অনৈতিকতা অনিয়ম যেন ডক্টর আসলাম আলমের পিছু ছাড়ছে না

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
দেশের অর্থ-মন্ত্রনালয়ের আর্থিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যা দেশের বীমা খাতের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। পুর্বের বীমা অধিদপ্তর থেকে ২০১১ সালের ২৬শে জানুয়ারী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০-এর বিধানের অধীনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (ওউজঅ) গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বীমা ব্যবসার বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বীমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছে। আইডিআরএ বীমা ব্যবসার তত্ত্বাবধান এবং পলিসি হোল্ডারের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বীমা শিল্পের পদ্ধতিগত উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) গঠিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে যে কজন নিয়োগ অনুমোদন পেয়েছেন, তাদের দু-একজন ব্যতীত বেশিরভাগ ব্যক্তিই প্রজ্ঞা, দুরদর্শী এবং ইন্স্যুরেন্স জ্ঞানসম্পন্ন না হওয়ার কারনে চেয়ারম্যানের চেয়ারকে কলঙ্কিত করা ছাড়া অলঙ্কিত করে যেতে পারেন নাই। ড. এম আসলাম আলমও এর বাইরে নয় বলে খাত সংশিষ্টø অনেকেই এধরনের মন্তব্য করেন।
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন পেয়ে দাপ্তরিক কাজে যোগদান করার পর থেকেই বীমাখাতে সামান্য সংখ্যক উন্নয়নমূলক কাজ করলেও বিতর্কিত এই আমলারূপি ধুর্তরাজ ড. এম আসলাম আলম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় এসবের প্রতি তার গুরুত্ব আছে বলে কোন প্রমান পাওয়া যায় না। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ারম্যান অর্থ্যাৎ আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকা পালনে সিদ্ধহস্ত।
ক্ষমতায় থাকাঅবস্থায় গত ৫ আগষ্ট দেশথেকে পালিয়ে যাওয়া প্যাসিবাদী হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা, আর্থিক সুবিধা দেয়ানেয়া, সুবিধায় প্লট আদায় করে নেওয়াসহ সম্প্রতি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান পদথেকে অপসারনের দাবীসহ হেন কোন কাজ নেই যা তাকে স্পর্শ করে নাই, তিনি ২০১২ সালের নভেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে যোগ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর ২০১৬ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকেও তাঁকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়। ড.এম আসলাম আলমের এসব কেলেঙ্কারি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ‘র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরেও বিভিন্ন পত্র পএিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়, কিন্তু অদৃশ্য কারনে সবকিছুই যেন চোখের সামনে পর্দা টেনে দেওয়ার মতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অদেখাই রয়ে যায়।
ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান অনুমতিতে কর্তৃপক্ষ‘র চেয়ারম্যান ড.এম আসলাম আলমের নিয়ম নীতি পরিপালনের প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। যেখানে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)‘র প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ্য করা আছে কোন বিনিয়োগকারী নুনতম ২% শেয়ার ধারন করা এবং শেয়ার ক্রয় করার নুনতম এক বছর শেয়ার হোল্ড করার আগ পর্যন্ত কেউ কোন কোম্পানির পরিচালনা পর্যদে থাকতে পারবেন না। সম্প্রতি ইউনাইটেড গ্রুপ থেকে আসা ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান খোন্দকার মঈনুল আহসান তার শেয়ার ধারন করার মেয়াদ এক বছর পূর্ণ না হওয়ার পরও (বিএসইসি)‘র নিয়ম লঙ্ঘন করে ইউনাইটেড ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্যদ তাকে অনুমোদন দিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কারো কারো মতামত বা আপত্তি উপেক্ষাসহ কোন নিয়ম নীতির তোআাক্কা না করে এককভাবে যা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ‘র দৃষ্টিগোচর হয় নাই। এক্ষেত্রে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইনের যথাযথ মুল্যায়ন অনূযায়ী শেয়ারহোল্ডারের নুন্যতম ২% শেয়ারহোল্ড করাসহ কমপক্ষে এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়ার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিপালন করা হয়েছে বলে জানা যায় নাই।
খাত সংশ্লিষ্ট অনেকের থেকে এমনটাই গুঞ্জন শোনা যায় যে, আইডিয়ারের এই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড.এম আসলাম আলমের আইডিয়ারে যুক্ত হওয়ার কয়েকদিন পরেই হার্টের সমস্যা নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করেন। বিশেষকরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভালো চিকিৎসাসেবার ফলশ্রুতিতে ইউনাইটেড ইন্সুরেন্সের পরিচালনা পর্যদ চেয়ারম্যানকে অনৈতিক এবং নিয়ম বহির্ভুতভাবে অনুমোদন দিয়েছেন কি না, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিকট এটাও প্রশ্নবিদ্ধ।