
(যাকে হারিয়ে এ লেখা, একাকিত্তের ছবি আঁকা)
(“দুষ্টি কলম” টা আমাকে ছাড় দেয় না, কেন যে আমার সারাদিন লিখতে ইচ্ছে হয়, সেটা আমি নিজেও বুঝিনা, যখন দেখি পেটে বোমা মারলেও একিট শব্ধ বেরিয়ে আসার কোন যোগ্যতা নাই, তখন বুঝি, আসলে আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা শুধু অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া...।) ……….খোন্দকার জিল্লুর রহমান

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
ঝড়ো হাওয়া তেমন একটা না থাকলেও সারাদিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, গত দুই দিন থেকে হালকা হালকা বৃষ্টি হলেও বিকাল থেকে বৃষ্টির মাত্রাটা মোটামোটি বেড়ে যায়, জীবন জিবিকা, কাজকর্ম, চলাচল, ব্যবসা বানিজ্যে মনে হল যেন গত তিন দিন থেকে একটা স্থবির অবস্থা। আবহাওয়ার পুর্বাবাস বলছে নিম্নচাপটা আজ রাতের মধ্যেই সিমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ঊড়িষ্যা ও আশপাশের জেলাগুলিতে আঘাত হানবে। বেশীরভাগ নিম্নচাপ ও গুর্ণিঝড় চট্টগ্রাম হয়ে দেশের পূর্বাঞ্চল দিয়ে ভারতের দিকে ধাবিত হয়। ঢাকায় কখনো কখনো কিছুটা ঝড় বৃষ্টি হলেও তেমন প্রলয়ঙ্কারি কিছু একটা হয়না, বড়জোর শহরের দু-একটা পুরাতন গাছ উপড়ে ফেলে দিয়ে পরদিন থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটতে থাকে এবং বিকাল থেকে রোদ্র দেখা যায়। কিন্তু ঐসব ঝড়ের কথা মানুষ তেমন একটা মনে রাখেনা বা রাখতে পারেনা। ছোটখাট ঝড়ের কথা মানুষ ভুলে গেলে ও বড় ঝড়ের কথা মানুষ তো ভুলতে পারেনা, আর এ ঝড় যদি প্রাকৃতিক ঝড় না হয়ে কারো হৃদয় ঊপড়ে ফেলার ঝড় হয় সেটাকে কোন পরিবর্তন কিংবা নিরাময় করা যায় কিনা বুঝা মুশকিল। ২০১৭ সালের ২৬শে জুলাই, ঝড়ের তান্ডব রাত্র সাড়ে ১২টা বা ১টার দিকে শুরু হয়ে ভোর ৫টার দিকে যখন চারদিকে বাজতে ছিল “আসসালা-তু খায়রুম-মিনান্নাউম (নিদ্রা হতে নামাজ উত্তম)” ঠিক তখনই আচমকা অন্য একটা গুর্ণী ঝড় একসাথে আজানের ও হৃদয় ভাঙ্গার বিকট শব্দে আমার শৈল্পিক হৃদয়ের মাধুরি দিয়ে ২৭ বছরের যতেœ গড়া প্রিয় গাছটির ঢাল পালা ভেঙ্গে পারিবারিক জীবনের মুল উৎপাটন করে আমাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে তার চলে যাওয়া আমি আজও মেনে নিতে পারি নাই। একটা পুর্ণিমা চাঁদ আমার হাত থেকে খসে পড়ে যাবে এটা জীবনে কখনো বুঝতে পারি নাই। ১৯৯১ সালের ১০ই মার্চ রাতে আবির্ভুত হওয়া একটা পুর্ণিমা চাঁদের আলো যে জীবন টাকে আলোকিত করে পথ চলা শুরু করিয়েছিল, মনে হয়েছিল প্রতিটা রাতই আমাদের পুর্ণিমা রাত, ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে চাঁদের কপালে চুমু খেয়ে প্রতি দিনের ক্লন্তিহীন পথ চলার যে প্রেরনা দিয়েছিল তা মুহুর্তের মধ্যেই পূর্ণ চন্দ্র গ্রাসের মত সেই জীবনটাকে তচনচ করে দিয়ে যাবে। একটা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে ঝাপটে ধরেও তাকে রক্ষা করতে পারিনাই, এই অক্ষমতা নিয়ে বেছে থাকার অধীকার কত টুকু আছে? দুহাতে বুকে জড়িয়ে রেখেও সৃষ্টিকর্তার বিচার থেকে প্রিয় মানুষটাকে রক্ষা করতে না পারার গ্লানি সয্য করে হাসপাতাল থেকে তারই মৃত্যু সনদ নিজের হাতে সই করে নেওয়ার কষ্ট আমার স্বপ্নিল জীবনটাকে বিধ্যস্থ আর নির্বাক করে দিয়েছে। নির্বাক দৃষ্টির পরাজিত সৈনিক হিসাবে এখন জীবনের অমানিশায় জাগ্রত থাকা প্রতিটা রাতই কাটে বিমুর্ত রাত্রির প্রহর গোনা পরিশ্রান্ত মনের মানুষ হিসেবে।
