
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
দেশের বীমা খাতের কোম্পানি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সকে (নন-লাইফ) পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কর্তৃপক্ষের জারি করা সার্কুলারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একাধিক অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের নাম একত্রিত করে একশ কোটি টাকার বেশি পণ্য মূল্য ঘোষণা দিয়ে হ্রাসকৃত প্রিমিয়াম সুবিধা গ্রহণ করায় কোম্পানিটিকে এই জরিমানা করা হয়েছে। তবে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কতৃপক্ষ বলছে, আইডিআরএ’র জারি করা এ সংক্রান্ত সার্কুলার দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় অনিচ্ছাকৃত ভুলে তারা এই আইন লঙ্ঘন করেছেন। আইডিআরএ ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি সার্কুলারটি জারি করলেও কোম্পানিটি এই সার্কুলার পেয়েছে ওই বছরের ৭ জুলাই। তবে যথা সময়ে সার্কুলার না পাওয়া বা দৃষ্টিগোচর না হওয়ার এই দাবিকে অযৌক্তিক বলে মনে করছে আইডিআরএ।
জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষের সদস্য (নন লাইফ) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আইডিআরএ কোনো সার্কুলার জারির পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে অবহিত করতে সকল প্রকার মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। সাধারণত সার্কুলার জারির দু’ তিনদিনের মধ্যেই সকলের নিকঠ বিভিন্ন ওয়েতে ই-মেইল এসএমএস ইত্যাদির মাধ্যমে পৌঁছানো বা পাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সার্কুলার জারির পর কোনো কোম্পানির দৃষ্টিগোচর না হলে সে দায়িত্ব ওই কোম্পানির,
আইডিআরএ’র নয়।
আইডিআরএ’র এই সার্কুলার যথা সময়ে পেয়েছেন কি না জানতে একাধিক নন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী জানিয়েছেন, যে কোনো সার্কুলার জারির দিন অথবা দুই-তিনদিনের মধ্যেই তারা পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রেও যথা সময়ে তারা এই সার্কুলারটিও পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অনিয়মের মধ্য দিয়ে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্পদমূল্যের তুলনায় কম প্রিমিয়াম আদায় করেছে কোম্পানিটি, যা মূলত বীমা খাতের অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফল হিসাবে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি প্রয়াসই এরকম কাজ করে থাকে।
আইডিআরএর মুখপাত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিয়ম ভঙ্গ করে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম একত্র করে ১০০ কোটি টাকার অধিক পণ্যমূল্য ঘোষণা দিয়ে পুনর্বীমা করেছে এবং প্রিমিয়াম কম নিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিক। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছে।
নন-লাইফ বীমা নিয়ে ২০২৪ সালে একটি সার্কুলার জারি করে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান আইডিআরএ। এতে বলা হয়, মেরিন-কার্গো বীমা পলিসির বিপরীতে আমদানি করা পণ্যের বীমা ১০০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে বিদেশি পুনর্বীমাকারীদের মাধ্যমে এর রেটিং মান নির্ধারণ এবং পলিসি কভারেজ করতে পারবে। প্রাইম ইন্স্যুরেন্স বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে রেটিংয়ের সুযোগ নিতেই দুই প্রতিষ্ঠানের বীমা এক করে দেখিয়েছে। কারণ, সম্পদমূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি দেখাতে পারলে পুনর্বীমার প্রিমিয়াম কম দেওয়া যায়।

এই অনিয়ম ধরা পড়ার পর প্রাইম ইন্স্যুরেন্সকে আইডিআরএ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে। গত ১৩ জানুয়ারি কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই জরিমানা আরোপের কথা জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) মোহাঃ আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে জরিমানার টাকা বীমা উন্নয়ন ও নিযন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নামে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পাঠাতে নির্দেশক্রমে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক একাধিক অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের নাম একত্রিত করে একশ কোটি টাকার অধিক পণ্যমূল্য ঘোষণা দিয়ে হ্রাসকৃত প্রিমিয়াম হার আনয়ন করায় গত ২৪ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় আইডিআরএ। পরে ৩০ অক্টোবর প্রাইম ইন্সুরেন্স সেই চিঠির জবাবে জানায়, আইডিআরএ’র জারিকৃত সার্কুলার নন-লাইফ-৯৮/২০২৪ তাদের দৃষ্টিগোচর না হওয়ায় কোম্পানির অবলিখন বিভাগ ভুলবশত ডকুমেন্টটি ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে, যা গ্রহনযোগ্য বলে প্রতিয়মান হয় না । কর্তৃপক্ষের জারিকৃত উক্ত সার্কুলারের আলোচ্যসূচি ১৬ (১) এর নির্দেশনা মোতাবেক একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম একত্রিত করে ১০০ কোটি টাকার অধিক পণ্যমূল্য ঘোষণা দিয়ে হ্রাসকৃত প্রিমিয়াম হার আনয়ন করা যাবে না। সার্কুলার দৃষ্টিগোচর না হওয়া এবং নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ার জবাব সন্তোষজনক হিসেবে গণ্য করা যায় না বিধায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইহা হতে কোনোরূপ আনুকূল্য পেতে পারে না। সুতরাং সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং অনিয়মের গুরুত্ব বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ, বীমা আইন ২০১০ এর ধারা ১৩০ মোতাবেক বীমাকারী প্রতিষ্টান প্রাইম ইন্স্যুরেন্সকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
তবে আরোপিত এই জরিমানা মওকুফের জন্য ২১ জানুয়ারি আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছেন প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ। ওই চিঠিতেও তিনি সার্কুলার দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। জরিমানা মওকুফের যুক্তিতে বলেছেন, কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত কভার নোটের তারিখ ২০২৪ সালের ৬ মে। যা এ সংক্রান্ত সার্কুলার হস্তগত হওয়ার আগেই ইস্যু হয়েছে। সঙ্গত কারণে এর দায়ভার প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ওপর বর্তায় না।










