রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনে প্রবেশ করতে চেহারা দেখে শনাক্ত করার মাধ্যমে চলছিল হাজিরা। ঢুকতেই পাশের টেবিলের যন্ত্রমানব ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল ফুল তুলে ধরে, অন্য টেবিলে আছে ব্লু-টুথ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি, সামনে এগোলেই স্থানীয় উপকরণে তৈরি ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার, ছিল পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে আধুনিক পানি পরিশোধনাগারসহ প্রায় ৩৭টি উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনীতে এ প্রকল্পগুলো প্রদর্শনীর ব্যবস্থা ছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনমূলক কাজে আগ্রহী করে তুলতে প্রায় দুই দশক পর দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অনুষদ। চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের বারান্দায় এ প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত ছিল।
এ আয়োজনে অনুষদের পাঁচটি বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প নিয়ে হাজির হন। এর মধ্যে ইনফরমেশন কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩টি, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১১টি, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সাতটি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুটি, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চারটি প্রজেক্ট স্থান পায়।
এদিন সকালে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা ও চৌধুরী মো. জাকারিয়া। এ সময় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুত্ফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট বিবেচনায় তিনজনকে কেমিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও সফটওয়ার এ তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করবে প্রকৌশল অনুষদ। প্রকৌশল অনুষদ ডিনস লিস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে বলে জানান অনুষদটির ডিন অধ্যাপক ড. একরামুল হামিদ। এ দীর্ঘবিরতির আয়োজন সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী মনোভাব জাগ্রত করার জন্য এ আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। আগামী বছর এ আয়োজনে দ্বিগুণ শিক্ষার্থীর সাড়া পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।