বহিস্কৃত হওয়ার গুঞ্জনে বিতর্কিত আইনজীবী মুসলিম লীগের স্বঘোষিত সভাপতি মহসিন রশিদের পদত্যাগ

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
মহসিন রশিদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (নিবন্ধন নং ২১) স্বঘোষিত সভাপতি, একজন সিনিয়র আইনজীবী। গত ০৫ আগষ্ট ২০২৪দেশের ফ্যাসিবাদী সরকারের পলায়নের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সস্থিরতা ফিরে আসলে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি বদরোদ্দোজা সূজা অসুস্থতায় দায়ীত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় দলের (বাংলাদেশ মুসলিম লীগের) মহাসচিব কাজি আবুল খায়ের নিজস্ব বলয়ের কয়েকজন দলীয় নেতাদের নিয়ে এই আইনজীবীর বাসায় গিয়ে সলা-পরমায়েশ করে গত ১০ আগষ্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনাসভা ডেকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব অর্পণ করেন যদিও দলের অনেক নেতারা তা সহজে মেনে নেন নাই। দায়ীত্ব পাওয়ার পরপরই ভারপ্রাপ্ত সভাপতিরর বক্তিতায় দেশের সঙ্কটময় মুহর্তে নবগঠিত ড. ইউনূসের অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে এনজিও এবং অযোগ্য সরকার বলে দলের ভিতরেও নিজেকে বিতর্কের জন্ম দেন। এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড সুদুর অতিত থেকে বর্তমান পর্যন্ত তার পিচু ছাড়াতে পারেনি কেহ।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিরর দায়ীত্ব পাওয়ার পর থেকে গত ৮মাসে নিজেকে বার বার দলের সভাপতি উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রচার এবং অর্ন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রায় ১১৮ বছরের পুরুনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রচুর বিতর্কের জন্ম দেয়ার সাথে সাথে দলকে ভাঙ্গনের পথে নিয়ে যান। এমতাবস্থায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ভাবমূর্তি রক্ষায় দলের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়ীত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার গুঞ্জন উঠলে দলের মহাসচিবের নিকট পত্রের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতিরর দায়ীত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
সত্যায়ীত প্রমানের জন্য পদত্যাগ পত্রটি হুবহু উপস্থাপন করা হলো :
মহাসচিব,
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ,
আমি আপনাকে এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সমগ্র নেতৃত্বকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।  বিগত ৮ মাস ধরে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি/ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয় ছিল । আমার মেয়াদে পার্টির কিছু (সবাই না) নেতা ও কর্মী যে অটুট সমর্থন, সহযোগিতা দেখিয়েছেন তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
একসাথে, আমরা এই ঐতিহাসিক সংগঠনের মূল্যবোধ ও লক্ষ্যকে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি।  আমি সভাপতি থাকাকালীন সময়ে পার্টির লক্ষ্যগুলিকে অগ্রসর করতে, এর উপস্থিতিকে শক্তিশালী করতে এবং এর বৃদ্ধির দিকে কাজ করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি।
যাইহোক, এটি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে আমার এবং অন্যান্য সম্মানিত নেতাদের সাথে নীতি, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অমিলনযোগ্য পার্থক্যের উত্থানকে স্বীকার করতে হবে।
এই নেতারা অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং অঙ্গীকারের সাথে পার্টির সেবা করেছেন এবং তাদের অবদান বছরের পর বছর ধরে পার্টিকে একত্রে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। 
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার স্বার্থে আমি সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এই সিদ্ধান্ত পার্টির সর্বোত্তম স্বার্থে, কারণ এটি আরও বিরোধ রোধ করবে এবং সংগঠনকে স্পষ্টতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে দেবে।
কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় এবং পার্টির অখন্দতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তরিক আশা নিয়ে চলে গেলাম, আমি এর সমৃদ্ধি ও বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করি এবং আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ তার নিবেদিত নেতা ও সদস্যদের নির্দেশনায় আরও বেশি উচ্চতা অর্জন করবে। 
আমি পার্টি এবং এর সদস্যদের ভবিষ্যত প্রচেষ্টার জন্য আমার শুভকামনা রইলো।

মহসিন রশিদ।