শীর্ষ ২৫ ঋণ খেলাপি, রাঘববোয়ালরা নেই

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদন

‘রাঘববোয়ালরা অনেক শক্তিশালী। তারা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে ঋণ নেয়। তার পর খেলাপি হলে রিসিডিউল করে, রিস্ট্রাকচার করে। এমনকি আদালত থেকে স্টে অর্ডার নেয়। যার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া খেলাপিদেও তালিকায় থাকে না।’ এমনটাই বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
এসব কথা বলার কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সদ্য প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ জনের তালিকায় দেশের অন্যতম বড় বড় ঋণ গ্রহীতাদের নাম না থাক। বিশেষ করে সর্বজনগ্রাহ্য এমন ব্যবসায়ী যারা শেয়ারবাজারেও কারসাজির সঙ্গে যুক্ত অথবা অনেকগুলো ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গে সরসরি যুক্ত এমন ব্যবসায়ীদের নাম আসেনি।
আর তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, ঋণদাতা ও গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অবসরে যাওয়া এমডিদের কার আমলে কত ঋণ, কীভাবে গেছে, কার কাছে গেছে- তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ওইসব এমডিও ঋণের নামে অর্থ লুণ্ঠন করেছেন। তার মতে, এজন্য বর্তমান এমডিরা দায়ী নন। তবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। আর খেলাপি ঋণের জন্যই শিল্পঋণের সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। কারণ এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) করতে হয়। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মীর্জ্জা আজিজ বলেন, জামানত ছাড়া যে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তার মতে, কোন বিবেচনায় এত বড় ঋণ দেয়া হল, তা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারলে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, প্রায় সব শীর্ষ খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা বারবার রিট করে অর্থ আদায় প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছেন। তার মতে, গরিব কখনও রিট করে না। যত রিট সব ধনীদের। তিনি বলেন, প্রতি জেলায় একটা করে অর্থঋণ আদালত আছে। আদালতের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বছরের কারণে শীর্ষ ঋণখেলাপিরা কিছুটা দুর্বল থাকবে। এদের অনেকেই কোথাও না কোথাও নির্বাচন করবে। এখনই তাদের ধরার সময়। সব খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। এককভাবে এটি করা সম্ভব নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শীর্ষ খেলাপিদের নতুন ঋণ দেয়া বন্ধ করতে হবে। তারা যেন এক টাকাও ঋণ না পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তার আগে তাদের তালিকা তৈরি করে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। যদিও ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের চেনে ও জানে। তবুও তাদের নাম-ঠিকানা দিয়ে আর কোনো নতুন ঋণ না দেয়ার নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। এরপরও কোনো ব্যাংক ঋণ দিলে ব্যাখ্যা তলব করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির (ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সদ্য প্রকাশিত শীর্ষ একশ’ ঋণখেলাপির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের ২৭ শতাংশ। এরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নগদ টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন। এই পরিমাণ টাকা পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় সমান। এর মধ্যে আবার সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকাই সরকারি ৬ ব্যাংকের। এ ঋণের পুরোটাই আদায় অযোগ্য (কুঋণ)।
তবে এ তালিকা শুধু একক প্রতিষ্ঠানের ফান্ডেড (নগদ টাকা) খেলাপি ঋণ। এর বাইরে একই গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিতে আরও খেলাপি ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া নন-ফান্ডেড (এলসি খোলা ও ব্যাংক গ্যারান্টি) মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে এসব গ্রুপের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। কিন্তু একক প্রতিষ্ঠানে ঋণ কম হওয়ায়,ওইসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম শীর্ষ একশ’ ঋণখেলাপির তালিকায় আসেনি। এই ১০০ শীর্ষ খেলাপির মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে রাঘববোয়াল হিসেবে পরিচিত বড় কয়েকটি গ্রুপের কাছে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে। কিন্তু তাদের কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। ফলে তাদের নাম এ তালিকায় নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক দলের নেতা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে এ ঋণ দেয়া হয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে এ ঋণ আদায়ের পরামর্শ তাদের। ব্যাংকাররা বলছেন,শক্তিশালী মহলের কাছে তারা অসহায়। ফলে বাধ্য হয়ে ঋণ দিতে হচ্ছে।
একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানি ইলিয়াস ব্রাদার্সের। ১৩টি ব্যাংকে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ এ প্রতিষ্ঠানের। যা অন্তত দুটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান। ৫৫৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কোয়ান্টাম পাওয়ার। এসব ঋণের বিপরীতে কোনো ধরনের জামানতও রাখা হয়নি। আর জামানত না থাকায় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব নয়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমেই এ ধরনের ঋণ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০০ খেলাপির কাছে ঋণের পরিমাণ ২০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের প্রায় ২৭ শতাংশ। এর পুরোটাই কুঋণ। অর্থাৎ এ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) রাখতে হয়। যেমন একটি ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করল। ওই ব্যাংকের ৭৫ কোটি টাকা কুঋণ আছে।
এ অবস্থায় মুনাফা থেকে ৭৫ কোটি টাকা প্রভিশন রাখতে হবে। এরপর বাকি ২৫ কোটি টাকা থেকে কর পরিশোধের পর যে টাকা থাকবে, তা হবে ওই ব্যাংকের নিট মুনাফা। প্রভিশনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত গ্রাহকের কাছ থেকে বেশি সুদ নিতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংকের নিট মুনাফা কমলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ কমে যায়। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের কারণে মুদ্রা এবং পুঁজি উভয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামগ্রিকভাবে দেশের পুরো অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জানা জায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকত ঘেঁষে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংক কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে ২৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ দেয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা এবং শর্তও মানা হয়নি। পরবর্তী ২ বছরে মাত্র ৩৩ কোটি টাকা পরিশোধ করে ইলিয়াস ব্রাদার্স। বাকি ২০৫ কোটি টাকা পরিশোধ না করে লোকসানি দেখানো হয় প্রতিষ্ঠানকে।
বর্তমানে সুদ-আসল মিলিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই ব্যাংকের পাওনা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা। একই প্রতিষ্ঠান আরও ১২টি ব্যাংকে ঋণখেলাপি।
এর মধ্যে এবি ব্যাংকে ৬১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৪১ কোটি ১৪ লাখ টাকা খেলাপি।
সিটি ব্যাংকে ৫৬ কোটি ১৪ লাখ,পূবালী ব্যাংকে ৬ কোটি ১৯ লাখ,উত্তরা ব্যাংকে ৪১ কোটি ৮ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংকে ৭১ কোটি ৭৯ লাখ, এনসিসি ব্যাংকে ৫৪ কোটি ৬ লাখ টাকা খেলাপি।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ, ওয়ান ব্যাংকে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ, ব্যাংক এশিয়ায় ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ এবং শাহ জালাল ইসলামী ব্যাংকে ইলিয়াস ব্রাদার্সের ১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
নিয়ম অনুসারে এক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ থাকলে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু এসব নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করেনি ব্যাংকগুলো।
খেলাপি ঋণে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জেসমির ভেজিটেবল অয়েল। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপির পরিমাণ ৫৪৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ম্যাক্স স্পিনিং মিলের ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ, বেনেটেক্সের ৫১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
ঢাকা ট্রেডিং হাউসের খেলাপির পরিমাণ ৪৮৫ কোটি ২৯ লাখ, আনোয়ার স্পিনিং মিলসের ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ, সিদ্দিক ট্রেডার্সের ৪২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ইয়াসির এন্টারপ্রাইজের ৪১৪ কোটি ৮০ লাখ এবং আলফা কম্পোজিট টাওয়েলের ৪০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।
খেলাপি ঋণে ১১তম অবস্থানে লিজেন্ট হোলিংস। ৬ ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৩৪৮ কোটি টাকা।
এরপর হলমার্ক ফ্যাশন ৩৪০ কোটি, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৩৯ কোটি টাকা। মন্নো ফেব্রিক্সের খেলাপি ঋণ ৩৩৮ কোটি ৩৭ লাখ, ফেয়ার ট্রেডার্স ৩২২ কোটি,সাহারিশ কম্পোজিট ৩১৩ কোটি, নুরজাহান সুপার অয়েল ৩০৫ কোটি টাকা।
কেয়া ইয়ার্ন মিলস ২৯৩ কোটি, সালেহ কার্পেট ২৮৭ কোটি এবং ফায়ার ইয়ার্ন প্রসেসিংয়ের ২৭৩ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। খেলাপি ঋণের বিবেচনায় ২১ নম্বর অবস্থানে রয়েছে এস কে স্টিল। চার ইসলামী ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ২৭২ কোটি টাকা।
এ ছাড়া চৌধুরী নিটওয়্যারের খেলাপি ঋণ ২৭০ কোটি টাকা। হেল্পলাইন রিসোর্স ২৫৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ।
সিক্সসিজন অ্যাপারেলস ২৫৫ কোটি, বিসমিল্লাহ টাওয়েল ২৪৪ কোটি, টি অ্যান্ড ব্রাদার্স নিট কম্পোজিট ২২৬ কোটি টাকা খেলাপি।
তানিয়া এন্টারপ্রাইজ ইউনিট (২)-এর খেলাপি ঋণ ২১২ কোটি, আশিক কম্পোজিট টেক্সটাইল ২০৪ কোটি, অটোবি ১৯৩ কোটি, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম ১৯১ কোটি টাকা।
মিজান ট্রেডার্স ১৮৮ কোটি, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড ১৮৭ কোটি, টেলিবার্তা ১৮৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা খেলাপি।
সেমাত সিটি জেনারেল ট্রেডিং ১৮৫ কোটি, এমকে শিপ বিল্ডার্স ১৮৪ কোটি ৬৫ লাখ, কটন কর্পোরেশন ১৮৪ কোটি ১৬ লাখ, এমবিএ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল ১৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খেলাপি।
সোনালী জুট মিলস ১৮১ কোটি, এক্সপার টেক ১৭৭ কোটি ৬৬ লাখ, কেয়া নিট কম্পোজিট ১৭৪ কোটি ৩৫ লাখ, ওয়ালমার্ট ফ্যাশন ১৭০ কোটি, হিমালয় পেপার্স অ্যান্ড বোর্ড মিলস ১৬৬ কোটি টাকা খেলাপি।
ওয়ান ডেনিম মিলসের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ, এমদাদুল হক ভূঁইয়া ১৬৩ কোটি ৪০ লাখ, চৌধুরী লেদার ১৬২ কোটি, ম্যাক শিপ বিল্ডার্স ১৬০ কোটি, সাফারি ট্রেডার্স ১৫৭ কোটি টাকা।
লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যার ১৫৫ কোটি, অ্যাডভান্স কম্পোজিট ১৫৩ কোটি, বিশ্বাস গার্মেন্টস ১৪১ কোটি, মাস্টার্ড ট্রেডিং ১৫২ কোটি ৩০ লাখ, হিন্দু ওয়ালি ট্রেডিং ১৫২ কোটি, পদ্মা বেলিং অ্যান্ড ডাইং ১৪৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা খেলাপি।
সগির অ্যান্ড ব্রাদার্স ১৪৮ কোটি ১০ লাখ, ইপশু ট্রেডিং ১৪৬ কোটি, মেরিন ভেজিটেবল ১৪৪ কোটি, আরজান কার্টেপ অ্যান্ড জুট ওয়েভিং মিলস ১৪৩ কোটি, ড্রেজ বাংলা প্রা. লিমিটেড ১৪২ কোটি, এ জামান ব্রাদার্স ১৪১ কোটি টাকা খেলাপি। অরনেট সার্ভিসের খেলাপি ঋণ ১৪১ কোটি, জমজম শিপিং মিল ১৪০ কোটি, দোয়েল অ্যাপারেলস ১৩৯ কোটি, ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক ১৩৮ কোটি, ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল ১৩৬ কোটি, কেয়া স্পিনিং মিলস ১৩৬ কোটি, জাহিদ এন্টারপ্রাইজ ১৩৫ কোটি টাকা।
তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ ১৩২ কোটি, মজিবর রহমান খান ১৩২ কোটি, অ্যাপেক্স ওয়েভিং ১৩০ কোটি, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ১৩০ কোটি, ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফেকচারিং ১২৯ কোটি, ওয়েল টেক্স লিমিটেড ১২৯ কোটি টাকা খেলাপি।
ডেল্টা সিস্টেম ১২৮ কোটি, কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ১২৭ কোটি, নদার্ন ডিস্টিলারিজ ১২৩ কোটি, নিউ রাখি টেক্সটাইল ১২৩ কোটি, আলী পেপার মিলস ১২২ কোটি ৬৫ লাখ, হিলফুল ফুজুল সমাজ কল্যাণ সংস্থা ১২২ কোটি টাকা খেলাপি।
লাকী শিপ বিল্ডার্স ১২০ কোটি, শাপলা ফ্লাওয়ার মিলস ১২০ কোটি, আনন টেক্স নিটিং টেক্স ১১৯ কোটি, সিদ্দিক অ্যান্ড কোম্পানি ১১৮ কোটি, মনোয়ার ট্রেডিং ১১৭ কোটি, ডেল্টা জুট মিলস ১১৭ কোটি টাকা খেলাপি।
এ কে জুট ট্রেডিংয়ের খেলাপি ঋণ ১১৬ কোটি ৬২ লাখ, আর্থ এগ্রো ফার্মস ১১৬ কোটি, মাহবুব স্পিনিং ১১৫ কোটি, ডি আফরোজ সোয়েটার্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১১৫ কোটি, জারজিস কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রিজ ১১৪ কোটি টাকা।
ম্যাপ পেপার বোর্ড মিলস ১১৪ কোটি, স্টাইল ফ্যাশন গার্মেন্টস ১১৪ কোটি, আলামিন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ১১২ কোটি, প্রফিউশন টেক্সটাইল লিমিটেড ১১২ কোটি, মা টেক্সটাইল ১১১ কোটি ২২ লাখ টাকা খেলাপি।
সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ১১১ কোটি, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ১১০ কোটি ৬৩ লাখ এবং কেয়াকটন মিলসের ১১০ কোটি ১০ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে।