গোপন বাসীর কান্নাহাসি

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
আমার হৃদয়ের গহিন কোনে তুমি যে সুরের ঝঙ্কার তুলেছিলে, রিনি ঝিনি রিনি ঝিনি করে তা আজও আমার চলার পথের ক্লান্তিকে অবিরাম উৎসাহ ও উদ্ধীপনায় বিরামহীন ভাবে অগ্রগামী করে রেখেছে। এ কোন সুরের মুর্ছনা তুমি আমার হৃদয়ে টগবগ করে ছুটেচলা পাগলা ঘোড়াকে চাবুকের স্পর্শ ছাড়াই দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছ। তোমার ক্লান্তিহীন অগ্রগতির অনুভুতি আর অনুপ্রেরনায় যেন আজও আমি আমার চলার পথকে নির্ঝঞ্জাট ও জ্যামবিহীন পরিস্কার রাস্তাতে কাল্পনিক এসএসএফ এর নিরাপত্তা সহকারে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে চলার উদ্ধ্যামতাকে একটুও অশান্ত করতে পারিনাই। বুঝতে বুঝতে কখনো কখনো চলার সে গতি একটু ধির হয়ে আসতেই নিজেকে যখন হারিয়ে ফেলি তখন কোথাথেকে তুমি আবার এসেই আমাকে অনুভুতিপ্রবন করে তোল, তোমার কি কোন ক্লান্তি নেই, তুমি কি চলে গিয়েও কেন আমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হয়না,কেন তুমি ছায়া হয়ে আমার পাশে ঘুরাগুরি করছো, কেন তোমার এই গোপন হাতের ছোঁয়ায় আমার জীবনকে দোলায় দুলিয়ে রেখেছ, এ তোমার কোন যাদুকরি ছোঁয়া যা তোমাকে এক মুহুর্তের জন্য হলেও আমি ভুলতে পারিনা। তোমার সকল আশার প্রদ্বীপ তুমি জ্বালিয়ে দিয়ে তা সুরক্ষার জন্য আমাকে যে দায়ীত্ত্ব দিয়ে চলে গেছ আমি সেটা কতটুকু স্বঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি বা পারব আমার জানা নেই। তবুও চেষ্টাকরে চলেছি বাকি সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।
একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার লালিত স্বপ্ন যাকে নিয়ে পুরন করার দ্বার প্রান্তে উপনিত ঠিক সে সময় নিজ হাতের উপর একজন সবচেয়ে প্রিয় মানুষের চির বিদায় নেয়ার যে দৃশ্য খুবই হৃদয় বিদারক। প্রেম-ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। ভালোবাসা ছাড়া মানুষের জীবন অনেকটাই মুল্যহীন। প্রতিটি মানুষের জীবনেরই পরিপূর্ণতা আসে ভালোবাসার মাধ্যমে। আর এই ভালোবাসা কখন কীভাবে আসবে তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায় কারো কারো ক্ষেত্রে ভালোবাসা আসে বিয়ের পুর্বে এবং কারো কারো ক্ষেত্রে ভালোবাসা আসে বিয়ের পরে। অনেকের ক্ষেত্রে ভালোবাসাটা এমন পর্যায়ে হয়ে যায় যে, সেখানে বয়সের কোনো স্থানই পায় না। ভালোবাসার ছোঁয়া এমন একটা মুল্যবান জিনিসি যা অনেক সময় মানুষকে পুরুপুরিই বদলে দেয়, সেখানে প্রাচুর্য্য, ধন সম্পদ, বা অভাব অভিযোগ কোন কিছুই বাধা বা প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে পারেনা, বরং জীবনকে সফল সূখী ও সমৃদ্ধশালী করে তোলে এবং প্রাপ্তহিক জীবন পরিপূর্ণতা পায়।
