু পরিবর্তনশীল ভবিষ্যতে এই আইনটি যাতে ভুমেরাং না হয় সে দিকে কঠোরভাবে খেয়াল রাখা উচিত। কারন সাংবাদিকরা সরকার বা সরকার বিরোধি কোন দলেরই শত্রু নয় আবার ব্যাক্তিগত ভাবেও সাংবাদিকরা যাতে আইন প্রয়োগকারি কোন সংস্থা বা ব্যাক্তির প্রতিহিংসার স্বিকার না হয়, এটা অত্যধিক গুরুত্তপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে নতুন আইনটি সুষ্ঠ সুন্দর ও মুক্ত সমাজ গঠনের পরিপন্থী। এই আইন তৈরির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়ীত্তরত নীতি নীর্ধারকরা কতটুকু প্রজ্ঞা ও দুরধর্ষীতার পরিচয় দিয়েছেন এটা একবার ভেবে দেখার বিষয়।











