
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন ‘গভর্নরের স্মৃতিকথা’। বণিক বার্তার প্রকাশনায় বইটি একুশে গ্রন্থমেলায় পাওয়া যাচ্ছে বাতিঘর প্রকাশনীতে। এছাড়া বইটি অনলাইন বুকশপ রকমারিডটকম এবং বণিক বার্তার কার্যালয় থেকেও সংগ্রহ করা যাবে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। ১৭০ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ৪০০ টাকা।
সালেহউদ্দিন আহমেদ তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা লিখেছেন গভর্নরের স্মৃতিকথা বইয়ে। বইটির দুটি বিশেষত্ব রয়েছে। একটি বিশেষত্ব হলো, তিনি সহজ ও সাবলীল ভাষায় তার পরিবার সম্পর্কে এবং তাঁর আত্মীয়স্বজন সম্পর্কে লিখেছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে তিনি উঠে এসেছেন। অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি এ ধরনের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসেন, কিন্তু আসার পর তাঁরা তাঁদের পরিবারকে ভুলে যান। ড . সালেহউদ্দিন আহমেদ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। যদিও ঢাকা শহরে তাঁর জন্ম এবং তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা শহরেই, তবু বইটিতে তিনি তার পরিবারের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর পৈতৃক গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন, তার স্মৃতিচারণ করেছেন এবং পৈতৃক বাড়িতে তার আত্মীয়স্বজন যারা ছিল, তারা সবাই সচ্ছল নয়- তাদের সবার কথাই তিনি স্মরণ করেছেন। তিনি এমন এক পরিবারে মানুষ হয়েছেন, যেখানে ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। এ নিবিড় সম্পর্ক নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের সবার সঙ্গেই সবার সম্পর্ক ভালো। এখনো একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজের সিদ্ধান্ত নিই।’ বইটিতে তার ভাইবোন এবং সন্তানদের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন।
বইটির দ্বিতীয় বিশেষত্ব হলো, বইটি একজন আমলার স্মৃতিকথা হলেও এতে কারো সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা লেখা হয়নি। সাধারণত বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে আমলাদের অনেক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা তাঁদের স্মৃতিকথায় বিরোধীদের সম্পর্কে অনেক কটু কথা লিখে থাকেন। সালেহউদ্দিন আহমেদের বইটি পড়ে মনে হলো, সালেহউদ্দিন আহমেদ অজাতশত্রু ছিলেন। কোথাও তাঁর কোনো শত্রু তৈরি হয়নি। সবাইকে তিনি সমভাবে ভালোবেসেছেন এবং সবার সঙ্গে কাজ করেছেন।’’
সালেহউদ্দিন আহমেদ পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স পাস করেন এবং ১৯৬৯ সালে একই বিষয়ে এমএ পাস করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন।
১৯৭৮ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরে অবস্থিত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘সিরডাপ’- এ গবেষণাপ্রধান হিসেবে কাজ করেন। কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক ও এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ক্ষুদ্রঋণের জন্য অর্থসহায়তাকারী। প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। সেখান থেকে তিনি ২০০৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালের এপ্রিলে তার কার্যকাল সমাপ্ত করেন। তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন এবং বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ৮০টির অধিক নিবন্ধ ও বই প্রকাশ করেছেন, যেগুলো দেশ ও বিদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার পরিচালনা পর্ষদেরও সদস্য।












