খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ অগ্রণী ব্যাংক

দুই হাজার ৪২৩ কোটি টাকা আদায়ে এজেন্ট নিয়োগ
৩০ দিন প্রতিবেদক :
সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নিয়ে ধুঁকছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংক। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এখন এজেন্টের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংকটি। আবিদ কমিশন এজেন্ট লিমিটেড নামের একটি এজেন্টকে ব্যাংকটির অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, অগ্রণী ব্যাংকের সাতটি শাখা থেকে নেওয়া ৯টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানই চট্টগ্রামের।
৯ প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়ে এজেন্টটিকে দায়িত্ব দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑচট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা করপোরেট শাখার খেলাপি মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড, চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার খেলাপি নূর জাহান সুপার অয়েল লিমিটেড, মেসার্স ইমাম মোটরস ও মেসার্স খালেক অ্যান্ড সন্স, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার খেলাপি মাররীন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ করপোরেট শাখার জাসমীর ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড, রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট করপোরেট শাখার খেলাপি তাসমিন ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড; তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল করপোরেট শাখার খেলাপি মেসার্স শিহাব গার্মেন্টস (প্রা.) এবং কুষ্টিয়া শাখার খেলাপি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহমখদুম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
সূত্র আরও জানায়, এই ৯ প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। বর্তমানে এ ঋণের স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। চুক্তিনামার শর্ত মোতাবেক কস্ট অব ফান্ড রেটে আদায়যোগ্য টাকার কমিশনও আদায় করতে হবে বলে আবিদ কমিশন এজেন্টকে জানিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।
জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ আদায়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আবিদ কমিশন এজেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তি করে অগ্রণী ব্যাংক। সম্প্রতি এজেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল-আমিনের কাছে একটি চিঠি দেয় অগ্রণী ব্যাংক। চিঠিতে চুক্তির যাবতীয় শর্ত এবং নির্ধারিত মেয়াদের শর্ত পরিপালনের বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এই ঋণ আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঋণ আদায়ে অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে রিকভারি অ্যান্ড এনপিএ ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের (আদায়) প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, এই নিয়ম পৃথিবীর সব দেশেই রয়েছে। তাই আমরাও অনেক সময় এজেন্টের শরণাপন্ন হয়ে থাকি। তিনি বলেন, কিছু খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের শক্তিশালী মাধ্যম প্রয়োজন হয়। যেমন কিছু পাওয়ার রয়েছে, যাদের দমন করতে সুপার পাওয়ার প্রয়োজন হয়। এই পাওয়ারদের ক্ষেত্রে আমাদের পদক্ষেপ কার্যকরী হয় না।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ শেষে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৮৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৬৭৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের কারণে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের এ ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকই রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের। মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ সময় ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।