খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
গত ০৩ মার্চ, ২০২১ তারিখ বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্টিধজ (বিসিআই) ও জাতীয়
রাজস্ব বোর্ডের মধ্যকার প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম, সিনিয়র সচিব, আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যূান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সভায় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), উর্দ্ধতন সহ-সভাপতি মিসেস প্রীতি চক্রবর্ত্তী,সহ-সভাপতি জনাব শহিদুল ইসলাম নিরু সহ বিসিআই এর পরিচালকবৃন্দ উপস্থি’ত ছিলেন। আসন্ন জাতীয় বাজেটে (২০২১-২০২২) এ অন্তর্ভূ৩ির জন্য বিসিআই সভাপতি নি¤েœাক্ত সুপারিশ উপস্বাপন করেন:-
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্টিধজ (বিসিআই) বাজেট ২০২১-২০২২ সাধারণ প্রস্তাবনা :-
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্টিধজ (বিসিআই) দেশের শিল্প খাত প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র জাতীয় সংগঠণ বিধায় তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি দারিদধ বিমোচন এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষমাত্রা, সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০২৬ সনে স্ব^ল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া ইত্যাদি কার্যক্রম সফল বাস্তÍবায়ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ২০২১-২০২২ এ বাজেটে অন্তর্ভূক্তির জন্য সরকারের সদয় বিবেচনার জন্য নিম্নলিখিত সুপারিশ পেশ করছে।
মুজিব শতবর্ষ ২০২১-২০২২ এর অন্যতম লক্ষ্য অনুযায়ী সকল তরুণদের কর্মসংসস্থান সৃষ্টি এবং তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে এবং স্বাবলম্বী তরুণ সমাজ গঠন করতে ‘তরুণ উদ্যোক্তা নীতি, একটি দক্ষ ও কর্মঠ যুবসমাজ তৈরি করতে প্রতি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে স্বল্প ও অদক্ষ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত করার স্বার্থে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে বিসিআই মাইক্রো ও ক্ষুদধ শিল্প খাতে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং তার ধারাবাহিকতায় নিম্নলিখিত সুপারিশ করা হল-
* টেকনিকেল এবং ভকেসানাল কোর্স কে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইনভেষ্টম্যন্ট এবং ইনকাম এ কর অবকাশ প্রদান করা।
*প্রপেশানাল, টেকনিক্যাল ট্রেইনার এর ক্ষেত্রে যদি ইনিষ্টিটিউশান এমনকি ইন্ডাষ্ট্রিতে-তে ও নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের মজুরী করমুক্ত রাখা।
* মাইক্রো ও ক্ষুদধ শিল্প এবং তরুণ শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নূন্যতম ৫ বছর কর অবকাশ প্রদান করা
পরবর্তিতে বিশেষ কর সুবিধা প্রদান করা;
* কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে শতকরা ৫% শারিরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লি১ে⁄২র শধমিক নিয়োগ করলে বিশেষ কর সুবিধা;
* বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার প্রায় ৬৪% সেবা বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত হতে পাওয়া যায়। এই বেসরকারি
খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য পৃথক অর্থনৈতিক বাজেট প্রনয়নের জন্য সুপারিশ করছি;
* গবেষণা ও স্কিলড ডেভল্পমেন্টের জন্য সব ধরনের বিনিয়োগ করমক্ত রাখা;
* ক্ষুদ্র শিল্প এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে খাত ভিত্তিক যৌথ প্রতিষ্ঠান গুলিকে এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড
এর ক্ষেত্রে বন্ডেড-ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রদান করা;
* চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যপরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় একজন কমিশনার কর্তৃক সার্বিক কার্যμম সমাপ্ত করনে বিলম্ব
হওয়ায় পণ্য খালাসে বিলম্ব হয় ফলে ব্যবসায়িক খরচাদি বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পায়।
এমতাবস্তায় দায়িত্বভেদে কশিনারের সংখ্যা বৃদ্ধির সুপারিশ করছি।
* ইকো ফ্রেন্ডলি এনভায়রনম্যান্ট-এর জন্য টেক্স রিবেট দেওয়ার সুপারিশ করছি।
* শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ০% উৎস কর পস্তÍব করছি।
* নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৫ বছর কর অবকাশের পস্তÍাব করছি।
* নতুন উদ্যোক্তা ও সিএমএস কে দেশব্যাপী প্রসার এবং প্রচার শ৩িশালী করার ক্ষেত্রে কর্পোরেট টেক্স ১০% থেকে ১৫% রাখার সুপারিশ করছি।
* সব ধরনের ইউটিলিটি-র উপর ভ্যাট অব্যাহতির সুপারিশ করছি।
* নতুন উদ্যোগতা এবং সিএমএস সৃষ্টিতে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনের উৎস খোজার প্রয়োজন নাই।
* প্রতিটি ইন্ডাষ্ট্রি-র ক্ষেত্রে টিন ঘড় এবং যে কোন এসোসিয়েসন অথবা চেম্বার অথবা এসএমই ফাউন্ডেসন ভ্যাসিক এর নিবন্ধন জুরুরী।
