আমাদের শিক্ষানীতি: যুগের চাহিদা ও বাস্তবতা

ড. শফিক উজ জামান
একটি দেশের অগ্রগতিতে শিক্ষাকে সামাজিক পুঁজি হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। কেননা সামাজিক পুঁজিই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আর শিক্ষার মাধ্যমে এ মানবপুঁজি দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে দেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করে। পৃথিবীর বহু দেশ প্রাকৃতিক বিশেষ করে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। কিন্তু এ মূল্যবান সম্পদকে দেশের প্রয়োজনীয় পণ্যে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা দরিদ্র। অন্যদিকে অনেক দেশই আছে প্রাকৃতিক সম্পদে দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও তারা বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে। আবার কোনো কোনো দেশ মূল্যবান খনিজ সম্পদ জনস্বার্থে ব্যবহারের পরিবর্তে বহুজাতিক কোম্পানির সহযোগিতায় সংকীর্ণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সম্পদ আশীর্বাদ বা অভিশাপ উভয়ই হতে পারে এবং তা নির্ভর করছে সে দেশের সরকার কীভাবে ব্যবহার করবে তার ওপর।
ইউরোপের উন্নত দেশগুলো অতীতে বাণিজ্য করতে গিয়ে কূটকৌশলে আজকের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শতাব্দীর পর শতাব্দী উপনিবেশে পরিণত করে সম্পদ লুট করে ধনী হয়েছে। তারা শুধু লুটপাট করে ক্ষান্ত দেয়নি, দীর্ঘকাল শাসন-শোষণের সুবিধার্থে একটি শিক্ষিত তাঁবেদার অনুগত শ্রেণী তৈরি করেছে। উপনিবেশ ত্যাগের আগে তাদেরই হাতে শাসনভার অর্পণ করে বিদায় নিয়েছে, যাতে স্বাধীন দেশেও উপনিবেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। সর্বজনীন শিক্ষাকে তারা সচেতনভাবেই গুরুত্বহীন করে রেখেছে। তারা জানত যে একটি জাতিকে অনুগত কিংবা পঙ্গু করে রাখতে হলে ধ্বংস করতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে। তাই ১৮৩৪ সালে রবার্ট মেকলে কোনো রাখঢাক না করে স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, এ দেশ থেকে চলে যাওয়ার আগে এমন একটি শিক্ষিত শ্রেণী তৈরি করবেন, যাদের গাত্রবর্ণ ভারতীয় হলেও মনোজগতে ব্রিটিশ অনুগত হবে এবং উপনিবেশ-পরবর্তী সময়েও ব্রিটিশের স্বার্থ রক্ষা করবে। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশই ঔপনিবেশিক শক্তি দেশ ত্যাগের ছয় থেকে সাত দশক পরেও স্বাধীনতার সুফল থেকে বঞ্চিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থতা।
বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে জয় লাভ করে ১৯৭২ সালেই তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যেও শিক্ষা খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছিল। ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। এ শিক্ষা কমিশন যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে রিপোর্ট প্রদান করে। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতা বিকাশের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়। তাছাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত করে মাতৃভাষায় পাঠদানকে গুরুত্ব দেয়া হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে জিডিপির ৫ শতাংশ এবং বাজেটের এক-পঞ্চমাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করে তদানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে সামরিক সরকার কুদরাত-এ-খুদার শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টকে শিকেয় তুলে আবার ঔপনিবেশিক শিক্ষার আদলে শিক্ষানীতি চালু করে।
কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশমালার আলোকে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিবর্তে সামরিক সরকার ক্ষমতার স্বার্থেই ব্যয় হ্রাস করে শিক্ষা সংকোচনের অপকৌশল গ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, কুদরাত-এ-খুদার সুপারিশমালায় আধুনিক, বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক, জনকল্যাণমুখী শিক্ষানীতির পরিবর্তে পশ্চাত্পদ, প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ধ্যানধারণাভিত্তিক নীতিমালাকেই উৎসাহিত করা হয়। ১৯৭৫-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত সামরিক-বেসামরিক সব সরকারই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ধ্যানধারণাকেই সমর্থন দিয়েছে।
