
খোন্দকার জিল্লুর রহমান-
উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, আর হারাবেনা বাংলাদেশ, ঠিক উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে সরকার যখন আত্মহারা, তখন সেই সুযোগে এক শ্রেনীর ধুর্ত কিছু কোম্পানীর চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মিলে লেজুড় বিত্তির মাধ্যমে সরকার এবং প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তদের কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে সরকারের ভিতর আরেকটি অদৃশ্য শক্তিশালী সরকার ঘঠন করে সততা ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দুনীতি, লুটপাট, এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করে তুলেছে। তাদের ভিত এতই শক্ত যে, তারা একটা দেশের সরকার তথা, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগসহ কোন কিছুকেই কোন রকম পরোয়া না করে পরিপুর্নভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন, অবস্থা দেখে মনে হয় সরকারও এদের নিকট অসহায়।
যদিও আমাদের বাংলাদেশের আয়তনের তুলনায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংখ্যা লাইফ নন-লাইফ মিলিয়ে অনেক বেশী সেই তুলনায় যোগ্য ও অভিজ্ঞ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংখ্যা নিতান্তই কম বলা যায়। তবুও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তত্বাবধানে বীমাখাত হয়ে উঠতে পারে দেশের জিডিপির সফল অংশিদার এবং রাজস্ব আয়ের উৎস।
বীমা খ্যাতের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট এবং হযবরল চিত্র, বিশেষ করে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির ছেয়ে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তারা বেশি এগিয়ে আছে, এটা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোপানীগুলির কর্মকর্তাদের অবস্থা থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। আর বর্তমানে বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে আইডিআরএ কতটুকু দায়িত্বশীল তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তার প্রমান পাওয়া যায়। এটা আরো অতি মাত্রায় প্রমানিত হয়েছে যে, দুর্নীতির দায়ে দুদকের জালে আটকা পড়া, ঘুষ, অবৈধ আয়সহ নানান অপকর্মের কারনে অর্থনীতির ৩০ দিন বিডি ডটকমে ৭/৮পর্বের ধারাবাহিকসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকার ধারাবাহিক নিউজের কারনে গত ১৪ জুলাই বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কতৃপক্ষ(আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান ড, মোশারফ হোসেন পদত্যাগে বাধ্য হওয়া। এখানে সুক্ষ চিন্তার বিষয় হল, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের অবকাঠামো, ক্ষমতা এবং নীতির পরিবর্তন না করে একের পর এক পরিচালক, চেয়ারম্যান পরিবর্তন বিমাখাতের জন্য কতটুকু উপযোগি হবে তা এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে।
বিশেষ করে লেজুড়বিত্তি, অযোগ্যতা, অদক্ষতা, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ বড় বড় পদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগন এবং নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানদের কারন-ই বীমা খাতে এ অবস্থার জন্য দায়ী বলে বিশিষ্টজনরা মতামত দেন। কেহ কেহ বলেন, সরকারের জবাব দিহিতা না থাকার কারনে নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধানরা নিজেদের মধ্যে কৌশলে আরেকটি গোপন সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদের রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। অনেক সময় এদের কাউকে কাউকে চিহ্নিত করা গেলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে এরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সুযোগ সন্ধানীরা তখন সুকৌশলে সেই সরকারের ভেতরে ঢুকে রাষ্ট্রের চলমান অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে নিজেরা স্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়ে ওঠে, এদের অবস্থান খুবই শক্ত। যা একটা উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। সরকারও নাকি এদের থেকে সুযোগ সুবিধা (আর্থিক ও রাজনৈতিক) আদায় করে থাকে, যার ফলে সরকার প্রকৃত অপরাধীদের বের করে শাস্তির আওতায় আনতে পারে না। আমরা অশা রাখব জাতিয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে দেশের বীমাখতের বর্তমান অস্থিতিশিল পরিস্থিতি থেকে একটা সুশৃঙ্খল নিয়মের আবর্তনে এনে জাতিয় অর্থনীতিতে সফল ভুমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ^াস।











