অর্থনীতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগীরাই দেশের প্রকৃত বন্ধু


নবাব সলিমুল্লার ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে –কাজী আবুল খায়ের
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র আর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। অপরদিকে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সুদৃঢ় করতে আন্তর্জাতিক বন্ধুরাষ্ট্র গুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুরাষ্ট্র কোন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়; বরং পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং দাবী-দাওয়া-চাহিদার সাথে বন্ধুরাষ্ট্র উপাধিটিও সম্পর্কিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সহযোগিতা কারীরাই আমাদের প্রকৃত বন্ধু হওয়ার প্রধান দাবীদার বলে দেশের জনগণ বিশ্বাস করে। নিপীড়িত বাঙ্গালী মুসলমানের মুক্তিদূত, এ অঞ্চলের অবহেলিত বিশাল জনগোষ্ঠীর উচ্চ শিক্ষা প্রসারের অগ্রনায়ক, দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ অগুনতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা আধুনিক ঢাকার রূপকার, ভারত বিভক্তির নেতৃত্ব দানকারী একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১০৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১০.০০টায় ঢাকার বেগমবাজারস্থ নবাব খাজা সলিমুল্লাহর কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের উপরোক্ত মন্তব্য করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন দলীয় সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সলিমুল্লাহ একাডেমীর সভাপতি আব্দুল জব্বার, নবাব বাড়ীর সদস্য খাজা ইমরান, দলীয় অতিরিক্ত মহাসচিব কাজী এ.এ কাফী, দফতর সম্পাদক খোন্দকার জিল্লুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশীদ প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন এবং পূর্ববঙ্গের অনগ্রসর জনগণকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার মানসে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করা খুবই কঠিন ছিল। বরং বাংলাদেশকে আজ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য হিসেবে কাশ্মীরের ভাগ্য বরন করতে হত। স্বাধীনতা অর্জনের সোপান তৈরির প্রতিটি ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহর একক অবদান অনস্বীকার্য। তাই এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, মুসলিম লীগ গঠন এবং ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খাজা সলিমুল্লাহই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মূল রূপকার এবং স্বপ্নপুরুষ। অথচ আজকে ইতিহাস থেকে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। অকৃতজ্ঞদের অনেকেই এখন বলার চেষ্টা করেন নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমি দান করেছেন এরকম কোন প্রমাণ নেই। তার জন্ম-মৃত্যুদিবসে তাকে যথোপযুক্তভাবে স্মরণ না করা সবই এ ষড়যন্ত্রের অংশ। ইচ্ছে করলেই নবাব সলিমুল্লাহর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তিনি মুসলিম জাতিসত্তা চেতনা, উপমহাদেশে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও শিক্ষা সচেতন করার জন্য তার কর্মকাণ্ডের মাঝেই আজীবন বেচে থাকবেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম আর আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই যতদিন চলবে ততদিন নবাব সলিমুল্লাহ গোটা জাতির জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে।