ঝুলে গেছে ব্যাংক কমিশন

অর্থনীতির ৩০ দিন রিপোর্ট :
ঝুলে গেছে ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠন প্রক্রিয়া। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংক কমিশন গঠন সংক্রান্ত কোন বক্তব্য না থাকায় বিষয়টি এখন ফাইল চাপা পড়ে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানায়, এ সরকারের মেয়াদে ব্যাংক কমিশন আর হচ্ছে না। তবে এ-সংক্রান্ত একটি রূপরেখা তৈরি করা হবে। তবে এটি বাস্তবায়ন করা না-করার বিষয়টি আগামী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই বহাল থাকছে। বাজেট পাসের পর এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেবেন অর্থমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত ব্যাংক কমিশন গঠনে বাজেট ঘোষণার মাস দুয়েক আগে থেকে এক ধরনের তোড়জোর দেখা গিয়েছিল। কমিশন গঠনের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ইতোমধ্যেই একটি সার-সংক্ষেপ প্রণয়ন করেছে। তবে সার-সংক্ষেপটি চূড়ান্ত করার আগে কমিশনের টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতামত নিতে বলেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এটি এখনো শুরু হয়নি। মতামত নেওয়ার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এটি চূড়ান্ত করবে, তারপর অর্থমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পর অনুমোদনের জন্য এটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
‘ব্যাংক কমিশন’ গঠন সংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-এর সিনিয়র সচিব মোঃ ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি এখনো মতামত নেওয়ার উপযোগী হয়নি। এটি চূড়ান্ত হতে আরও কতদিন সময় লাগতে পারেÑ তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
উল্লেখ্য, ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও খেলাপী ঋণ সংস্কৃতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ফোরামে ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠনের কথা সরকারকে বলে আসছেন। সরকারি-বেসরকারি উভয় শ্রেণীর ব্যাংকেই দুর্নীতি ও খেলাপী ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি পুনরায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাব রয়েছে। ঋণ গ্রহীতা নির্বাচন ও ঋণ প্রস্তাব মূল্যায়নে অনিয়ম, ঋণ বিতরণ ও আদায়ে দুর্নীতি ও অনীহা, খেলাপী ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিসহ সরকারি ব্যাংকগুলোর নানা সমস্যার কথা প্রতিনিয়তই আলোচনা হ্েছ। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাত্রাতিক্তি ঋণ প্রদান এবং এক ব্যাংকের পরিচালক স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন -এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফারমার্স ব্যাংকের ঘটনা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এমতাবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সার্বিক কর্মকান্ডে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে একটি ব্যাংক কমিশন গঠন প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও সংস্কারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বলা হয়েছে, আইন-কানুন প্রয়োগের মাধ্যমে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কাজ করতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নতুন ধারণার উদ্ভব ঘটিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃঙ্খলা পুণঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।