বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বীমা চালু করল ভারত

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য বীমা কর্মসূচি চালু হয়েছে। রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, এ বীমার আওতায় ৫০ কোটি দরিদ্র মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবে। ‘মোদিকেয়ার’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় মারাত্মক অসুখের চিকিৎসার জন্য ভারতের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে ৬ হাজার ৯০০ ডলার করে দেয়া হবে। খবর এএফপি।
জানা গেছে, প্রকল্পটি পরিচালনা করতে ভারতের কেন্দ্রীয় এবং ২৯টি রাজ্য সরকারকে বছরে মোট ১৬০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী তহবিলের আকার বাড়ানো হবে।
গতকাল পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে এ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদি, এ সময় তিনি দুস্থ পরিবারের সদস্যদের হাতে মেডিকেল কার্ড তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এ প্রকল্পটিকে ‘ভারতের দরিদ্রদের উন্নতমানের এবং সুলভ স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দেশের ১০ কোটির বেশি পরিবার এর সুবিধা পাবেন বলে জানান মোদি।
ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত সংখ্যক হাসপাতাল ও চিকিৎসক নেই। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু দেখা গেছে, বেসরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের কাছে সেবা নিতে ১ হাজার রুপি (১৫ ডলার) খরচ পড়ে। যে দেশের লাখ লাখ মানুষকে দৈনিক ২ ডলারেরও কম অর্থে জীবনধারণ করতে হয়, সেখানে এ অর্থ ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত।
সরকারের এক হিসাবে দেখা গেছে, ভারতে পরিবারগুলোর গড় ব্যয়ের ৬০ শতাংশই ওষুধপত্র ও স্বাস্থ্যসেবার পেছনে চলে যায়। সরকারের এ উদ্যোগকে বিশেষজ্ঞরা প্রশংসা করলেও তারা এ বীমা প্রকল্পে শুধু অতি গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নয়, বরং দৈনন্দিন স্বাস্থ্যসেবাও অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান আইডিএফসি ইনস্টিটিউটের রাজিব লাল ও বিবেক দেহেজিয়া জানিয়েছেন, ‘মোদিকেয়ারে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই। অথচ ভারতের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটি খুবই দুর্বল একটি জায়গা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, দরিদ্র জনগণকে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করা হলে মধ্যম ও চূড়ান্ত মাত্রার অসুস্থতার হার হ্রাস করা সম্ভব হবে।’