শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখুক : স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরীর নাগরিকদের সন্তানদের শিক্ষা বিস্তারে দায়িত্ব পালন করে আসছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চসিক বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন। পরবর্তী মেয়র মনজুর আলম তার মতো দক্ষতা দেখাতে না পারলেও ভালোভাবেই সামলেছেন। সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
গতকাল একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬১টিই চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান দিয়ে। ১৯টিতে নিয়মিত অধ্যক্ষ এবং ৪২টি মাধ্যমিক স্কুলে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্তরাও মূল পদের অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন।
খবরে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় নিয়মিত অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগদান সম্ভব হয়নি। অথচ কলেজগুলোয় সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার ২৫ জনেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন, যারা অধ্যক্ষ হিসেবে পদোন্নতিযোগ্য। এছাড়া অনেকের শিক্ষকতার বয়স ২২ বছর ছাড়িয়েছে। চাকরির শেষ সময়ে এসেও পদোন্নতি না পেয়েই চাকরি থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। পাবলিক পরীক্ষার ফলেও এর প্রভাব পড়ছে।
কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ-প্রধান শিক্ষক দারা পরিচালিত হতেই পারে। কিন্তু এত বেশিসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ‘ভারপ্রাপ্ত’ কর্তৃক পরিচালিত হবেÑতা প্রত্যাশিত নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের পালন করতে হচ্ছে দুটি দায়িত্ব। মূল কাজ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করছেন তারা। এ অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পান না তারা। সমপর্যায়ের অন্য শিক্ষকদের সমান বেতন-ভাতা নিয়েই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ নিয়ে অসন্তোষ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের মধ্যে।
আশার কথা, পদোন্নতি ও নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। যারা এ পদের জন্য উপযুক্ত, কমিটি তাদের নির্বাচন করবে। আশা করি আগামী দু’মাসের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে।
বর্তমানে চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৬। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৭টি (বালক আটটি, বালিকা ২৫টি, সহশিক্ষা ১৪টি); উচ্চমাধ্যমিক বা কলেজ রয়েছে ২১টি (ডিগ্রি কলেজ সাতটি, মাধ্যমিক কলেজ ১৪টি) এবং একটি ইংলিশ মিডিয়াম ও সাতটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কম্পিউটার ইনস্টিটিউট, একটি কম্পিউটার কলেজ, একটি থিয়েটার ইনস্টিটিউট, একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চারটি বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে চসিকের। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় দুই হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা জোগানো নিঃসন্দেহে এক বড় কাজ।
বেশিসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক চসিকের দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক, তা বলছি না। তবে এটি যেন দীর্ঘমেয়াদি না হয়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষা বিস্তারে চসিক যে ভূমিকা রাখছে, সেটি সিটি করপোরেশন তথা অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এমন মহতী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসবেÑএটিই প্রত্যাশা।