দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তথ্যসংবলিত ওয়েব পোর্টালের যাত্রা

ইউএনসিডিএফ ও ডিনেটের যৌথ উদ্যোগ
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বাংলাদেশে খুচরা বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। প্রতি বছর এ খাতে যুক্ত হচ্ছেন ৫০ হাজার নতুন ব্যবসায়ী। সম্প্রতি জাতিসংঘের ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ) এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবার এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর তথ্যসংবলিত একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করা হয়েছে। হোটেল ওয়েস্টিন ঢাকায় পোর্টালটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
ইউএনসিডিএফ ও ডিনেটের যৌথ আয়োজনে ওয়েব পোর্টালটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে তথ্য জানার ক্ষেত্রে ওয়েব পোর্টালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসব তথ্য দেশের নীতিনির্ধারকদের সর্বোত্তম নীতিনির্ধারণ এবং আর্থিক সেবা প্রদানকারীদের সেরা পণ্য বেছে নিতে সহায়তা করবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য খুচরা ব্যবসায়ী ও অন্যান্য এমএসএমই উদ্যোক্তার আনুষ্ঠানিক আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এ লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। খুচরা দোকান থেকে শুরু করে অর্থনীতির সব খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বা ডিজিটালাইজেশনের বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে খুচরা বিক্রেতাসহ সব ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য আমাদের একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ম্যানফ্রেড ফার্নহোলজ। তিনি বলেন, আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে নারী ক্ষমতায়নের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ বর্তমানে ১০ শতাংশের কম খুচরা দোকান নারীরা পরিচালনা করেন। চালু হওয়া ওয়েব পোর্টালটি নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে এগোতে সাহায্য করবে। বর্তমানে আমরা এক লাখ খুচরা ব্যবসায়ীকে নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে আরো বেশিসংখ্যক ব্যবসায়ীকে এর আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, আমরা বর্তমানে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান— উভয় পক্ষই নতুন ওয়েব পোর্টালটির মাধ্যমে সমানভাবে উপকৃত হবে।
ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের আন্তঃসমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে সবার জন্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে এর বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো মোকাবেলায় সব ব্যাংক একযোগে কাজ করতে এগিয়ে আসবে।
ইউএনসিডিএফের শেপিং ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স ট্রান্সফরমেশনস (শিফট) প্রোগ্রামের ম্যানেজার রাজীব কুমার গুপ্ত বলেন, আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি— বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া তাদের ডিজিটাল আর্থিক সেবার সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে তথ্য জানা প্রয়োজন। যত বেশি তথ্য পাওয়া যাবে, তত শক্তিশালী কর্মসূচির পরিকল্পনা করা যাবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান মনে করে যে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, তবে সেগুলো ওয়েব পোর্টালটিতে আপলোড করার অনুরোধ করছি।
ইউএনসিডিএফের গবেষণালব্ধ সব তথ্যই নতুন চালু হওয়া ওয়েব পোর্টালটি থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে ডেমোগ্রাফিক, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কী কী প্রয়োজন, তাদের অর্থায়ন ও হিসাবরক্ষণের প্রক্রিয়া, আর্থিক সেবা গ্রহণের সুযোগ-সুবিধা, সরবরাহকারীদের সঙ্গে তাদের আচরণ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার ইত্যাদি তথ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এ তথ্যভাণ্ডার আরো সমৃদ্ধ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ইউএনসিডিএফের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ হাজার ৮৪২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিদিনের সংযোগের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট ও অন্যান্য আর্থিক সেবার বাইরে রয়ে গেছেন এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর বড় একটি অংশ।