পাথর ক্রাস করার মেশিন দেখা যায় এবং স্বশদ্ধে পাথর ক্রাস করে রাস্তা তৈরি করার জন্য,শরিরের পাথর (কিডনিতে, স্টমাকে, মুত্রথলিতে,পিত্তথলিতে) ক্রাস করার মেশিনটা শুধু দেখা যায় কিন্তু ক্রাস করার শব্দ শোনা যায় না, আর হৃদয় ক্রাস করার মেশিন এমনই এক মেশিন যা দেখা তো দুরের কথা তার শব্ধও শোনা যায়না। এটা এমন ধরনের মেশিন, এটা শুধু হৃদয় দিয়েই তৈরি করা যায়, এক বার নষ্ট হয়ে গেলে এটাকে আর ঠিক করা যায় না। এটার কোন স্পেয়ার পার্স (খুচরা যন্ত্রাংশ) আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নাই এবং পাওয়া যায় না।
তাজ মহল সম্্রাট শাজাহানের অমর কির্তী, যাহা তৈরিতে ২২ হাজার লোকের ২০ বছর সময় লেগেছিল। যমুনা নদীর তীরে এই অমর কির্তী আজও সম্রাট শাজাহানের প্রিয়তমা স্ত্রী মমতাজ বেগমের প্রতি অমলিন ভালবাসার স্মৃতি বহন করে আছে। ভালবাসা যে কি, এটা কখনো কোন ওজনে বা পরিমাপের মানদন্ডে মাপা যায় না, যে ভালবাসার কাছে ২২ হাজার লোকের ২০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম কোনো কষ্টের হয়ে দাড়ায় নাই। প্রয়োজনে আরো বেশী দরকার হলেও সেই ভালবাসার মুল্যায়ন করতেন। স্বাধ ও স্বাধ্যের হিসাবটা না থাকলে হয়তো সম্রাট শাজাহান ও এ অমর কির্তী তৈরিতে বিফল হতেন আমারই মত। যে কল্পনাটা আমি বার বার করেও কল্পনাতেই হেরে গেছি, আসলে খোলা মন আর খালি হাতে কি আকাশ চোঁয়া যায়? আর আমার মত একটা আকাশ কুশুম কল্পনা বিলাসি সাধারন লোকের কল্পনা কল্পনাতেই থেকে যায়, কারণ যার প্রচুর আর্থীক সিমাবদ্ধ্যতার কারনে নিজের প্রিয়তমার চিকিৎসা সেবাটাও নিজের মনমত করার ক্ষমতা থাকেনা, তার ভালবাসাতো দুরের কথা বাস্তবে সকলের নিকট অবমুল্যায়ন আর তিরস্কার ছাড়া কি পাওয়ার আছে? প্রকৃতপক্ষে ভালবাসার তুলিতে হৃদয়ে যে ছবি আঁকা যায় তা শুধু স্মৃতির পাতায় চির দিন জীবন্ত থেকে যায় বাস্তবে কাউকে দেখানো যায় না এবং স্মৃতির পাতা থেকেও তা মোছা যায়না। একটু অবসর পেলেই চোখের সামনে তা কল্পনাতেই ভেসে উঠে নিজেকে পিড়া দেয়, করে রাতের ঘুম হারাম, অবাক দৃষ্টিতে নির্গুম থাকতে থাকতে সান্তনার সুরে মনে মনে একটাই গান গাই “বিমুর্ত এই রাত্রি আমার মৌনতার সুতোয় বোনা একটি রঙ্গিন চাদর.., সেই চাদরের বাঁঝে বাঁঝে নিশ্বাসেরই ছোঁয়া.., আছে ভালোবাসার আদর…। কিন্তু বাস্তবে আমার এই বিমুর্ত রাত কাটানোর স্মৃতি ভালবাসার আদর বঞ্চিত করে আমাকে বহু দুরে নিয়ে গেছে, সেই দুর থেকে ফিরে আসাটাও আমার জন্য কষ্টস্বাধ্য ব্যপার। প্রিয় মানুষের চিকিৎসাসেবা মনমত করতে না পারার দহন আমার শরির, মন, চিন্তা,এবং জীবন চলার গতি, শক্তি