অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
গত এক দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় চার গুণ। বিদ্যুৎ সেবাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর আকার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু সে তুলনায় সঞ্চালন সক্ষমতা বেড়েছে দেড় শতাংশেরও কম। উৎপাদন ও সঞ্চালনের এ অসম প্রবৃদ্ধির কারণে ঝুঁকি বাড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। প্রায় প্রতি বছরই দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। এজন্য টেকসই সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০২২ সাল নাগাদ ১১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ দরকার বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও এ প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই আসছে ব্যক্তি খাতের বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সে তুলনায় সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বেশ কম। বর্তমানে মোট ১৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এর ফলে আগামীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ২০ শতাংশ হারেও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যমান সঞ্চালন সক্ষমতা নিয়ে ভবিষ্যতে যোগ হওয়া বিদ্যুৎ পরিবহনে হিমশিম খেতে হবে। তাই সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা পরখ করে দেখতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে (পিজিসিবি) নির্দেশ দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
সম্প্রতি পিজিসিবির প্ল্যানিং দপ্তর ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও ক্ষমতাবর্ধন’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করেছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত খসড়ায় বার্ষিক ১০ শতাংশ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি মাথায় রেখে সাবস্টেশন, সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও নতুন লাইন নির্মাণের জন্য তিনটি ভাগে বেশকিছু উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ২০২১ সাল পর্যন্ত আরো ১০ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া মোট ১৬টি সাবস্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, একটি ২৩০/১৩২ কেভি ও ছয়টি ১৩২/৩৩ কেভি স্পেয়ার ট্রান্সফরমার নির্মাণ, কয়েকটি পুরনো লাইন সংস্কার এবং বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু নতুন সঞ্চালন লাইন স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়কালে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের ব্যয় ১০ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আর সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৭৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আল বেরুনী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী পিডিবি যে জেনারেশন পরিকল্পনা করেছে এবং ভবিষ্যতে যে ডিমান্ড আসবে, সে অনুযায়ী আমরা সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নয়নে নানা প্রকল্প নিচ্ছি। এখনো প্রায় ২৬টির মতো প্রকল্প চলমান রয়েছে। বড় বড় জেনারেশনের পাওয়ার ইভ্যাকুয়েশন যাতে সঠিকভাবে করতে পারি, সেজন্য এসব কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় যেসব সাবস্টেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে আছে— কালিয়াকৈর ৪০০/১৩২ কেভি, আগারগাঁও ২৩০/১৩২ কেভি ও বড়পুকুরিয়া ২৩০/১৩২ কেভি সাবস্টেশন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় গ্রিডভুক্ত সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সালে মোট সঞ্চালন লাইন ছিল আট হাজার কিলোমিটার। এটি এখন ১১ হাজার ১২৩ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬ এমভিএ।










