
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
দেশের সবচেয়ে বড় অপরাধগুলো ব্যাংক খাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এসব অপরাধ দেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ২৬/০৭/২০২২ মঙ্গলবার ঋণ জালিয়াতির মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ইসলামী ব্যাংকের চার কর্মকর্তার জামিন শুনানির সময় হাইকোর্ট এ মন্তব্য করেন । বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই মামলার শুনানি করেন।
শুনানিকালে একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘সবচেয়ে সাংঘাতিক অপরাধগুলো হচ্ছে ব্যাংকে। ব্যাংক খাতে বড় বড় অপরাধ হচ্ছে। এরা দেশটাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।’ এভাবে চললে দেশটা এগোবে কীভাবে? এমন প্রশ্নও তোলেন আদালত।
ঋণ জালিয়াতির মামলায় আসামিরা জামিন চাইলে আদালত তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
দেন। আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফৌজিয়া আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও দুদকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।
আইনজীবী ফৌজিয়া আক্তার বলেন, চারজন বিবাদী আগাম জামিনের জন্য এসেছিলেন। আদালত তাদের শুনানি আগে নিয়েছেন, পরে দুদকের কাছে শুনতে চেয়েছেন। তারপরে আদালত অপরাধটা দেখেছেন, যে ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেরা মিলে একজন গ্রাহকের নামে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন, পরে ঋণ অনুমোদন করেছেন। আবার নিজেরা চেক তুলে সেই চেক দিয়ে ঋণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে আদালত মন্তব্য করেছেন, ব্যাংকাররা যদি এমন করেন! ব্যাংক সেক্টরে এত ভয়ংকর সবকিছু হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ জানিয়ে আদালত তাদের আগাম জামিন দেননি। টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ইসলামী ব্যাংকের শিবগঞ্জ শাখা থেকে পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া ঋণ হিসাব খুলে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগে দুদকের রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গত ২০ মার্চ মামলা করেন কমিশনের উপসহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী। মামলার আসামিরা হলেন ব্যাংকটির শিবগঞ্জ শাখার বরখাস্ত এসবিআইএসও মো. ফয়েজুর রহমান, প্রাক্তন বিনিয়োগ ইনচার্জ মো. আবু বকর, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনিরুজ্জামান খান, ব্রাঞ্চের প্রধান মো. আফজাল হোসেন, ব্যাংকটির জুনিয়র অফিসার মনোয়ারা বেগম ও ব্যবসায়ী মো. নূর আলম।










