
গত দশ বছরে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জুয়া ও মাদকের প্রকাশ্য ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে শেয়ার বাজার লুট, ব্যাংক লোপাট, অবিশ্বাস্য দরে সরকারী প্রকল্পের কেনাকাটার মত ভয়াবহ সব দুর্নীতি। এমনকি সকল নীতি-নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে মসজিদের শহর নামে খ্যাত গর্বিত ঢাকাকে আজ লাসভেগাস-ম্যাকাওর আদলে ক্যাসিনোর শহরে পরিণত করা হয়েছে। সরকারী দলের অর্থপিপাসু কতিপয় প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রশাসনের অর্থলোভী ও নীতিহীন কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয় আজ মহামারী রূপে সমাজে বিরাজ করছে। দেরীতে হলেও অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই দুর্নীতিবাজ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গসংগঠনগুলোকে শুদ্ধিকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে জনগণ আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর গণ-সমর্থিত এই উদ্যোগ কতিপয় স্বার্থান্বেষীর কারসাজিতে মাঝ পথে মুখ থুবড়ে পড়লে দল হিসাবে আওয়ামী লীগ গণরোষের কবলে পড়তে পারে বলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ মনে করেন।
আজ সকাল ১১.০০টায় পল্টনস্থ দলীয় প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক জরুরী সভায় দলীয় নেতবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
দলের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, উন্নয়নের নামে সকল প্রকল্প জনগণের ট্যাক্সের অর্থ যে পরিমাণে লুণ্ঠিত হচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুদ্ধ দেশবাসীর কাছে বর্তমান সরকারের নৈতিকতা ও সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও লুটপাটের উৎসমুখ চিহ্নিতকরণসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে দেশে চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমর্থন ও সহযোগিতা ব্যতীত সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতি বাজদের ব্যাপারেও অনুরূপ অনমনীয় হতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
আরও বক্তব্য রাখেন দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী; অতিঃ মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ.এ কাফী; সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা খোন্দকার জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনী, নজরুল ইসলাম, শেখ এ সবুর, নূরেআলম, মামুনুর রশীদ, আবদুল আলিম, সৈয়দ আনিসুজ্জামান মানিক প্রমুখ।











