শিকদার পরিবারের বিভিন্ন সন্ত্রাসি কর্মকান্ডের কারনে গত ছয় বছরে চারজন এমডিকে মেয়াদ শেষের আগেই ব্যাংক থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
মেহমুদ হোসেন ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)হতে পদত্যাগ করেছেন।১৮ জানুয়ারি বুধবার ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি ব্যাংক থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে আর ব্যাংকে যাননি। এমডি পদে তাঁর মেয়াদ আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল।
ব্যাংক খাতের কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে যদিও তিনি পদত্যাগপত্রে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের সিকদার হাউসে ডেকে নেওয়া হয়। এরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মেহমুদ হোসেন পদত্যাগের পরথেকে ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সৈয়দ রইস উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আগে মেহমুদ হোসেন এনআরবি ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার এমডি ছিলেন। এর আগে ছয় বছরে চারজন এমডিকে মেয়াদ শেষের আগেই ব্যাংকটি থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।মেহমুদ হোসেনের ভাগ্যেও একই পরিনতি বরন করতে হলো।
২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক শিকদারের মৃত্যুর পর ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়ীত্তে আসেন তার স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। মেহমুদ হোসেন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মনোয়ারা সিকদারের নিকট। মনোয়ারা সিকদার বর্তমানে অসুস্থ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি
হাসপাতালে দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে নানা মাধ্যমে যোগাযোগ করেও মেহমুদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ রইস উদ্দিনও ফোন রিসিব করেন নি।
গত ২৩ জুলাই “ন্যাশনাল ব্যাংকের দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কাহারো অজানা নয়” শিরোনামে ব্যাংকের দুর্নীতি, অর্থ আত্মস্বাৎ, তহবলি তসরুপ এবং নানা অনিয়ম নিয়ে www.arthoniter30dinbd.com এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ন্যাশনাল ব্যাংকে নানা অনিয়ম ও এমডির পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। গত দেড় দশকে ব্যাংকটির বেশির ভাগ এমডিই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। যার কারণে ২০১৪ সালে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যাংকটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সমন্বয়ক দায়িত্ব পালন করলেও ব্যাংকটির অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ব্যাংকটির মালিকানা শিকদার পরিবিবারের নিকট তথা সিকদার গ্রুপের নিকট সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং ব্যাংকটির তাদেরই নানা সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, ব্যাংকটিতে কোনরকম সুশাসন ও জবাবদিহি নেই, যার কারনে একের পর এক এমডি বিদায় নেওয়ার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হচ্ছে। আমানতকারীদের স্বার্থে ব্যাংকটিতে এখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করা দরকার। প্রয়োজনে পর্ষদ ভেঙে দিতে হবে। এমনিতেই কয়েকটি ব্যাংকে বড় অনিয়ম হচ্ছে, এই সময়ে কোনো এমডির এভাবে বিদায় কাম্য হতে পারে না। এর প্রভাব পুরো খাতের ওপর পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।