সমাজ কখনো কাউকে ভাল কিছু দিতে পারেনাই পারেওনা, এটা নির্ভেজাল সত্যযে নিজেই নিজেকে তৈরি করতে হয় হয়তো এর কোন দ্বীমত নাই। ক্ষুধার নিকট পৃথিবী গদ্যময়, মৃত‌্যু সেখানে হাতছানি দিতে পারেনা। জীবন থেকে নিস্কৃতি পাওয়া যায় বটে দ্বায়ভার অন্যের ঘাড়ে চেপে বসে, কখনো কখনো পরিবারের উপর নেমে আসে দু:খ-কষ্ট ও অমানবিক যন্ত্রনা ইত্যাদি। নিজের প্রিয় মানুষটিকে যখন সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণকরে ভাল রাখতে পারিনাই তাই নিজের কাছেই নিজেকে সবসময় অপরাধী বলেই মনে হয়। আর এ অপরাধ বোধের কারনে নিজের সর্বময় অবস্থাও বাধ্য না হলে নিজের সন্তানদের নিকট প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয়না এবং করিনা। নিজের জন্য নাহলেও সন্তানদের জন্য হলেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং বেঁচে থাকতে হবে। তাদের দৈনন্দিন রিজিক দিবে কে? ভেবে চিন্তে কথা বলা ভাল বেপাস কথায় মানুষের মর্জাদা কমে যায় বুঝি, তাই নিজের ভাল থাকার চাবিটা যেন নিজে আগলে রাখি! দিনের শেষে ঘরে থেকে বা ঘরের বাইরে বেরিয়ে যদি বুঝি নিজে ভাল আছি, খুব কাছের ৪-৫টা মানুষকে অন্তত ভাল রাখতে পেরেছি, বুঝতে পারি যাদের জীবনে অন্তত আমার অস্তিত্বের মূল্যায়ন আছে – হয়তো বুঝব বেঁচে থাকার মানে টা এখন ও হারিয়ে যায়নি। সেই প্রদ্বীপ্ত আশা এবং উদ্দীপনা নিয়েই নিজেকে একটা দ্বীপ হিসাবে জ্বালিয়ে রেখেছি এটাই প্রকৃতপক্ষে আমার বেঁচে থাকার স্বার্থকতা।
আমার অনেক অযোগ্যতা আছে, একেতো স্বল্প শিক্ষিত কোন ডক্টরেট ডিগ্রীও নাই লেখালেখি যেটুকু করি তাও আবার কেউ পড়তে চায়না, দুএকটা লেখা কোন পত্র পত্রিকায় ছাপানো হলে নিজের লেখা নিজেই অনেকবার পড়ি
আর তৃপ্তি অনুভব করি মাঝে মাঝে বলি, এটা আবার কোন অপদার্থ লিখল, আর অমনি পত্রিকাওয়ালারাও লেখাটা
ছাপিয়ে দিল। কখনো কখনো চিন্তা হয় আমার মত একটা অপদার্থ লোক, কি ভাবে আমি এগুলি লিখি। চেহারা
একটা বাংলা পাঁচ বললেও কমই হবে, না কোন নায়ক রাজ, না অমিতাব, উত্তম কুমারতো কল্পনারও অতিত। অতিতেও আমার এসব অযোগ্যতার কম ছিলনা কিন্তু এগুলো সত্তেও একজন মহীয়শী নারী তার জীবনের শীরমনি করে আমাকে নিয়ে নিজের জীবনকে সাজিয়ে নেয়। দুই যুগেরও বেশী সময় জুগল জীবন চলার পর তার চলে যাওয়া আমার জন্য কাম্য না থাকলেও মহাকালের আমোগ নিয়মকে মেনে নিতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর নিজের এই অপারগতাগুলি অনেক বড় হয়ে আমার সামনে এসে দাড়ানোয় নিজেকে অসহায় বলেই মনে হয়, নিজে নিজেই বলি সুখ যে কি আসলেই জানতে ইচ্ছে করে, বুঝি সিদ্ধান্ত-সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নিজের দ্বিতিয় বিয়ের সম্বন্ধগুলো এক এক করে বাতিল হতে হতে জীবনের পাল্লায় বয়স অনেক ভারী হয়ে যাচ্ছে। এক এক সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে ইচ্ছে করে জীবনে আর বিয়ের কথাই ভাবব না, কিন্তু নিজের একটা অবলম্ভনের কথা চিন্তা করেই কঠিন সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসি। অতিতেও কালো সুন্দরের কোন গুরুত্ত আমার নিকট না থাকলেও শিক্ষা এবং ব্যক্তিত্বের গুরুত্বটা আমার নিকট অত্যন্ত অপরিসিম ছিল সবসময় যে কারনে তাকে নিয়ে আমি ছিলাম একজন পরিপুর্ণ মানুষ বর্তমানেও তার থেকে ব্যাতিক্রম কিছু আশা করিনা হউক বয়স্ক, তাতে কি?? প্রকৃতভাবে যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেদেরকে মানিয়ে নেয়ার মন মানষিকতা থাকলে গরু গাড়ীতে চড়েও সুখ পাওয়া যায়, মার্সিডিজ বা প্রাডো গাড়ীর দরকার হয় না।
