অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
কাশ্মীরকে এক কথায় বলা হয় পৃথিবীর স্বর্গ। ছবির মতো এ স্থানে ঘুরতে যেতে ইচ্ছা হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে মেলা ভার। যদিও দূরত্ব একটা বিষয়। কারণ বর্ডার থেকে ট্যুরিস্ট স্পটগুলো মোটামুটি ৩০০-৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অনেকে কাশ্মীর ভ্রমণের খরচ নিয়ে ভাবতে বা আন্দাজ করতে পারেন না। সে সুবিধার্থে কাশ্মীর ভ্রমণের খরচ সম্পর্কে ধারণা দেয়া হলো—
যদি কলকাতা থেকে কাশ্মীর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হন, তবে সেখানে একদিনের জন্য হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ হবে ৮০০-৯০০ রুপি। কলকাতা থেকে ট্রেনে জম্মু যেতে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার রুপির মতো, যা আমাদের দেশের টাকায় হয় সাড়ে ৩ হাজারের একটু বেশি। জম্মু পৌঁছে ট্রেন থেকে নেমে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারেন শ্রীনগর। এক ফাঁকে সময় পেলে সোনমার্গ চলে যেতে পারেন। স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে সোনমার্গের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে আসা যেতে পারে। একই সঙ্গে ঘুরে নেয়া যেতে পারে গুলমার্গ। এখানে দুপুরে খেতে চাইলে খরচ পড়বে ২০০ রুপির মতো। গুলমার্গ ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে যাবেন অন্য এক ভুবনে। উপরে যতদূর চোখ যায়, কেবলই শুভ্র বরফের পাহাড়, আর নিচে সবুজ ভ্যালি। চাইলে ঘোড়া ভাড়া করে গুলমার্গ ভ্যালির কিছুটা ঘুরে দেখতে পারেন।
শ্রীনগর শহর ঘুরে দেখার সময় প্রথমেই যেতে পারেন হজরতবাল মসজিদে। মসজিদটি খুবই সুন্দর। মসজিদের বাইরে রয়েছে প্রচুর পায়রা। আপনি চাইলে এদের খাওয়াতে পারেন। শহর ঘুরে দেখার অংশ হিসেবে যেতে পারেন নিশাদ বেগ পার্ক, শালিমার পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে। শ্রীনগরে খাওয়ার খরচ পড়বে ২০০ রুপির মতো। সবশেষে যাওয়া যেতে পারে বিখ্যাত ডাল লেকে। এসব দেখতে দেখতে দিন পার হয়ে যেতে পারে। তাই পরের দিন সকালে যাওয়া যেতে পারে পাহেলগাম। একে একে ঘুরে
নিতে পারেন আরু ভ্যালি, বেতাব ভ্যালি, চন্দন ওয়ারি। পাহেলগামের মূল সৌন্দর্য এ ভ্যালিগুলোই। ছিমছাপ সাজানো-গোছানো। আরু ভ্যালির পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা জীবনের অন্য রকম অভিজ্ঞতা হতে পারে।
জম্মু যেতে চাইলে ভোরের দিকে রওনা হওয়াই ভালো। একটু একটু করে দিনের আলো ফোটার সময় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুট উঁচুতে গাড়িতে বসে থাকা কম অ্যাডভেঞ্চারমূলক নয়! পথিমধ্যেই সকালের নাশতা সেরে নিতে হবে। টানা ৮ ঘণ্টা এ পথে যাওয়ার পর জম্মুর মাটিতে পা রাখতে পারবেন। জম্মুতে দুপুর ও রাতের খাবারের দাম ৪০০-৫৫০ রুপির মতো পড়বে। সেখান থেকে আবার কলকাতায় ফিরে আসতে পারেন। এরপর কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারেন।