* সিএমএস ক্ষেত্রে প্রথম ৩ বছর কর অবকাশের পস্তÍাব করছি। পরবর্তীতে ১০-১৫% হারে কর ধায্য করা যেতে পারে।
* ডিভিড্যান্ট এর উপর কর অবকাশ করা হোক।
লাইট ইন্জিনিয়ারিং
* লাইট ইন্জিনিয়ারিং ইন্ডাষ্ট্রিরু-এর ক্ষেত্রে মেশনারিজ প্রস্তুত করে বিμয় করলে ভ্যাট
অবকাশ সুপারিশ করছি।
* আমদানিকৃত এ্যালুমুনিয়াম টিক সিট ডিউটি অব্যাহতির সুপারিশ করছি।
* আমদানিকৃত কাঁচামালে ভ্যাট অবকাশের সুপারিশ করছি।
* রপ্তানির ক্ষেত্রে টিটি- এর মাধ্যমে পেমেন্ট আসলে তার উপর নগদ প্রণোদনা দেওয়ার বিধান
রাখার সুপারিশ করছি।
শুল্ক বাজেট সম্পর্কিত সাধারন পস্তÍবনাঃ
করোনাভাইরাস মহামারীর অর্থনৈতিক প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা করে জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ভিশন ২০২১ ও ২০৪১, টেকসই-উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহ স্ব^ল্পোন্নত দেশ হতে ২০২৬ সনে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়া ইত্যাদি কার্যμম সফল বাস্তÍবায়ন করার জন্য বিশ্ব বানিজ্য সংস্থাভুক্ত দেশ ̧লির ন্যায়, জাতীয় স্বার্থেই, বাংলাদেশে শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কার করে একটি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বান্ধব স্থায়ী কর ও শুল্ক ব্যাবস্তা প্রবর্তন করা অপরিহার্য ।
* সকল মূসক নিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূসক ফরমে ঘোষিত সমূদয় মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের উপর আরোপিত ১% এর অতিরি৩ সকল প্রকার শুল্ক-করাদি মওকুফ করার অনুরোধ করছি।
* আমদানি শুল্ক পর্যায়ে সকল তৈরী পণ্যে এআইটি,্সডি এবং আরডি বলবৎ আছে তা বৃদ্ধি করার প্রস্তÍব
করা যাচ্ছে। যে সকল প্রণ্যে আরডি আরোপ করা হয়নি সে সকল পণ্যে কমপক্ষে ১০% হারে আরডি
আরোপ করার প্রস্তÍব করা যাচ্ছে। সম্পূরক শুল্ক হার হ্রাস করে বিদ্যমান শিল্প প্রতিরক্ষণ হার কমানো
সমীচীন হবে না। তবে বিকল্প হিসেবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক সমন্বয় করতে হলে সমহারে
আরডি আরোপের প্রস্তÍব করা যাচ্ছে।
* আন্ডার ইনভয়েস এবং মিস ডিক্লারেশন-এর মাধ্যমে পণ্য আমদানি বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য
নিয়মিত ভাবে মূল্যের খাত ভিত্তিক সঠিক ডাটা আহরণ এবং সে ভিত্তিতে করা এবং সকল বন্দরে স্ক্যানার ও স্বয়ংকৃিয় পরিমাপ যন্ত্র স্থাপনের প্রস্তÍব করছি।
মূসক সংক্রান্ত সুপারিশ
ভোক্তা ও দেশের ৮৫% ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের স্বার্থ ও সামর্থ্য অনুযায়ী সকল পণ্য এবং সেবা খাতের জন্য প্রযাজ্য ভোক্তাবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং রাজস্য বান্ধব সুনির্দিষ্ট স্তÍর ভি৩িক নিম্নোক্ত মূসক হারের
মৌলিক বিধান মূল মূসক আইনের মাধ্যমে বলবৎ করা জাতীয় স্বার্থে অপরিহার্য:
* শিল্প খাতের বার্ষিক টার্নওভারের ঊর্দ্ধসীমা বর্তমানে ৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ কোটি টাকায়
উন্নীত করে শিল্প খাতে টার্ন-ওভার কর ৪% থেকে ৩% নির্ধারণ করা;
* টার্নওভার করের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী অর্থবছরের আয়কর নির্ধারণকালে অনুমোদিত
টার্নওভারের ভিত্তিতে দাখিলপত্রে প্রদর্শিত টার্নওভারের পরিমাণ হিসাবে গন্য করা;
* উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ ব্যক্তির কর যোগ্য পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন ৩০%
হিসাবে গণনা করে তার উপর ১৫% অর্থ্যাৎ সরবরাহ মূল্যের উপর ৪.৫% হারে মূসক আরোপ করা;
* উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ ব্যক্তির কর যোগ্য সেবার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন ৪০% হিসাবে
গণনা করে তার উপর ১৫% অর্থ্যাৎ সরবরাহ মূল্যের উপর ৬% হারে মূসক আরোপ করা।
আয়কর
* আমরা করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তÍাব করছি (ভারতে ৫ লক্ষ রুপি)।
ব্যক্তিগত করমক্ত সীমা ও বিদ্যমান আয়করের হার পুণঃনির্ধারণ: মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাত্রার ব্যয়
বিবেচনায় আগামী ২০২১-২০২২ কর বৎসরের জন্য বর্তমান ব্যা৩িগত করমুক্ত সীমা ও বিদ্যমান
আয়করের হার পুনঃনির্ধারনের প্রস্তÍাব।
* শিল্প ক্ষেত্রে মূসক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশী। শিল্প খাত রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদধা আয় এবং আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদধা সাশ্রয় করে দেশের অর্থনীতিতে অধিক ভূমিকা রাখে বিধায় তাদের প্রণোদনা প্রদান এবং ট্রেডিং কোম্পানীর তুলনায় নিম্নহারে কর্পোরেট কর আরোপ করার প্রস্তÍব করছি।
* সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম
কেন্দধীক না করে দেশের উত্তরাঞ্চল সহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করে
কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য নিম্নলিখিত বিশেষ রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তÍব করছি :










