অর্থমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্ময়হীনতা
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
একটা দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বীমা কোম্পানিগুলির অবিভাবক যেমন আইডিআরএ (ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট রেগুলেটরি অথারেটি)। ঠিক একইভাবে ব্যাংকগুলির অবিভাবক হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাংকিং খাতের অবিভাবক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক কতটুকু দায়ীত্যশীল তা প্রশ্নবিদ্ব? ব্যাংকিং খাতকে ধরে রাখতে হলে তার জন্য দরকার সঠিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। এই অবকাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন প্রশাসনিক ব্যাবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। এর সবটুকুর জন্য দায়ী প্রশাসনিক পদে যারা যারা আছেন তাদের কর্ম কৌশল, যোগ্যতা, প্রশাসনিক দুরধর্ষীতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। আর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদের লোকেরা যদি দুর্নীতি ও লোভের স্বীকার হয় তাইলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ। দৈত নীতি কখনো কোন ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠা এবং দেশ কারোর জন্য বা কোন কিছুর জন্যই ভাল ফল বয়ে আনে না।
৫৪হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের জনবহুল দেশের একটি। আয়তন এবং জনসংখ্যার তুলনায় দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অধিক। আমাদের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত, ২৯টি প্রদেশের দেশ হিসাবে ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটিরও অধিক যার সবচেয়ে ছোট্ট প্রদেশটির আয়তনও আমাদের দেশের চেয়ে প্রায় আড়াইগুন বড়, কিনতু সেখানে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ২৬টির মত। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাংকের সংখ্যা দেশি বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬০টির মত। ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়াতে বিশাল জনসংখ্যার বিরাট একটা অংশের কর্ম সংস্থানও হয়েছে এই খাতে এবং দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে।
দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রচুর থাকলেও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ঋণ, কৃষি সহায়তা, ও কৃষক বান্ধব কোন ব্যাংক সেভাবে গড়ে উঠেনি। অতিতে কৃষি ব্যাংক কৃষকদের জন্য তৈরি করলেও গতবেশ কবছর থেকে কৃষিব্যাংক কৃষকদের কোন সহায়তা না করে শিল্প ও বানিজ্যিক ব্যাংকিংএ রূপান্তরিত হয়ে ঋণখেলাপিও শিল্প পতিদের লুটপাটের খাতে পরিণত হয়। সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার দুই বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় আরো তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার নির্বাচনী পুর্ব মুহুর্তে দেশে আর কোন নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা না থাকলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গ্রামিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা নিয়ে দেশের প্রান্তিক লেবেলের কৃষিজীবি, মৎসজীবি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সমাজের নিম্ন আয়ের লোকেদের ঋণ সহায়তা ও ব্যাংকিং সেবা দেওয়াসহ দেশের শিক্ষিত বেকার বিশাল জনগোষ্টির কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নিয়ে এএফসিআই ব্যাংক লিমিটেড,(এগ্রো ফাইনান্স এন্ড কমার্স ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড) নামে ১৪/১০/২০২০ তারিখে আরেকটি ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ করে অর্থমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়। যার মুল উদ্যোক্তা হিসাবে রয়েছে দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ অর্থনীতিবিধ ও সফল ব্যাবসায়ী, এর সমন্ময়ক হিসাবে কাজ করছেন হুমায়ন কবির পাটোয়ারী নামে একজন উদ্দ্যোগক্তা পরিচালক।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় দুজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সুপারিশ সম্বলিত আবেদনটি বিবেচনার জন্য অগ্রগতিসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ২২ নভেম্বর ২০১৮তারিখ সচিব অর্থমন্ত্রণালয় ও ২৯ নভেম্বর ২০১৮তােিখ গভর্ণর বাংলাদেশ ব্যাংকে পরবর্তি ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ের দেওয়া কিছু তথ্যাদির স্কেন কপি সংযোজন করা হইল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল সরকারের শীর্ষ মহল তথা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে মুল্যায়ন না করে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অদৃশ্যভাবে অর্থমন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যংকের সমন্ময়হীনতার কারনে মাঝপথে প্রস্তাবিত এএফসিআই ব্যাংটির অনুমোদন অগ্রগতি কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
একদিকে অর্থমন্ত্রণালয় যেমন চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে কোন নির্দেশনা দিচ্ছেনা অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও অর্থমন্ত্রণালয়ের কোন নির্দেশনা না পেয়ে উদ্দ্যোগক্তা পরিচালকদের কোন তথ্যাদি যাচাই বাচইয়ের জন্য জমা দেওয়ার জন্য ব্যাবস্থা করা বা যথায়থ ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে পারতেছেনা বলে জানা গিয়াছে। এমতাবস্থায় প্রস্তাবিত ব্যাংকটির অনুমোদন ও অগ্রগতির কাজের জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন প্রস্তাবি এএফসিআই ব্যাংকের উদ্যোগক্তা পরিচালকগন।










