খোন্দকার জিল্লুর রহমান

অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি বিচার দিনের স্বামী। যত গুণগান হে চির মহান তোমারি অন্তর্যামি। দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া রেতামারি চরনে পড়ি লুটাইয়া, তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি তোমারি করুনা কামী। সরল সঠিক পুণ্য পন্থা মোদের দাও গো বলি, চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি…।
মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য সঠিক এবং সর্বময় জীবন বিধানের জন্য নাজিল করেছেন মহাগ্রন্থ সর্ব শেষ কিতাব পবিত্র আল কোরান। যাতে উল্যেখ আছে, এই পবিত্র কিতাব আল কোরানের পর আর কোন কিতাব নাজিল হইবেনা। এতে আরো উল্যেখ আছে যে আল্লাহর সৃষ্ট ১৮,০০০(আঠার হাজার) মাখলুকাতের ভিতর মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে ১৭,৯৯৯ টি মাখলুকাত তৈরি করেছেন একমাত্র মানুষের কল্যানে। এগুলির প্রত্যেকটাই প্রত্যখ্য এবং পরখ্যসহ কোননা কোন ভাবে মানুষের কল্যানে আসবে।
পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্ট সেরাজীব মানুষের বসবাসের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন সকল রকম সুযোগ সুবিদা। বেঁচেথাকা ও প্রার্থিব জীবনের জন্য দিয়েছেন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও জীবনকে আরো মধুময় করে তোলার জন্য এবং পরবর্তিতে একের পর এক মানব অস্তিত্ত টিকিয়ে রেখে যাওয়ার জন্য জীবনানুভুতি ও জীবন সঙ্গিসহ সকল কিছু। একটা ধারাবাহিক সৃষ্টির মাঝে তৈরি করে দিয়েছেন সভ্যতা, জ্ঞান, বুদ্ধি ও মনুষ্য বিবেক। আল্লাহর সৃষ্ট মানুষকে দিয়েছে উন্নয়ন, সভ্যতা, জ্ঞান, বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে কোরান হাদিছের আলোকে ইসলামিক বিধি বিধান মেনে চলার অধীকার। কিন্তুু মানুষ আজ সব ভুলে গিয়ে নিজস্ব বিধী বিধান নিজস্ব অহমিকা এবং নিজস্ব ইচ্ছায় চলার পথকেই বেছে নিয়েছেন। সভ্যতার ক্রমবিকাশের পুর্বে মানুষ যখন পশুর মত ছিল, যানতনা রান্না বান্না, যানতনা আগুন জ্বালানো, খেত কাঁচা মাংশ, কাঁচা খাওয়া দাওয়া, সভ্যতার বিকাশে মানুষ পাথরে পাথরে ঘষে আগুন জ্বালানো থেকে শুরুকরে রান্নাবান্না ও মুখরোচক খাওয়া থেকে সকল কিছুই নিজের মনমত ও রুচিমাফিক করে নিতে শিখেছে। আরো শিখেছে জ্ঞান বুদ্ধি খাটিয়ে দেশ হতে দেশান্তরে পাড়ি ও আকাশে বিচরন করার সকল যাতায়াত এবং মহাশুন্যে উড়ার বিমান ব্যাবস্থা। আর এসকল বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাসহ সকল কিছুর মহিমা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার। এতকিছুর পরও যাতে মানুষ জীবন সুখের মাঝে সৃষ্টি কর্তাকে ভুলে না যায় তার জন্য কোরান ও সুন্নাহর আলোকে পথচলার নীতি ও আদর্শ অনুকরন, অনুষরন করার পথও দেখিয়ে দিয়েছেন, যাতেকরে মানুষ অন্যায় অবিচার পাপাচার, লোভ-লালসা, অপরের অধীকার হরন, খুন, ধর্ষন, চুরি-ডাকাতি, ভ্যাবিচারসহ সকল অনৈতিক কাজ থেকে নিজেদের পরিহার করে নিজেদের রক্ষার সঠিক পথ বের করে নিতে পারেন। এর থেকে ব্যাতিক্রম হলে আল্লাহতালা বিভিন্ন শাস্তির বিধিবিধান তৈরি করে রেখে দিয়েছেন সেই কোরানেই।
