
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় (সংসদিয় আসন কুমিল্লা ৮) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি রাজাকারের সন্তান নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুলকে প্রধান অতিথি করায়, বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান এএনএম মইনুল ইসলাম চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২৬ মার্চ ২০২২) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ২ মিনিট ৫১ সেকেন্ডর ভিডিওতে দেখা যায়, জেলার বরুড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিববারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদিয় আসন কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এমপি।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান এএনএম মইনুল ইসলাম। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” বইয়ের ৩৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উদৃত আছে বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার নেতৃত্বে রাজাকার, আলবদর, আল সামস গঠন করা হয়েছিলো, সে ছিলো চিহ্নিত রাজাকার টুক্কু মিয়া এবং তার ভাই ছিলো আদ্রা ইউনিয়নের চিহ্নিত কুখ্যাত রাজাকার ও পকিস্তানের দোসর সামছুল আলম মিয়া।স্বাধীনতার ৫০ বছর ফেরিয়ে গেলেও একজন রাজাকার পরিবারের সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করায় স্বাধীনতার মুল চেতনায় আঘাত করাসহ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার সামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক এমপি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি তা মানতে পারছি না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরুড়া পৌরসভার মেয়র বকতার হোসেন বখতিয়ার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন লিংকনসহ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এন এম মইনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অবশ্যই প্রমানিত সত্য এবং তার চাচার নাগরিকত্ব স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুই বাতিল করে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন, সে কারণে এটি আমাদের নলেজে আছে। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত “এক সাগর রক্তের বিনিময়ে” বইয়ের ৩৫ নম্বর পৃষ্ঠায় এর প্রমাণ আছে।
উল্ল্যেখিত ও প্রমানিত সত্যের উপস্থাপন করায় বিভ্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উদৃত তথ্যের পাস কাটিয়ে সভাপতির আসনে থাকা কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য নাছিমুল আলম চৌধুরী বলেন, যাকে রাজাকার বলা হয়েছিল, তিনি আমার বাড়ির সম্পর্কে চাচা হন। আমার বাবার বিষয়টি মিথ্যাচার। এটা আমার বক্তব্যে পরিষ্কার করেছি। পসেই একজন বলে উঠেন, চাফাই গেয়ে কথা বলে প্রকৃত সত্য লুকানো যায় না, এ সরকার ক্ষমতায় না থাকলে তাকে খুজ্ওে পাওয়া যাবেনা। আরো তথ্য জানার জন্য পরে আর মন্তব্য করা লোককে খুজে পাওয়া যায় নাই।
বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ তা নিয়ত্রনে আনে।












