এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ দেয়ার আবদার করেছে। এই আবদারটি করা হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাদের যে মূলধন ঘাটতি হয়েছে তা মেটানোর জন্য। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বৃহত্তম ব্যাংক তাদের সোনালী ব্যাংক মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিই ‘হল-মার্ক’ কেলেঙ্কারির কারণে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিও ‘অ্যাননটেক্স’ নামের একটি অখ্যাত গ্রুপকে নিয়মনীতি না মেনে পাঁচ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
দুর্নীতির কারণে আলোচিত অপর ব্যাংক বেসিকও মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে। মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের প্রয়োজন ১২ শ’ ৫০ কোটি টাকা। অন্য দিকে বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিবেচিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এ খাতে চেয়েছে যথাক্রমে সাত হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা ও ৮০০ কোটি টাকা।
গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধনসংক্রান্ত সভায় এই অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অর্থ সরকার নগদ দিতে পারে, নতুবা গ্যারান্টি আকারেও দিতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো অন্য খাত থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণে টাকা কর্জ করবে এবং সে ক্ষেত্রে গ্যারান্টার হবে সরকার। তবে এই বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে বরাদ্দ রয়েছে সাকুল্যে দুই হাজার কোটি টাকা। তাই মন্ত্রণালয় বছরজুড়ে এই পরিমাণ অর্র্থই তাদের দিতে পারে। তবে এই জন্য বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দিতে হবে। এই প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে- গত অর্থবছরে মূলধন পুনর্গঠন বাবদ প্রদত্ত অর্থে অর্থ বিভাগ কর্তৃক শর্তাবলি প্রতিপালিত হয়েছে কি না; ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি উন্নয়নকল্পে ব্যাংকসমূহ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; মূলধন পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার কারণ; ব্যাংকগুলোর সেবার মান বৃদ্ধিকল্পে এবং অটোমেশন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে; খেলাপি ঋণ আদায়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ‘ব্যাসেল-থ্রি’ (আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধনের পরিমাণ) অর্জনে ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা কী।
যদি এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় তবে সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংককে টাকা দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সোনালীকে দেয়া হতে পারে ৪৫০ কোটি টাকা, জনতাকে ২০০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংককে ২৫০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংককে ৫৫০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে ১৪৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি অংশের পরিশোধিত মূলধনের জন্য দেয়া হবে আরো ২১ লাখ টাকা।
বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ আগামী মে-জুনে দেয়া হবে। তবে তার আগে তাদের বেশ কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে।