১৮৩৪ সালে মেকলে বাদামি ইংরেজ তৈরি এবং চরম বৈষম্যমূলক যে শিক্ষানীতি প্রবর্তন করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা আজো বহাল আছে। তবে শিক্ষার গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ব্রিটিশ শাসকরাই ১৯২০ সালে বাদামি ইংরেজ তৈরির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করে। ইংরেজরা সৎ উদ্দেশ্যে এ প্রস্তাব করেনি। তারা জানত, কৃষি থেকে আয় অর্থাৎ শোষণ বাড়াতে হলে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য ন্যূনতম শিক্ষা অপরিহার্য। তাদের প্রস্তাবে বাধা দিয়েছিলেন ইংরেজ নয়, তাদেরই এদেশীয় অনুচর জমিদাররা। তারা কৃষকের প্রাথমিক শিক্ষার বিরোধিতা করে যে যুক্তি দেখিয়েছিলেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— চাষীর ছেলে লিখতে-পড়তে পারলে চাষের কাজকে ঘৃণা করবে; চাকরবাকর নষ্ট হয়ে যাবে; চোখ খুলে যাবে; দারিদ্র্য বেশি উপলব্ধি করবে এবং তা দূরীকরণে সংগ্রাম করবে ইত্যাদি। আজকে অবশ্য শিক্ষার এমন নগ্ন বিরোধিতা নেই। উল্টো ‘সবার জন্য শিক্ষা এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন’ ইত্যাদি মুখরোচক কথা শুনতে শুনতে মনে হয়, শিক্ষার প্রসারে তাদের আগ্রহের সীমা নেই। কিন্তু জমিদারদের মতো প্রত্যক্ষভাবে শিক্ষার বিরোধিতা না করলেও যে তিন ধরনের চরম বৈষম্যমূলক শিক্ষা সৃষ্টি করা হয়েছে তা কেবল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী নয়; অনেকটা সেই জমিদারদেরই ধ্যানধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা মাদ্রাসা শিক্ষা মূলত দরিদ্র মানুষের জন্য, যারা বেসরকারি শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম। আর আধুনিক শিক্ষাবঞ্চিত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্তদের দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। কেননা যুগের চাহিদার সঙ্গে এ শিক্ষা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দ্বিতীয় ধরনের শিক্ষা নেয় মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত, যারা মূলত বাংলা মিডিয়ামে সাধারণ ডিগ্রি নিয়ে যেকোনো চাকরির জন্য সর্বত্র ধরনা দেয়। তৃতীয় ধরনের শিক্ষার্থীরা মূলত উচ্চবিত্তের এবং তাদের লেখাপড়া ইংরেজি মাধ্যম। গুরুত্বপূর্ণ চাকরির বাজারে এদের দাপট বেশি এবং এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পেছনে যে বিপুল ব্যয় হয়, তা দেশের ৯০ শতাংশেরই বহন সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষা আজ অগ্রগতির চালিকাশক্তি বা সমতাভিত্তিক সমাজ না হয়ে স্থায়ী বৈষম্য সৃষ্টির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটি বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা অক্ষত রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমতাভিত্তিক উন্নয়ন কেবল কাগজে-কলমে আর বক্তৃতা-বিবৃতিতেই শোভা পাবে, বাস্তবে নয়। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘ডাকার ঘোষণা অনুযায়ী’ শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ৬ শতাংশ না হলেও ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বাজেটেই কেবল জিডিপির সর্বাধিক, অর্থাৎ ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এর পরেই ক্রমান্বয়ে বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫) শুরুতে অর্থাৎ ২০১০-১১ সালে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে পরিকল্পনার শেষ বছরে। অর্থাৎ ২০১৪-১৫ সালে ৪ শতাংশ উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪-১৫ সালে অর্থের পরিমাণ বাড়লেও প্রতিশ্রুত জিডিপির ৪ শতাংশের ধারে-কাছেও পৌঁছানো যায়নি। উপরন্তু, পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়ে ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কিছু বৃদ্ধি পেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এ বরাদ্দ সার্কভুক্ত সব সদস্য দেশের চেয়ে কম। তা সত্ত্বেও গত এক দশকে স্বাক্ষরতার হার ২০০৮ সালের ৫৬ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তেমনি বেড়েছে উচ্চশিক্ষার হার। কিন্তু বাড়ছে না শিক্ষার মান। বরং ক্রমহ্রাসমানের প্রবণতাই বিভিন্ন গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। কেননা গ্রামগঞ্জ ও মফস্বল শহরে যেভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ব্যাঙের ছাতার মতো উচ্চশিক্ষার নামে ব্যক্তি উদ্যোগে কলেজ গড়ে উঠছে, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান হতাশাজনক। তার পরও যারা পাঠ্যসূচি থেকে যে শিক্ষা নিয়ে বের হচ্ছেন, সেই অর্জিত জ্ঞান চাকরির বাজারে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন হওয়ায় কাজে লাগতে ব্যর্থ হচ্ছেন। দেশে লাখ লাখ কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত বেকার অথচ তিন লক্ষাধিক বিদেশী জনবল দিয়ে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি মেটাতে হচ্ছে।
যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের মতো ছোট ভূখণ্ডের বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করছে জনগোষ্ঠীকে মানবপুঁজিতে রূপান্তর করার ওপর। এ লক্ষ্যেই ১৯৭৪ সালের প্রথম শিক্ষানীতিতে একমুখী শিক্ষার পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলে চাপিয়ে দেয়া সাধারণ শিক্ষার পরিবর্তে কারিগরি ও বিশেষায়িত শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একের পর এক সব শিক্ষানীতিতে পুরনো ধারার নীতিমালা গৃহীত হয়। তবে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা বিস্তারে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহের ঘাটতি এবং পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের বিএ, এমএ ডিগ্রি নিয়ে হোয়াইট কলার জবের প্রতি আগ্রহ এখনো প্রবল। তাই তো দেখা যায়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রসায়নবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, পেশাভিত্তিক চাকরির পরিবর্তে বিসিএস করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যহীন এক পেশায় যোগ দিচ্ছেন। এতে একদিকে সরকারের যেমন বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি দেশের মানুষও এসব বিশেষজ্ঞের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দুই বছর আগে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারসারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যে অসামঞ্জস্য, তাতে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের ৮২ শতাংশ কর্মে নিয়োজিত থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ৩ শতাংশ উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন। বাকিদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ আধা বা মাঝারি দক্ষ ও ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ অদক্ষ।
এ হতাশাজনক চিত্রের বিপরীতে সান্ত্বনা এই যে, গত এক দশকে কারিগরি শিক্ষার হার কিছুটা বেড়ে ২০০৮ সালের ৩ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী ভারতে এ হার ২৭ শতাংশ, নেপালে ২৩, শ্রীলংকায় ৪০ এবং উন্নত দেশে এ হার ৬০ শতাংশের ওপর। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে এ ব্যর্থতার কারণেই আজ দেশের শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনশক্তির অভাব পূরণে বিদেশ থেকে শ্রমিক, কর্মকর্তা এনে চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে।
সর্বশেষে ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে ১৯৭৪ সালে অনুসৃত নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বর্ধিত করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলেও দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার হার; বিনামূল্যে বই এবং শিক্ষার উপকরণ দেয়ায় গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে উচ্চশিক্ষার হার। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার কম হলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এ হার ৪৭ শতাংশ, যা উপমহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। কাজেই শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি এখন প্রয়োজন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। আজ বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষকে কর্মক্ষম বলা হয়। সেই সংখ্যা ৬ কোটি ২১ লাখ (২০১৫-১৬)। এ বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষকে বলা হয় জনসংখ্যা বোনাস বা পপুলেশন ডিভিডেন্ড। এ বোনাস পেতে হলে প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
লেখক : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, অর্থনীতি বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়