অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
১৮ ই অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নলিনী-র সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। নলিনী, রাজীব গান্ধী হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে একমাত্র ধৃত এবং জীবিত আসামী। নলিনী তখন গর্ভবতী ছিলেন। সোনিয়া গান্ধী লিখিত আকারে নলিনীর ফাঁসির বদলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আবেদন জানান। যাতে নলিনীর সন্তান মায়ের স্নেহ মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে না পড়ে। নলিনী স্বপ্নেও ভাবেননি ১৭ বছর পর তার সঙ্গে রাজীব গান্ধীর পরিবারের কেউ সাক্ষাত করতে পারেন। তার খোঁজ-খবর নিতে পারেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখে নলিনী অবাক; ভীষণ লজ্বিত বোধ করলেন। প্রিয়াঙ্কা নলিনীকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আমার পিতা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। ভীষণ শান্ত প্রকৃতির মানুষ। আমার পিতা তোমারতো কোনো রকম ক্ষতি করেননি। তাহলে তাঁকে কেন হত্যা করতে গিয়েছিলে? তোমাদের কি এমন সমস্যা ছিলো, যেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত না?”
প্রিয়াঙ্কার চোখে অশ্রুধারা; নলিনীও অঝোর নয়নে কেঁদে চলেছেন। এই কান্নার দ্বারা বহু ক্ষোভ, বহু হিংসা স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে চলে গেলো। দুজনের মনটা হালকা এবং কোমল হয়ে উঠলো। গান্ধী পরিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নলিনীকে মুক্ত করে দিলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। বিষয়টা তখন আদালতে বিচারাধীন। আদালত এবং রাজ্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই কার্যকর হবে।
হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা এগুলোর স্থায়িত্ব ক্ষনিকের। কিন্তু প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আদি থেকে অনন্তকাল পর্যন্ত মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে। ক্ষমা হলো পৃথিবীর সর্বোত্তম উপহার। কেবলমাত্র মহান মানুষরাই পারেন শক্রুকে ক্ষমা করে দিতে। এমন বহু ঘটনা ঘটে গেছে পৃথিবীতে, যে ঘটনা ইতিহাসের পাতায় সোনর অক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা সকলেই চলে যাবো, ক্ষণজন্মা সেইসব মহান মানুষরা ইতিহাসে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের হৃদয়ে অমর হয়ে থেকে যাবেন যুগ যুগ ধরে।
সুত্র : সাদাফ হোসেন সাদু টাইম লাইন।












