ভারতে দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে ৭০টির বেশি বৃহৎ কোম্পানি

মন্দঋণ পুনর্গঠন পদক্ষেপ
অর্থনীতির ৩০ দিন অনলাইন ডেস্ক :
ভারতের ব্যাংকিং খাতে মন্দঋণের লাগাম টেনে ধরতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। বিপুল অংকের মন্দঋণ পুনর্গঠনে আরবিআইয়ের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ। এ সময়ের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠনে ব্যর্থ অন্তত ৭০টি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
অনাদায়ী ঋণ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন বিধান চালু করে আরবিআই। একই সঙ্গে অনির্দিষ্ট সময়ের পূর্বতন পদ্ধতি বাতিল করে ১৮০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ বিধান বাস্তবায়নের সময় যেসব কোম্পানি খেলাপি ছিল, আজ তাদের ঋণ পরিশোধের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ঋণগ্রহীতাদের দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য ভারতের ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্টসি কোডের আওতায় আদালতে নেয়া হবে।
ইতালির পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মন্দঋণ রয়েছে ভারতের ব্যাংকিং খাতে। ২১ হাজার কোটি ডলারের বেশি মন্দঋণ রয়েছে ভারতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর। দেশের ব্যাংকিং খাতকে মন্দঋণমুক্ত করতে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আরবিআই। মন্দঋণ নতুন বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করায় এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৪০টি বৃহৎ খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া আদালতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই।
ভারতের নতুন দেউলিয়া আইন প্রথম বড় সাফল্যের মুখ দেখে চলতি বছরের মে মাসে। দেশটির বৃহত্তম কনগ্লোমারেট টাটা স্টিল লিমিটেড দেউলিয়া ভূষণ স্টিল লিমিটেড কেনার পর প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আদায় করতে সমর্থ্য হয় ঋণদাতারা।
আরবিআইয়ের নতুন বিধান প্রসঙ্গে কনগ্লোমারেট বাজাজ গ্রুপের অর্থ-বিষয়ক পরিচালক প্রবাল ব্যানার্জি বলেন, আরবিআইয়ের নতুন পদক্ষেপ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ভারমুক্ত করবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দে নেই। তবে দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় ক্রেতা পেতে ব্যর্থ হলে অর্থনীতিতে এর গুরুতর পরিণাম দেখা দিতে পারে। এতে অনেক কোম্পানি অবসায়নে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যানার্জি আরো বলেন, সংকটগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর জন্য সঠিক ক্রেতা সন্ধান কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকারে থাকা জরুরি।
বিশ্বের ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে ভারতের মন্দঋণের অনুপাত যথেষ্ট বেশি। আগামী বছরের মার্চ নাগাদ দেশটির এ মন্দঋণের পরিমাণ আগের বছরের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছে আরবিআই। মন্দঋণের অনুপাতের দিক থেকে শুধু ইতালির পেছনে রয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরিসংখ্যান অনুসারে, ইতালির গড় ঋণের ১৪ দশমিক ৪ শতাংশই মন্দঋণ।
জুনের এক প্রতিবেদনে ক্রেডিট সুইস গ্রুপের বিশ্লেষক আশীষ গুপ্তা ও কুশ শাহ জানান, ফেব্রুয়ারিতে আরবিআইয়ের নতুন নির্দেশ জারির পর প্রাক্কলিত ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার (৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপি) মন্দঋণগ্রস্ত প্রায় ৭০টি বৃহৎ কোম্পানি দেউলিয়া আদালতে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
এদিকে নির্ধারিত সময়সীমা সামনে রেখে খেলাপি কোম্পানিগুলো ঋণ পুনর্গঠনে ঋণদাতাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিষয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, দেশের ৩৫টির বেশি বিদ্যুৎ সংস্থা এবং বিদ্যুৎ-বহির্ভূত আরো ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠান আরবিআইয়ের পদক্ষেপের কারণে দেউলিয়া আদালতে যাওয়ার মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রায় ২৪২ কোটি ডলার (১৭ হাজার কোটি রুপি) ঋণ দ্রুত পুনর্গঠিত হবে বলে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরিজিৎ বসুর বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে।