রাতারাতি সুদের হার কমানো সম্ভব নয়

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
ব্যাংকের সুদের হার রাতারাতি কমিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবাল। রাজধানীর বনানীর প্রধান কার্যালয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এম রিয়াজুল করিম, পরিচালক জামাল জি আহমেদসহ ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘চাহিদা ও যোগানের উপর ভিত্তি করে সুদের হার নির্ধারিত হবে। এটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কৃত্রিমভাবে সুদের হার নির্ধারণ করা যাবে না। মাত্র দুই বছর আগেও আমানতের সুদ ছয় শতাংশ এবং ঋণের সুদ ৯ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল। চাহিদার তুলনায় যোগান না থাকার কারণে সুদের হার আবার বেড়েছে। তবে আমরা এখনো সুদের হার কমানোর চেষ্টা করছি। গ্রাহক ভেদে সুদের হার এক অংকে নামিয়ে এনেছি। সামনে আরও নামবে।’
এইচবিএম ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের ৭৮ শতাংশ ব্যাংকিং খাতের অবদান। একটি ব্যাংক কোনো কারণে খারাপ করলে গোটা ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ে নীতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এতে সামগ্রিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজ করলে সমালোচনা থাকবেই। তবে ঢালাও মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ সময় তিনি ব্যাংকের সুশাসনের বিষয়ে বলেন, আমরা পর্ষদের পক্ষ থেকে ম্যানেজমেন্টকে বলেছি কোনো ধরনের অনিয়ম করা যাবে না। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে আজ কিংবা কাল তা ধরা পড়বেই। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংকের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা আগামীতে এসএমই, এমএসএমএ ঋণে বেশি গুরুত্ব দিব। কর্পোরেট ব্যাংকিং থেকে বেরিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং এ গুরুত্বারোপ করছি। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে রয়েছে। আমরা তাদের ব্যাংকে আনতে চাই। তাহলে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ ১০ লাখ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। এতে যোগান ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা পাবে। আর তাতে করে সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনাও সহজ হবে।
খেলাপি ঋণকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, খেলাপি কমানোর জন্য ঋণের আকার ছোট করতে হবে। ঋণের টাকা কোথায় যাচ্ছে তার গতিপথ অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে বড় বড় গ্রাহকের কাছে বড় অংকের ঋণ দেয়ার কারণে খেলাপি বেশি হচ্ছে। এ কারণেই আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং-এ জোর দিচ্ছি।
ব্যাংকের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আলোকে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। এজন্য ব্যবসায়িক কর্মপদ্ধতির কৌশলগত পরিবর্তন এবং মানুষকে সংযুক্ত করার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্যাংকটির আর্থিক বিবরণী তুলে ধরেন এমডি রিয়াজুল করিম। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকের মোট আমানত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এ সময় ঋণ বিতরণ করেছে ১৫ হাজার ১০১ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ব্যাংকে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩১৪ কোটি টাকা। এছাড়া সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির আমদানি বাণিজ্য হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা আর রফতানি করেছে ৬ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছে ২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।