গনভােটে ৭৭% হাঁ ভােট পড়ার কারনে আপিন যে সুবিদাগুলি পাচ্ছেন

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
দেশের চাবি এখন আপনার হাতে !!! অবিশ্বাষ্য হলেও সথত্য যে, গনভোটে ৭৭% হাঁ ভোট পড়েছে এবং ২৩% না ভোটা পড়েছে। এই ৭৭% হাঁ ভোট পড়ার কারনে দেশে গনতন্ত্রর ভিত আরো শক্ত হয়েছে, অর্থ্যাৎ, দেশের চাবি এখন আপনার হাতে রক্ষিত আছে। হাঁ জয়যুক্ত হওয়ায় আপনে যে সুবিদাগুলি পাচ্ছেন এবং
সংবিধানে নিম্নলিখিত ৪৭টি পরিবর্তন আনা হচ্ছে :
বাংলার পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রচলিত সকল মাতৃভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃত হবে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয়তা হিসেবে “বাঙালি”-র পরিবর্তে “বাংলাদেশী” প্রতিস্থাপিত হবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য আইনসভার প্রস্তাবিত নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য জাতীয় গণভোটের প্রয়োজন হবে।
মূলনীতি হিসেবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা-র পরিবর্তে সামাজিক সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিস্থাপিত হবে।
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সংজ্ঞা হিসেবে “সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিতকরণ” নির্ধারণ করা হবে।
নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা লাভের অধিকার এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে যুক্ত হবে।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি নিম্নকক্ষের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগ দিতে পারবেন, যা আগে কেবল প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করতে উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে।
অপরাধীদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে।
এক ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে এবং এটি শাসক দল, প্রধান বিরোধী দল এবং দ্বিতীয় বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত হবে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করা হবে।
সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে বণ্টিত ১০০টি আসন নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
নিম্নকক্ষে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ১০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন।
৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করা হবে, যা ফ্লোর ক্রসিং বা নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান নিষিদ্ধ করে।
জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো প্রধান আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য উভয় কক্ষের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে নিয়ে সংসদের দ্বারা গঠিত একটি বিশেষায়িত কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হবে।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতির সংখ্যা প্রধান বিচারপতির প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে এবং হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা একচ্ছত্রভাবে প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে, প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজন সংখ্যক হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হবে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হবে এবং অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দল ও দ্বিতীয় বিরোধী দলের নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আপিল বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতির সংখ্যা প্রধান বিচারপতির প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে এবং হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা একচ্ছত্রভাবে প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে, প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন করা হবে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হবে এবং অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দল ও দ্বিতীয় বিরোধী দলের নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের তত্ত্বাবধানে ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হবে।
পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।
সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে সংবিধানে একটি নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হবে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে; পাশাপাশি বিদ্যমান সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য)-এ বিভক্ত করা হবে।
কুমিল্লা বিভাগ ও ফরিদপুর বিভাগ গঠন করা হবে।