
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবি ঘোষণাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোর দাবী জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ। এতে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে ভারতে থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার মূল উদ্যোক্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকেই সম্মানিত করা হবে। অন্যথায় দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য স্বার্থান্বেষী মহলের ইচ্ছা অনিচ্ছায় যেভাবে কাঁটাছেড়া করা হচ্ছে তাতে একসময় নজরুলকে অস্বীকার করে অন্য কাউকে জাতীয় কবি ঘোষণার দাবী উঠার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আজ (২৭ আগস্ট, ২০২২) জাতীয় ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে বাদ যোহর দলীয় কার্যালয়ে সভাপতি এড. বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বেনিয়া ইংরেজের শাসন আর সমাজপতি ব্রাহ্মণদের যৌথ নিষ্পেষণে রাজার জাতী থেকে ভিখারিতে পরিণত হওয়া উপমহাদেশের মুসলমানরা তখন এক ঘোর দুর্যোগপূর্ণ সময় অতিবাহিত করছে। তারা তখন হতাশ, অসহায়, সর্বহারা, রিক্ত। এরকম সময়ে মুসলমানদের জন্য হ্যামিলনের বাঁশীওয়ালা হয়ে বাংলার সাহিত্য অঙ্গনে আবির্ভাব ঘটে কবি কাজী নজরুল ইসলামের। তার “ইসলামের ওই সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর” অথবা “বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা শীর উঁচু করি মুসলমান” এরকম ইসলামী গানের সুরে নির্জীব হয়ে পড়া বাংলার মুসলমানরা নতুন করে জেগে উঠেছিল। অথচ তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি অসংখ্য শ্যামা গান, কীর্তন ও জয়গান লিখে গেছেন। আবার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সর্বস্তরের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে এক হাতে বাঁশরী অপর হাতে রণ-তুর্যের এই মহাবিদ্রোহী “কারার ঐ লৌহ কপাট” অথবা “দুর্গম গিরি কান্তারের” মত অসাধারণ কিছু রচনা জাতিকে উপহার দিয়ে গেছেন। গান ও সাহিত্যের মত অহিংস সুকুমার কলাকে আশ্রয় করে তিনি ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র ডিভাইড এণ্ড রুল পলিসি ছিন্নভিন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বহুধা বিভক্ত, নির্জীব ধর্মীয় জাতিগুলোর ভেতর সম্প্রীতি এনে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনকে বেগবান করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এজন্য তিনি একাধিকবার জেলেও গিয়েছিলেন। কবি নজরুলের অবদান জাতী আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
প্রধান আলোচক কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী সহ আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন, দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, কেন্দ্রীয় নেতা এড. আফতাব মোল্লা, শেখ এ কাইয়ূম, ইঞ্জি ওসমান গনী, ইসলামী ঐক্যজোটের সহসভাপতি শওকত আমীন ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক ড. এ. আর খান, সলিমুল্লাহ একাডেমীর সভাপতি মোঃ আব্দুল জাব্বার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে.এম রকিবুল ইসলাম রিপন, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আহছানউল্ল্যাহ শামীম, মুসলিম সমাজের সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসেন, সমাজতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ইঞ্জি. হাফিজুর রহমান। সভায় কবি নজরুল ও সমসাময়িক বিষয়ের উপর স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান কবি মাহমুদা সুলতানা, কবি বেলাল হাওলাদার ও খোন্দকার জিল্লুর রহমান। নজরুল রচিত হামদ্ গেয়ে শোনান মহিলা মুসলিম লীগ সভানেত্রী ডা. হাজেরা বেগম। সভা শেষে কবি নজরুলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।