এটা কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে আমার সাথে যখন ঠিকই কারো সম্পর্ক হবে তখন বুঝতে পারবে আমার বয়সের দুরত্ত্বটা তেমন কোন কিছুই নয় একজন পুরুষ হিসাবে আমি কতটুকু সমৃদ্ধ একটা মানুষ। আরো বুঝতে পারবে যখন দেখবে তোমাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বিচলিত গলায় আমার দুই মেয়ে বলবে তুমি এসেছ? এতদিনে তোমাকে খুজে পাওয়া গেল, আর তুমিও এতদিন পর বুঝি আমাদেরকে দেখতে ইচ্ছে হলো! আস তোমার ঘরে আস, বাবার এবং আমাদের সব দায়িত্ত্ব বুঝে নাও, এটা তোমার ঘর। আজ থেকে তুমি কোথাও যেতে পারবেনা আমাদের রেখে, মা কি তার সন্তানদের দুরে রাখে? দেখবে মানুষ সম্বন্ধে তোমার ধারণাটা সত্যিই বদলে যাবে।
ছাফারা নামে এক অল্প বয়সি ডাক্তার আমার বড় মেয়ে এসে তোমাকে বলবে, ‘তুমি কিন্তুু আমাদের মা, ঠিক না?’ পাশের রুম থেকে তাজরী নামে প্রায় ১৯ বছরের একটি মেয়ে দৌড়ে এসে বোনকে বলবে, ‘উনি কে আম্মু?’ আমি দুজনকে সহ জড়িয়ে ধরে বলে দেব, ‘তোমাদের মা।  দেখে তোমার মনে হবে, ওরা তোমারই দুই মেয়ে। ওরা তোমাকে মা ছাড়া অন্যকেহ বলে মনেই করবে না তোমাকে তোমার মেয়েরা অনেক সম্মান দেবে।’ বুঝতে পারবে তুমি ওদের নিকট কত প্রিয়। তোমার জীবনের উপলব্দিটাই চেইঞ্জ হয়ে যাবে।
আমার মেয়েদের রান্না অত্যধিক সুস্বাদু, ওরা সব রকম রান্না করতে পারে। অতিত দিনের গ্রামীন মানহীন রান্নায় যেমন সিরনি, আটার হালুয়া, গুড়ের জাউ এগুলি ভাল রান্না ভাল করে না পারলেও বর্তমান সময়ের পিঠা, পায়েস, সেমাই, জর্দ্দা, চিকেন রোষ্ট, চিকেন ফ্রাই ও অন্নান্য আধুনিক রান্নায় ওরা বেশ পারদর্শী এটা অস্বীকার করার মত নয়। ওদের মায়ের হাতের রান্না ছিল খুব দারুণ সুস্বাধু এবং সকলের নিকট খুবই পছন্দনিয় ও সমাদ্রিত। লতি দিয়ে ইলিশ মাছ, কবুতরের বাচ্চা, পটল ভাজা, গরুর ভুনা আর বিভিন্ন পদের ভর্তা, এক কথায় রান্না ছিল দারুণ প্রশংসনীয়। মাঝে মাঝে তার কাজে আমার একটু সহযোগিতা সে অন্তর দিয়ে উপভোগ করত যা তাকে না দেখলে বুঝা যেত না। জীবিতাবস্থায় বা তার জীবদ্ধশায় মেয়েদেরকে কখনোই কোন কাজ করতে দিতনা নিজেই সংসারের সর্বদিক সুন্দরভাবে সামলিয়ে রাখত, মেয়েদেরকে কাজ শিখানোর জন্য কেউ বললে সে বলত ওরা লেখাপড়া করা আধুনিক মেয়ে, যথাসময়ে নিজ জ্ঞ্যানে বইদেখে সব শিখে ফেলবে। আমি থাকতে ওদের এবয়সে রান্নাবান্না নিয়ে ঝামেলা করে পড়ালেখার ক্ষতি করার দরকার নেই।
আমার মাকে দেখতাম কাকডাকা ভোরে উঠে নামাজ এবং কোরান তিলাওয়াত সেরে বাসার সবার জামা-কাপড় সাবান সোডা দিয়ে ভিজিয়ে রেখে ঘরে ফিরে আমাদের সবার জন্য নাস্তা তৈরির কাজে লেগে যেতেন। আমরা সকলে স্কুল কলেজে চলে গেলে মা দুপুরের রান্নাবান্না সেরে সকলের কাপড় চোপড় ধোয়ে সেগুলো রোদ্রে মেলে দিয়ে সংসারের সকল কাজকর্ম শেষ করে ফ্রি হতে হতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে যেত, মনে পড়ে, কাজের চাপে সারা দিনে কখনো মাকে ঘুমাতেও দেখতাম না! আমি নিশ্চিত থাকতাম,বিকালে আমরা সবাই বাসায় ফিরে আসার পুর্বেই মা আমাদের বিকালের নাস্তাটাও রেডি করে রেখে দিতেন। আমার মা আসলে কিভাবে এত কাজ করতেন তা আমার মাথায় আসতনা। তার মানে আর যাই হোক না কেন তিনি নিজের সুখকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমাদের সকলকে মানুষ করার যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এগিয়েছেন, সেই ছোট্টবেলার আমি বুঝতে না পারলেও বড় হয়ে বুঝেছি, আমার মায়ের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি। এবং এই সমাজেই আমার মা রত্নগর্ভা সম্মাননা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেচেছিলেন! মায়ের অবর্তমানে এখন আমরা ছেলে মেয়েরা বুঝতে পেরেছি মায়ের তুলনায় আমরা তার জন্য কিছুই করতে পারিনাই বললেও অনেক কম হবে।
আমার মায়ের জ্ঞানের ভান্ডার খুব ছোট, বড় বড় কোন ডিগ্রী না থাকলেও তার জ্ঞানের পরিধি ছিল অনেক বড়, যার কারনে তিনি অতগুলি ছেলে মেয়েদের জীবনে আলোর দিশারি হয়ে সকল কে ভিন্ন মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছেন। বাবার স্কুলের সহকর্মিরাও আমার মায়ের সুনাম ছাড়া কোন মন্তব্য করতে শুনি নাই,এটা আমি সেই ছোট থেকেই বুঝতে পারতাম। আমার মায়ের জীবনি নিয়ে আমি নিশ্চিত বলতে পারি, আমার মা আমার এই ছোট্ট জীবনে দেখা অল্প কিছু অতিরিক্ত মাপের মেধাবী মানুষদের একজন ছিলেন। আমার খুব হিংসা হয় যে, প্রজ্ঞা, মেধা, উপস্থিত বুদ্ধিতে আমি ও আমরা কেউই আমার মায়ের যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে উঠতে পারিনি। সংসারের প্রতি ভালোবাসা ব্যাতিত মাকে কখনো কোন অযথা কাজে সময় ব্যায় করতে দেখিনি, এমনকি পরিবারের চাপে, কখনোবা সুযোগের অভাবে বাবার সাথে তর্কবিতর্কে জড়াতেও দেখিনি। মোটকথা একজন প্রথিতযসা নারী হিসাবে তিনি ছিলেন সকলের নিকট সমাদ্রিত।
মনের আবেগ অনুভুতিটাকে কখনো কারো নিকট প্রকাশ করে বা ফুটিয়ে দেখাতে পারিনি, এখনো পারিনা। কেমন যেন একটা বিকট জিনিস গলা আর বুকের মধ্যখানে আটকে আছে। মেডিকেলের ভাষায় রিপ্লাক্স এসোপেজাইটিজ নামে এ অবস্থাটাকে কোনক্রমেই সরাতে পারিনা। অনেক অক্ষমতার মাঝে এটাও একটা। জীবনের অনুভুতিগুলি সুপ্তালোকে সময়ে সময়ে নিজেকে এসে তাড়া করে। অনেক অক্ষমতার কারনে নিজের কাছে নিজেই পরাজিত হয়ে থাকি, কাউকে বুঝাতে চেষ্টা করি না, যদিও এটা নিজের শরীর ও মনের প্রতি আত্মঘ্যাতিও হয়। হয়তো বর্তমানে আমার জন্য এই চিন্তাটা করার মত কেহ দুনিয়াতে বেঁচে নেই। সমাজ তো সবসময় মানুষের ভাল দিকটা নিয়েও সমালোচনা করতে পারে আবার খারাপ দিকটা নিয়েও সমালোচনা করতে পারে। কেন আমরা বাস্তবতা দিয়ে সমাজকে বা প্রত্যেকটা মানুষকে বিবেচনা করতে পারি না?