চলমান সময়ে আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্বের মানুষ আজ কোরানের এসব বিধি বিধান ভুলেগিয়ে নিজেদেরকে খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি ও ব্যাবিচারের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব মানবতাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে, যার কারনে বর্তমানে সারাবিশ্বকে স্তব্ধকরে দেওয়া অদৃশ্য অনুজীব প্রাণঘাতি সংক্রমক ব্যাধি করোনা ভাইরাস এরই একটি অলৌকিক ঘটানা কিনা তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন। পবিত্র কোরানে সুরা আরাফের ৯১ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা আছে, ‘তারপর আমার ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে ফেলল, ফলে তারা তাদের ঘরেই মৃত অবস্থায় বেহাল পড়ে রইল’। সুরা ইউনুসের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা আছে, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংশ করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা
অতিক্রম করে ছিল’। সুরা আরাফের ১৩৩ নম্বর আয়াতে উল্যেখ আছে, ‘ শেষ পর্যন্ত আমি এই জাতিকে তুফান, পোকা-মাকড়, বা পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত, প্লাবন ইত্যাদি দ্বারা শাস্তি দিয়ে নিস্পিষ্ট করি’। সুরা ইব্রাহিমের ৪২ নং আয়াতে খুব সুন্দর করেই বলা আছে, ‘জালেম, জুলুমকারী বা ক্ষমতার অপব্যাবহারকারীদের সম্পর্কে তুমি কখনো আল্লাহকে উদাসিন মনে করনা’। হাদিছে আছে, ‘তোমরা কোন কিছুতেই সীমা ছাড়িয়ে যেওনা, সীমা লঙ্গনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না, এরূপ সীমা লঙ্গনকারীকে আল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গজব ও আজাব দিয়ে নিস্পিষ্ট করে দিয়েছেন। সাহাবি ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেন, ‘যখন কোন জাতির মধ্যে অশ্লিলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারি, দুর্ভিক্ষসহ এমনসব রোগের উদ্ভব হয়, যাহা পুর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নাই’ (ইবনে মাজাহ শরিফ ৪০১৯)।
পৃথীবিটা আজ এমন একটা অবস্থানে চলে এসেছে যে, যেখানে মানুষ মানুষকে ধ্বংষের জন্য তৈরি করেছে পরমানুবিক অস্ত্র, বোমা, ক্ষেপনাস্ত্র, বন্দুক পিস্তলসহ বহুবিদ মানব বিধংসি অস্ত্র। ক্ষমতার ধাপটে এক দেশ অন্য দেশকে নিচ্ছিন্ন করছে। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষকে হত্যা করছে, ক্ষমতায় থাকার জন্য বিরোধিদের কে হত্যা নির্যাতনসহ নিস্পেসিত করছে, এক দেশ অন্য দেশ হতে অস্ত্র, বোমা, গুলি, ক্ষেপনাস্ত্র, বন্দুক পিস্তলসহ বহুবিদ মানব বিধ্বংসি অস্ত্র কিনছে প্রতিযোগিতা করে, আর এসবের উৎপাদন কেনা বেচা আদান প্রদান শুধু আল্লার সৃষ্ট শেরা জীব মানুষকে হত্যা করার জন্য। এছাড়াও মানুষ আজ সৃষ্টিকর্তার বিধি বিধান না মেনে চুরি, ডাকাতি, অন্যের সম্পদ লুট, খুন, ধর্ষণ ব্যাবিচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। দেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছে, আরেক শ্রেণীর ক্ষমতালোভি মুনাফাখোর ব্যাক্তিরা অমানবিক ভাবে সাধারন মানুকে ঠকিয়ে নিরাপদে ও আয়েসে বাঁচার জন্য সে অর্থ বিদেশে পাচার করে ব্যাবসা করছে ও বাড়ি বানাচ্ছে, মৃত্যুভয় যেন কারো ভিতরে কাজ করতেছিল না, এ কি আজব খেলা বুঝা মুষকিল।
