মুসলিম জাতিসত্তার চেতনা ব্যতীত জাতীয় ঐক্য অসম্পূর্ণ -মুসলিম লীগ


অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোটের জন্য গোটা জাতি উদগ্রীব হয়ে আছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ জোটবদ্ধভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবী আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য ও দাবী অভিন্ন হওয়ায় জনগণও ইতিমধ্যে রাজপথে নেমে এসেছে। প্রাচীনতম দল হিসাবে বাংলাদেশ মুসলিম লীগও জনগণের দাবীর সাথে ঐক্যমত পোষণ করে, বরাররই একটি ইস্পাত কঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলে আসছে। অথচ আমরা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সিংহভাগ জনগণের নিজের ভোট নিজে দেয়ার সাধারণ দাবীটুকু আদায় করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। এর জন্য দায়ী অসম্পূর্ণ জাতীয় ঐক্য। ৯০শতাংশ মুসলমানের দেশে মুসলিম জাতিসত্তার পুনঃর্জাগরণ ঘটাতে আমরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। ২৯ডিসেম্বর, ২০২২ মুসলিম জাতিসত্তার রাজনীতির সূতিকাগার অল ইণ্ডিয়া মুসলিম লীগের ১১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় সভাপতি এ্যাড বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে বিকাল ৩.০০টায় সেগুনবাগিচাস্থ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের জয় হবেই, গণতন্ত্রই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। একটি মাত্র শ্লোগান দেয়ার জন্য শত শত আলেম দুই বছর যাবত কারাগারে আটকে রাখা ভয়াবহ অন্যায়। মুসলিম লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫৪সালে মুসলিম লীগ পরাজিত হয়েছে, মৃত্যুবরণ করেনি। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে তুলতে আপনাদের আবারও জেগে উঠতে হবে।
আরও বক্তব্য রাখেন, হৃদয়ে বাংলাদেশ সংগঠনের সভাপতি মেজর (অব:) হানিফ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মুসলিম লীগ মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও এ্যাড. আফতাব হোসেন মোল্লা, অতিরিক্ত মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান ও কাজী এ.এ কাফী, মহিলা মুসলিম লীগ সভানেত্রী ডা. হাজেরা বেগম, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যরিস্টার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার প্রধান লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৯০৬সালের ৩০শে ডিসেম্বর মুসলিম লীগ গঠনের মাধ্যমে মুসলিম জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদের যে আদর্শ ও প্রেরণা দিয়ে গেছেন তার ভিত্তিতেই ভারত বিভক্ত করে ১৯৪৭সালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রাথমিক স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলিম জাতীয়তাবাদ একটি পরীক্ষিত ও প্রমাণিত রাজনৈতিক আদর্শ। ভোটাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নেতৃবৃন্দ মুসলিম জাতিসত্তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণকে আবারও সংগঠিত হয়ে জাতীয় ঐক্যকে পূর্ণতা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।