দুই হাজার মাদ্রাসা উন্নয়নে ৬০০০ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারা দেশের দুই হাজার মাদ্রাসা উন্নয়নে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি সংসদীয় এলাকা থেকে ছয়টি করে মাদ্রাসা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় আরো ২০০টি মাদ্রাসা উন্নয়ন করা হবে।
গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ‘নির্বাচিত মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়ন’ শীর্ষক ৫ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পসহ মোট ১৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা জোগান দেয়া হবে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন মাদ্রাসার দৈন্যদশা তুলে ধরে জরুরি ভিত্তিতে এসব মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে চাহিদাপত্র দেন ৩০০ সংসদ সদস্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা উন্নয়নের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন ভবনে আইসিটিসহ সব ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হবে। কম্পিউটার ল্যাবও থাকবে এসব মাদ্রাসা ভবনে। প্রতিটা ভবন হবে পাঁচতলা, নিচতলা ফাঁকা থাকবে। তার পরও শিক্ষার্থীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে ভবনের আকার-আয়তন। প্রাথমিকভাবে প্রতি সংসদ সদস্য ছয়টি করে মাদ্রাসার বরাদ্দ পাবেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গতকাল ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি’ শীর্ষক একটি প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে একনেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে আর্থিক ও ভৌত অভিগম্যতার উন্নয়ন করা হবে, যাতে নগরবাসীদের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৪ হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২; ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন পিসি গার্ডার ব্রিজের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প; ২৯১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর জেলায় আড়িয়াল খাঁ নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং প্রকল্প; ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প; ১ হাজার ৪২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প; ৫১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প; ৪৮০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প; ৭৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা রিঅ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির সেফটি সিস্টেমের সমন্বয় সাধন, আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্ধিতকরণ প্রকল্প; ৬১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুর জেলার আটটি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; ৭৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প; ৬০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন প্রকল্প; ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে একাত্তরের বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প; ৩৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণ প্রকল্প; ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুর-ধানুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙ্গা জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ প্রকল্প; ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ১৩টি নদীবন্দরের প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং ৯২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।