সমাজ কে ক্লান্ত হয়ে বলতে ইচ্ছে করে “দেখ, চেয়ে দেখ কি নিদারুণ রক্তক্ষরণ আমার ভিতরে, কি ভীষণ বুক ভাঙ্গা কষ্ট আর চাপা অভিমান! এবার কি তোমারা সবাই খুশি তোমাদের মনের ক্ষোভ কি মিটেছে? হাঁ তাই হোক, তোমাদের সকলের আসাই পূর্ণ হোক। তবে আমার মুক্তির পথটা যে এবার কোথায় তা তোমরা একবার বলে যাও!” যাক এইসব মানষিক কল্পনা ও অবাস্তবতার আর্তনাদ ছেড়ে এবার বাস্তবে ফিরে আসি! একজন নারী বা একজন পুরুষের ভূমিকাটা ঠিক কি হলে সমাজ খুশি সেটা আসলে এই সমাজও জানে না! একদিকে লোক দেখানো প্রগতিশীলতার প্রতি আমাদের অত্যধিক মোহ এবং অন্যদিকে সকল কিছুর সংস্কার এর জন্যেও মায়া দেখাই! কি আজব আমাদের অবস্থা ভাবা যায়না এবং নিজেও ভাবতে পারিনা। আমাদের আধুনিক এবং অত্যাধুনিক সমাজকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে – “কান্নাটা শুনতে পাচ্ছ তো ঠিক ঠাক মত? এখন খুশি তো তোমরা? তবে এবার কি বলে দেবে, এর থেকে মুক্তির পথটা কোথায়?” এদিকে যিনি ঘরের বাইরে আছেন, তার কি অবস্থা, আবার যিনি ঘরের ভিতরে আছেন তার কি অবস্থা একটুও কি চিন্তা করেছে এ সমাজ ??
সকালে ঘুম থেকে উঠেই হিসেব মিলাতে হয় বাচ্চাদের নাস্তা তৈরি করিয়ে খাইয়ে দিয়ে রেডি হতে বলে নিজেও রেডি হয়ে তাদের গন্তব্যে পৌছানোর ব্যাবস্তা করে দেওয়ার পর নিজের কাজে বেরিয়ে যাওয়াসহ প্রস্তুতিমুলক কাজগুলি সেরে নিজের কোন অনুভুতি বা আকাঙ্খার কোন মুল্যায়ন করার যে একটা ইচ্ছা থাকে তা আর পুরণ করার সময় হয়ে উঠেনা। নিজেকে নিজে ধিক্কার দেই এই কোন জীবন আমার, যার সান্নীদ্দ্য জীবনটাকে অনুপ্রানীত করেছিল, যার প্রেরনায় এতটুকু কষ্টকেও কষ্ট মনে হয় নাই কিন্তু আজ জীবনের একটা সময়ে এসে তার অনুপুস্থিতি জীবটাকে তালগোল পাকিয়ে দিয়েছে। নিজের কাছেই নিজেকে আপদস্ত আর মুল্যহীনই মনে হয়। অনেক কিছু দেখার ইচ্ছা থাকলেও দেখতে ইচ্ছা করেনা। অনেক সময় দেখি সকাল থেকে বুকের কোথায় যেন একটা চিনচিনে ব্যথা হয় কেউকে বুঝাতে পারিনা আর কেউ বুঝতেও চায়না। দিন গড়িয়ে বিকাল, মস্তিস্কে যে একটা জগদ্দল পাথর আটকে আছে তাতো সরাতে পারিনা, কারণ কলেজ ভার্সিটি শেষ করে বাচ্চারা নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারছে বা পারতেছে কিনা জানিনা! মাঝে মাঝে নিজের অসহায়ত্ত্বটাকে নিয়ে নিজে নিজেই আর্তনাদ করি বুঝিনা কি করবো, এভাবে মনের ভিতর জমে থাকা চাপা আর্তনাদ নিয়ে ঘুমহীন বহুরাত কেটে যায় কিছুই করার থাকেনা। এ ভাবে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সকালে উঠেই আবার একই নিয়মের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে নিতে হয়, মুখ ফুটে কিছু বলতে পারিনা। আর এই না বলা কথাগুলি নিজেকে কুঁকড়ে কুঁকড়ে খাচ্ছে, নিজেও আস্তে আস্তে নিজের মাঝেই হারিয়ে যাই। মাঝে মাঝে বাসায় ফিরতেও এত দেরি হয়, তখন আবার চিন্তা হয়, বাসায় কেউ কিছু ভাবছে নাতো? ঠিক নিজেকে ফিরে পেয়ে বুঝতে পারি কে আবার কি ভাববে, ভাবার লোকের স্থনটাতো শূন্যতায় পড়ে আছে…। সবশেষে – “আমাকে কি কেউ ভাল স্বামী বা ভাল বাবা অথবা ভাল মানুষ বলবে? আমি কি আসলেই একজন ভাল স্বামী বা একজন ভাল বাবা অথবা একজন ভাল মানুষ”?
============