মানুষকি একটু চিন্তা করেছে যে আল্লাহর ভয়ে নয় একটা ক্ষুদ্র প্রানীর ভয়ে মানুষ খাঁচার ভিতর ডুকে পড়ে, নিজেকে বাঁচানোর জন্য। সেই ক্ষুদ্র প্রাণীটা হল মশক, যার ভয়ে মানুষ মোসারির ভিতরে নিজেকে অটকিয়ে নিরাপদ রাখে। বর্তমানে মশকের চেয়েও লক্ষ কোটিগুন ক্ষুদ্র এক অনুজীব করোনা ভাইরাস, যার কারনে, যার ভয়ে পুরো প্রথিবীর মানুষ আজ স্তব্ধ, মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত এবং সোয়া লক্ষাধিক লোকের মৃত্যুও হয়েছে এবং হইতেছে। এত মানব বিধ্বংষি অস্ত্র সস্ত্র ও ক্ষমতার শক্তি আজ করোনা ভাইরাসের নিকট পরাজিত। বৃটিষ প্রধানমন্ত্রী করনা থেকে সুস্থহয়ে বলেছেন, ‘করনা খুব শক্তিশালি, এটা কোন সীমা মানেনা, এটা সকলকে আক্রান্তে চিহ্নিত করতেচায়’। যুক্ত রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘করনা খুব শক্তিশালি এবং ব্রিলিয়ান্ট’। কেন মানুষ আজ এত অসহায়।
চারিদিকে খুবই একটা খারাপ অবস্থা,বহু চেষ্টা করেও মনে হয় যেন দমবদ্ধ অবস্থা থেকে নিজের মনটাকে স¤পূর্ণ বের করে আনতে পারিনা। এত দুর্যোগ অবস্থাতেও কিছু কিছু মানুষের কীর্তি-কান্ড দেখলে মনটা আরো খারাপ হয়ে যায়, আমরা কেন এত নিষ্ঠুর মনমানষিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা। সামনের দিনগুািলতে যে আরো কি হয়, সকলেই একটা সংকটের সময় অতিক্রম করছি। মহামারি দেখেছি, যুদ্ধ দেখেছি, এত খারাপ সময় কখনো পার করিনি, কিন্তুু মানুষের ভিতর এত উৎকণ্ঠা, এত ভয়, এত আতঙ্ক পুর্বে কখনো দেখিনাই। এত কিছুর পরও আমরা সব সঙ্কির্ণতার উর্ধ্যে উঠে মানুষের জন্য কাজ করতে কেন পারিনা। স্বামীর করনা অসুস্থতার কথা শুনে প্রিয় স্বামীর বাড়ীছেড়ে স্ত্রীর পলায়ন, স্বামী বিদেশ থেকে আসার খবরে স্ত্রীর স্বামীর বাড়ী থেকে বাবার বাড়ী চলে যাওয়া, নারায়নগঞ্জে করনায় মৃত্যুতে স্ত্রীসহ ছেলে মেয়েদের বাবার লাশ ফেলেরেখে সকলের পলায়ন। অন্যদিকে সারাদেশে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের চাল চুরির ঘটনা সাধারন মানুষের বিবিককে কঠিনভাবে নাড়া দিলেও মাদকের রমরমা ব্যাবসা, গরিবের জন্য বরাদ্ধ সবকিছু সঙ্কটমুহুর্তেও গরিবকে না দিয়ে নিজেরা হাতিয়ে নেয়া, লোক দেখানোর জন্য দান করে ফটোছেসনের পর কেড়েনেয়া , প্রতিক্রিয়ায় তাদের লাঠিপেটা করা, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের খবর প্রচারের কারনে সাংবাদিক নির্যাতন, পুলিশ ও আইন সৃঙ্খলারক্ষকারি বাহিনীর কিছ ুদুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি কর্মকান্ড এসবের কোনটাই থেমে নেই, যেন এসবের একটা মহাউৎসব চলছে। তারা মৃত্যু, পরকাল বা আল্লাহকে ভয় না করে সুযোগ কাজে লাগাতে পছন্দ করে বেশি। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ নামের অর্থটা এখন আর মানুষের মুল্যায়নে নেই। কেন মানুষ আল্লাহর কোরান হাদিছ না মেনে সৃষ্টিকর্তার বিধি বিধান না মেনে চুরি-ডাকাতি, অন্যের সম্পদ লুট, খুন, ধর্ষণ ব্যাবিচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়েছে?
