পলাশী দিবসের আলোচনা সভায় মুসলিম লীগ
এ অঞ্চলে ৫৫২ বছরের মুসলিম শাসনের পতন ঘটানোর জন্য জগতশেঠ মহাতপ চাঁদ ও তদীয় ভ্রাতা মহারাজা স্বরূপ চাঁদ, উমিচাঁদ, রাজা রায় দুর্লভ, রাজা রাজবল্লভ, মহারাজা নন্দকুমার প্রমুখ বর্ণবাদী হিন্দু নেতৃবৃন্দ ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির সাথে ষড়যন্ত্র করে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলাকে পরাজিত করে বাংলার স্বাধীনতা ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিয়ে তাকে হত্যা করিয়েছিল। নবাব হওয়ার লালসায় প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানও এই ষড়যন্ত্রে শামিল হয়ে কিছুদিন পুতুল নবাব হিসাবে মসনদে অসীন ছিলেন। এই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ১৯০বছর সময় লেগেছিল। অনুরূপভাবে আজো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লুণ্ঠনের জন্য মীর জাফর-মহাতপ চাঁদ-রায় দুর্লভদের বংশধররা আজো অপ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তৎকালীন ব্রিটিশ বেনিয়া রবার্ট ক্লাইভ-ওয়াটসনদের মত এখনো আগ্রাসনবাদীরা আমাদের জন্মভূমির দিকে লোলুপ শকুনি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর চক্রান্ত বাস্তবায়নের জন্য নব্য মীরজাফর, উমিচাঁদ, ঘষেটি বেগমদের খুঁজছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে জাতি আজ দ্বিধা-বিভক্ত। ইংরেজদের দুইশত বছরের শাসনের মূলমন্ত্র ডিভাইড এণ্ড রুলের প্রেক্ষাপট আজ কোন কারণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। জাতিগত এই বিভক্তি কি কাকতালীয় না কারো সুগভীর চক্রান্ত ও দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে পলাশী দিবস, রক্তাক্ত কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদের স্বাধীনতা হারানোর ইতিহাস ও সিকিমের লেন্দুপ দর্জির কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতিকে সজাগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসত্তা চেতনায় উজ্জীবিত সর্বাত্মক জাতীয় ঐক্যই দেশের স্বাধীনতার একমাত্র রক্ষা কবচ হতে পারে বলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিশ্বাস করে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ শে জুন, ২০২০) সকাল ১১.০০টায় পলাশী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলের প্রধান কার্যালয়ে দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। করোনা মহামারীর কারণে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য নীতি অনুসরণ করে সীমিত আকারে আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, অতিঃ মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ.এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, খোন্দকার জিল্লুর রহমান. বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সহ-দফতর সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীক, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী আবুল খায়ের বলেন, রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এখন হাজারো অভিযোগ। তাদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডই ঠিক করবে তারা ইতিহাসে মীরজাফর-জগৎশেঠদের মত নিন্দিত হবেন নাকি মীরমদন-মোহনলালদের মত নন্দিত হবেন। তিনি আরো বলেন মুসলিম জাতিসত্তার পুনর্জাগরণের মাধ্যমে বৃহত্তম জাতীয় ঐক্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হোক আমাদের পলাশী দিবসের অঙ্গীকার। (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)










