জনপ্রিয়তার শীর্ষে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, সর্বোচ্ছ ডিভিডেন্ট প্রদান

উত্তরা ব্যাংক পিএলসি হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেই সর্বোচ্ছ ডিভিডেন্ট প্রদান করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে, শতবর্ষীয় পুরোনো ব্যাংক হিসাবে দেশের আপামর সাধারন মানুষসহ বিনিয়োগকারিদের আস্থা অর্জন

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে মুলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তফসিলি বা তালিকাভুক্ত, নন-তফসিলি বা অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক। ছয়টি রাষ্ট্রিয় বানিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৪৩ টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নয়টি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি এবং নন-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫ টিসহ মোট ৬৬টি ব্যাংক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের একটি দেশে অতগুলো ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু স্থিতিশীল ভুমিকা রাখতে পেরেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হিসাবে

উত্তরা ব্যাংক, বর্তমানে উত্তরা ব্যাংক পিএলসি হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেই এবং অতিতের সকল সফল ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সর্বোচ্ছ (২৮%) ডিভিডেন্ট প্রদান করেছে বিনিয়োগকারিদের। আর এই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসার পেছনে অর্থ্যাৎ,এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রত্যেকের সুশৃক্ষল কর্মতৎপরতা ও দুরদর্শী কর্ম-পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের আপামর সাধারন মানুষ থেকে বিনিয়োগকারিদের কাছে পর্যন্ত শতভাগ আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

ফিরে দেখা :
অত্যন্ত গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের যা প্রায় ৯৭ বছর ধরে ব্যাংকিং ধারার উত্তরাধিকার বজায় রয়েছে। ১৯২৬ সালে মিস্টার ক্যাষ্টো নাথ দালাল নামক ব্যক্তির প্রথমে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক “নাথ ব্যাংক” হিসাবে নামকরণ করা হয়, এবং সময়ের আদলে জাহাঙ্গির নগর যার বর্তমান নাম ঢাকা, সে সময়ে নোয়াখালীতে তিনটি এবং একটি কুমিল্লায় ব্যাংকিং শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ব্যাংকটিকে ১৯৫৫ সালে নাথ ব্যাংক পাকিস্তান লিমিটেড হিসাবে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছিল এবং তারপরে ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড হিসাবে নামাকরন করা হয় যেটি ২৮শে জানুয়ারী ১৯৬৫ তারিখ থেকে ঢাকায় একটি প্রধান কার্যালয় শুরু হয়। নিয়মিত ফাংশনের সেট ছিল এবং ঢাকায় একটি প্রধান কার্যালয়, যার প্রাথমিক আমানত টাকা এক কোটিরও কম এবং টাকায় শেয়ার মূলধন ১৪.২১ লাখ টাকা। তৎকালিন পুর্ব পাকিস্থানের ক্ষুদ্র আয় গোষ্ঠী থেকে মুক্তি এবং পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তান থেকে অন্য কোনও কার্যকরী সাহায্য ছাড়াই এবং কঠিন জটিলতার মধ্য দিয়ে ঢাকা অফিসের পথ চলা শুরু করে। উল্লেখ্য যে, ১৯৬৫ সালের ২২ জুন তারিখে তখনকার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান ব্যাংক বৃহৎ এবং দৃঢ়ভাবে সতর্ক পরিকল্পনায় ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড তার প্রচারের সময় চিত্রিত এবং তালিকাভুক্ত শিডিউল ব্যাংক হিসাবে কার্যক্রম শুরু করে ছিল।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫-এর ফর্মে এক আদেশে স্টেট ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড সফলভাবে সারা বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং বিদেশী কর্পোরাল চিঠিপত্র নিয়োগ (আদান প্রদান)করছে এবং বৈদেশিক মুদ্রায় লেন দেন (ডিএল)-এর জন্য ডিল বা চুক্তি করেছে। স্বাধীনতার ঠিক আগে এবং ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় এ ব্যাংকটির শাখার সংখ্যা ছিল ৬০টি। তখন ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেডের ওভারসিজ শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা জমানো শুরু করে। ৭১এ স্বাধীনতার পর এই ব্যাংকটির পাকিস্তানের কোষাগারের কার্য সম্পাদন বার্মিংহামে অবস্থিত ইংল্যান্ড বাংলাদেশে প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা পরিষেবা চালু করার মধ্য দিয়ে।
কার্যত স্বাধীন ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশনকে জাতীয়করণ করা হয় এবং উত্তরা ব্যাংক হিসাবে নামকরণ করার মাধ্যমে যা বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল অর্ডার ১৯৭২ এর অধীনে ২৬ মার্চ ১৯৭২ থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের পুনঃসূচনা শুরু হয়, বিশেষ করে নতুন জন্ম নেওয়া দেশের উপর কার্যক্রমের সক্রিয় অংশ, অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতের ব্যাংক হিসাবে। প্রসাসনিক ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের জুন থেকে উত্তরা ব্যাংক পুরোপুরি প্রাইভেট ব্যাংক হিসাবে ছেড়ে দেয়ার পর উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড নামে পরিচিতি লাভ করে এবং ১৯৮৪ সালে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানী হিসাবে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য উত্তরা ব্যাংকের এই দীর্ঘ পথ চলার মাধ্যমে ২০২৩শে এসে চলমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক “উত্তরা ব্যাংক পিএলসি’তে রূপান্তরিত হয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংকটির ২৪১টি শাখা কার্যকর রয়েছে যার ১১টি সাব ব্রাঞ্চ (সাব শাখা) এবং দ্য পিপলস অফ সার্ভিসের অনুমতিসহ একটি নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতার উচ্চতায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলির ভুমিকা :

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে যদিও চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটা দেশে সর্বমোট ৬৬টি ব্যাংক সেবা দিয়ে যাচ্ছে তারমধ্যে বর্তমান পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৩৫টি ব্যাংক, বাকিগুলি এখনো পর্যন্ত সকল শর্ত পুরন করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় নাই বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হতে পারে নাই বলা যায়। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে এ ভুখন্ডে যে ব্যাংকগুলি কার্যকরি ছিল, সে আমলে এসব দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উথ্যাপিত হয় নাই। স্বাধিনতা পরবর্তি সময় থেকেই বর্তমান পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটা সম্প্রদায় বা একটা গোষ্টী বর্তমান পর্যন্ত অবলিলায় কিছু অনৈতিক কাজ নির্ধিদায় করে যাচ্ছে, যা একটা দেশের আর্থিক ব্যবস্থা তথা আর্থিক অবকাঠামোকে দুর্বল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। আমাদের দেশের এক শ্রেনির ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী, পাচারকারী ও লুটেরা গোষ্টী না বুঝতে পারলেও দেশের দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজ থেকে আপামর সাধারন মানুষ পর্যন্ত কারোরই বুঝার বাকি রয় নাই।

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর ১৮টির লভ্যাংশ আগের বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। লভ্যাংশের পরিমাণ কমেছে ১৩টি ব্যাংকের, বেড়েছে ১টির। আর দুটি ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। এ ছাড়া একটি ব্যাংক গত বছর তালিকাভুক্ত হয়ে প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বেশির ভাগের লভ্যাংশ অপরিবর্তিত থাকলেও শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে কম মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিওর শেয়ার হচ্ছে ব্যাংক খাত। এ খাতের সামগ্রিক পিই রেশিও ১২ শতাংশের কাছাকাছি।
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই ৩৫টি ব্যাংকের মধ্যে ২০২২ সালের লভ্যাংশ বিতরণে শীর্ষে ছিল উত্তরা ব্যাংক। আর শেয়ারপ্রতি আয়ের (ইপিএস) দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্বাংলা ব্যাংক। এ দুটি ব্যাংক ২০২১ সালেও লভ্যাংশ বিতরণ ও আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল।

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের ২০২২ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ ও বছর শেষের লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তা পর্যালোচনা করে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় লভ্যাংশ বিতরণে উত্তরা ব্যাংক এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক বছর শেষ হওয়ার পর লভ্যাংশ ও ইপিএসের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। ব্যাংকের সারা বছরের সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দেওয়ার পর যে মুনাফা হয়, সেটাই হচ্ছে ইপিএস। বছরের মোট মুনাফাকে ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হিসাব করা হয়। অর্থাৎ ইপিএস হচ্ছে বছর শেষে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নগদ ও বোনাস মিলিয়ে ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে উত্তরা ব্যাংক। ২০২১ সালেও ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের সমপরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল। আর ২০২০ সালে ব্যাংকটি নগদ ও বোনাস মিলিয়ে ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি ২০১৫ সাল থেকে গত সাত বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশের বেশী লভ্যাংশ দিয়ে ব্যাংকিংখাতে দেশের আপামর সাধারন মানুষ থেকে বিনিয়োগকারিদের কাছে পর্যন্ত শতভাগ আস্থার অর্জনে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

উত্তরা ব্যাংকের আরো অধিকতর তথ্যের জন্য – https://www.uttarabank-bd.com