অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনের সফল উদ্যোক্তা, দেশখ্যাত সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং লায়নিজম আন্দোলনের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব শেখ কবির হোসেনের জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ঐতিহাসিক শেখ পরিবারের মেধাবী সন্তান শেখ কবির হোসেনের পিতার নাম শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মাতা রাহেলা খাতুন। সমাজসেবার স্বীকৃতি হিসাবে তাঁর পিতা শেখ মোশাররফ হোসেন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত হন। শেখ কবির হোসেন তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত জি.টি. স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, জগন্নাথ কলেজ ঢাকা থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখাপড়া শেষে তিনি প্রথমে পরিসংখ্যান ব্যুরো, সোনালী ব্যাংক এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে তিনি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন।
শেখ কবির হোসেন বর্তমানে দেশের বীমা খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং এসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান। তিনি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ছোট বেলা থেকেই সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করতে গিয়েই এক পর্যায়ে তিনি লায়নিজম আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। শুরু হয় আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত এই সংগঠনটিকে ঘিরে নানামুখী কল্যাণমূলক কাজ। সাংগঠনিক দক্ষতা এবং গতিশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ১৯৯৫-৯৬ সালে লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি১ বাংলাদেশ-এর ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। পরবর্তীতে ২০০৫-২০০৭ সালে তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল-এর ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পান। দেশখ্যাত লায়ন ব্যক্তিত্ব শেখ কবির হোসেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট (রেডক্রস) সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি বেসরকারি খাতের অন্যতম মেডিক্যাল কলেজ হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ঢাকাস্থ দেশের অন্যতম ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও চক্ষু হাসপাতাল-এর ভাইস চেয়ারম্যান।
শেখ কবির হোসেন মনে করেন, এ দেশকে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যেতে হলে দেশের মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়েই তিনি দেশের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর মরহুম পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট।
শেখ কবির হোসেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্রাস্টি বোর্ড এবং গাজীপুর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব গভর্নর্সের সদস্য। তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সদস্য। তিনি ঢাকাস্থ গোপালগঞ্জ জেলা কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট। তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডেরও মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লায়ন শেখ কবির হোসেন বেশ কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল সোসাইটি ফর ব্লাইন্ডনেস এবং বাংলাদেশ ফ্যামিলি প্ল্যানিং এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। তিনি ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব, উত্তরা ক্লাব লিমিটেড, বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাব লিমিটেড, গুলশান নর্থ ক্লাব লিমিটেড এবং ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের সদস্য। একজন কৃতী এবং আলোকিত লায়ন হিসেবে তিনি বেশ কিছু পদক লাভ করেছেন। তিনি লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল, লিডারশিপ মেডেল, এমজেএফ (হাইয়েস্ট সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড), বাংলা ইয়ুথ ফোরাম থেকে শেরে বাংলা গোল্ড অ্যাওয়ার্ড-২০০০ এবং দেশবন্ধু সি আর দাস রিসার্চ কাউন্সিল থেকে দেশবন্ধু গোল্ড মেডেল লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লায়ন শেখ কবির হোসেন কর্মসুবাদে ও রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান, ইউএসএ, ইউকে, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, সাউথ কোরিয়া, ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, ইউএই, বাহরাইন, শ্রীলংকা, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, কেনিয়া, সৌদি আরব, সাউথ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে ও চায়নাসহ অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
শেখ কবির হোসেন বই পড়তে এবং ভ্রমণের মাঝে বেশ আনন্দ খুঁজে পান। শেখ কবির হোসেনের স্ত্রী মাসুদা কবির একজন সমাজসেবী নারী ব্যক্তিত্ব। এই দম্পতি এক কন্যা রুম্পা কবির এবং দুই পুত্র শেখ মুশফেক কবির (অভি) এবং শেখ মোসাদ্দেক কবির (অনি) এর জনক-জননী।
কৃতী বীমা উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব শেখ কবির হোসেন দেশের বীমা খাতকে আন্তর্জাতিক পরিম লের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দেশের বীমা ব্যবসার আওতা বৃদ্ধির ব্যাপারেও উদ্যোগী। তিনি মনে করেন, বীমা খাতের যতো উন্নয়ন ও প্রসার ঘটবেÑ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থাও ততো সমৃদ্ধ হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বীমা খাত থেকে সহসাই সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি দূরীকরণ সম্ভব হবে।
বর্তমানে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অনুমোদন লাভ করে, মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার প্রসারে বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে সামাজিক ও আর্থিকভাবে প্রভূত অবদান রাখছে। বর্তমানে সাড়ে চার লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করছে, যা দেশের মোট উচ্চ শিক্ষার ৬২% শিক্ষার্থী। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশাল একটি কর্মক্ষেত্রও সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে না যেয়ে দেশেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার সুবাদে প্রচুর মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগছে।