যখন দেখি বাজারের কোন জিনিসের চাহিদার সময় ঐ জিনিসের মুল্য ৩/৪ গুন বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, রমজান ও ঈদসহ কোন ধর্মীয় উৎসবে নিত্য পন্যের মুল্য বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করা, ঈদের বাজারে কাপড় চোপড়ের মুল্য ১০/১২ গুন বাড়িয়ে বিক্রয় করাসহ শপিং মলের অনেক ব্যাবসায়িকে বলতে শুনেছি, ১১ মাস কষ্ট করে তো বসে থাকি রমজানের এক মাস ব্যাবসা করার জন্যইতো এবং কোন দুর্যোগ বা মহামারিতে এর প্রতিষেধক ঔষধের দাম বাড়িয়ে আকাশচুম্বি করা এবং ঔষধ কোম্পানি গুলির সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানো সহ সকল পায়তারা আমাদের মধ্যে দেখা যায়, এমনকি মৃত মানুষের দেহ নিয়েও আমরা ব্যাবসা করতে সঙ্কাবোধ করিনা।
সৌদি আরব সহ আরব আমিরাতের দেশগুলিতে রোজা আসলে জিনিস পত্রের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়, কারণ মানুষ যাতে খাওয়া দাওয়া করে আল্লাহর তৃপ্তি অর্জন করতে পারে। যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ খৃষ্টধর্মীয় লোকেরা ২৫শে ডিসেম্বর খৃষ্টমাস-ডেতে একই কাজ করেন। চীনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এত বড় একটা বিপর্যয়েও তারা মাস্কের দাম না বাড়িয়ে বরং কমিয়ে দিল, কারণ তারা মানুষকে বাঁচানোর জন্য মানবতার চিন্তায় ছিল। আর বাংলাদেশে ১০ টাকার মাস্ক ৩০ টাকা, ৪০ টাকার মাস্ক ৮০ টাকা, ১০০ টাকার মাস্ক ২৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তিতে মাননিয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশে তা স্বাবাভিক অবস্থায় ফিরে আসে।
আমরাকি পারিনা সব কিছু ভুলে গিয়ে সকল কিছুর উর্ধে উঠে মানুষের জন্য কিছু করতে, পারিনা সকল লোভ হিংসা বিদ্ধেশ, চুরি, অন্যের সম্পদ আত্মস্বাদ করার মনমানষিকতা পরিহার করে মানুষের আনন্দের জন্য, মানুষের তৃপ্ততার জন্য কিছু করতে। দুর্যোগ ও মহামারির সময় এর কার্যকরি ঔষধের উৎপাদন বাড়িয়ে বিক্রয়মুল্য অর্ধেক করে মানুষের জীবন বাঁচানোর সহায়তা করতে। আমরাওতো পারি কোন ইসলামিক বা ধর্মীয় দ্বিন উপলক্ষে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মুল্য অর্ধেক করে মানুষের উদর পুর্তির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে। ঈদ ও রমজানের সময় কাপড় চোপড়ের মুল্য অর্ধেকে নামিয়ে বিক্রির মাধ্যমে মানুষদেরকে খুশি রাখতে। রাসুল(সঃ) একটি উক্তিতে আছে, একটি মানুষকে খুশি করা আর হজ্ব করে আসা হাজার বার। পারিনা এভাবে মানুষদেরকে খুশি করে লক্ষ কোটি হজ্বের সওয়াব অর্জন করতে…!
আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করি, “হে আল্লাহ্… তুমি আমাদের দেশের প্রত্যেকটা অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমকারিকে করোন ভাইরাস আক্রমনের শাস্তিটা যদি নাও দিতে পার তবুও এদেশের একজন ভাল কোন মানুষকেও আল্লা তুমি এ শাস্তিটা দিওনা… কারণ এ ভাইরাস আক্রান্তে মৃত কোন মুসলমানকেও কেউ কোন গোসল বা জানাজা দেয়না বা দিতে চায় না এমনকি হাসপাতালে ডাক্তার কিংবা নার্সরাও কাছে এসে চিকিৎসা সেবা দিতে চায় না। বিভিন্ন পোষ্টে দেখা যায়, বন্য ও হিংশ্র প্রানির মত মানুষের মরদেহ কাপড়ে পেচিয়ে দড়ি বা অন্যকোন উপায়ে টেনে এনে গভীর গর্তে ফেলে মাটিচাপা দিয়ে দেয়, যা খুবই মর্মান্তিক। তুমি তাদেরকে নিজের বিবিকের নিকট নিজেকে এমনভাবে আনুতপ্ত করে দাও যে, তারা আর কেন দিন কোন অন্যায়, জুলুম, হানাহানি, অন্যের সম্পদ লুট, খুন, ধর্ষণ ব্যাবিচার অথবা কোন ব্যাতিক্রমিক কাজ না করেন। আমাদের নিজেদেরও যদি ভুলক্রমে কোন অন্যায় হয়ে থাকে, হে আল্লাহ্ তুমি আমাদেরকে ক্ষমাকর। হে আল্লাহ্ তুমি আমাদের সবাইকে ভাল রাখ…।
সর্বশেষে ‘করনার এই দিনে সৃষ্টিকর্তার নিকট চাহিনাকো শুধু ধন ও মান, সবার ভাগ্যে দিও যাহ খুষি, জাতিরে দিয়গো করনা থেকে মুক্তি দান, আমিন…”।
লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, মাসিক অর্থনীতির ৩০ দিন।