সহ সব কিছুকে দাহ্য করে করে যাচ্ছে, দাম্পত্য জীবনের কোন দায়িত্ব অবহেলা না করেও সৃষ্টিকর্তা আমাকে বরাধ্য দেওয়া প্রিয় মানুষটিকে রক্ষা করতে পারিনাই বলেই নিজের কাছে নিজেকে আজ অপরাধী মনে হয় এজন্য নিজের প্রায়চিত্ত নিজেরই করা উচিত, যার কারনে কখনো কখনো শরির খারাপ হলেও কাউকেই বলিনা বলতে ইচ্ছে করেনা এমনকি নিজের মেয়েদেরও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি বলার চেষ্টা করিনা।

২২ হাজার লোকের অক্লান্ত পরিশ্রমে যে কাজটি ২০ বছরে করে সপ্তম আর্শ্বায্যের একটা ইতিহাস তৈরি করে রেখেছেন, আমি তা করতে পারিনাই কিন্তু আমার শরিরের প্রতিটা কোষ এবং প্রতিটা রক্ত বিন্দুকে একজন দক্ষ ও পরিশ্রমি শিল্পি হিসেবে ধরা হলে এরকম কোটি কোটি শ্রমিকের প্রায় ২৭ বছরের (উদৃত সময়টা ছিল ১৯৯১ সালের ১০ই মার্চ রাত ১১টা থেকে ২০১৭ সালের ২৬শে জুলাই ভোর ৫টা) সুক্ষ বিনির্মানে তিল তিল করে যে তাজমহল গড়ে তুলেছিলাম তা ২৭ মিনিটেরও কম সময়ে নদীর কুল ভাঙ্গার মত আমার জীবনটাকে ভেঙ্গে তচনচ করে অতল গভীরে তলিয়ে দিয়ে গেল, নিজেকে মনে হয় মুকুটহীন রাজা। মুল্যহীন ব্যক্তি হিসেবে আমার সেই ছাপড়া ঘরের রাজ প্রাসাদটি এখন নিশুথি রাতে গুমরে কাঁদে। নির্বীকার জীবনের আকুতি এখন আর কাউকে বলতে পারিনা, বলতে গেলেও অনেকের হাতের মার না খেলেও ঠোঁটের মার খেতে হয় এটাই নিয়তি। একজন মহান ব্যক্তিত্বশীল নারী হিসাবে আমি তাকে কতটুকু ভাল বেসেছি তা বিচার করার ক্ষমতা আমার নাই কিন্তু আমার শরীর, মন, আশা-আকঙ্খা, সৌন্দর্য বিলাসিতা সহ হৃদয়ের সবটুকু নিরবে সে দখল করে নিয়েছে, যে আমাকে একা থাকতে দেবেনা আমার কষ্ট হবে বলে এক দিনের জন্যও অন্য কোথাও থাকেনাই শেষ পর্যন্ত সে-ই চিরদিনের জন্য আমাকে একা করে রেখে দিয়ে যাবে তা বুঝে উঠার পুর্বেই তার এভাবে চলে যাওয়ার রক্তক্ষরন এখনো বন্ধ করতে পারিনাই বটে, ভবিষ্যতে ও পারব কিনা জানিনা। চেষ্টা করে যাকে নিজের জীবনের চেয়ে ও বেশি ভাল বেসেছিলাম, যার সৌন্দর্যে নিজেকে সুন্দর করেছিলাম সেই ভালবাসা থেকে সৃষ্টিকর্তাই যেখানে আমাকে একাকি করে দিয়েছেন সেখানে মানুষের বিরাগ ভাজন হওয়াটাতো স্বাবাবিক। সাধারনত আমরা দেখি, মানুষ যখন ডুবতে বসে তখন খড় কুটা ধরে হলেও বাঁছতে চায়, কিন্তু খড়কুটা ধরে কি আর বাঁচা যায়? লাইফ সাপোর্ট নিয়ে যেমন সারা জীবন বাঁচা যায়না কেবল জীবনের সঙ্কটময় মুহুর্ত পার করতে হয়, ঠিক তেমনি সুখময় জুগল জীবনের গতি ধারার অবস্থান মাঝপথে নষ্ট হয়ে গেলে বা থেমে গেলে কাউকে না কাউকে অবলম্বন করে জীবনের বাকি সময়টা পার করতে হয়। আবার ভগ্ন জীবনের এই গতি ধারাতে ও যদি আবারো কোন রকম ভুল হয়ে যায় সে ভুলের মাশুল হিসাবে আনাকাঙ্খিত ভাবে জীবন দিয়েই তার প্রায়চিত্ত করতে হয় এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
স্নেহমমতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং আদর সোহাগ মানব জীবনে অপরিহার্য্য অংশ, এটা না থাকলে মানুষ হিংশ্র প্রানির চেয়েও অধম হয়ে যায়। পরিবরের বয়োজেষ্টদের আচার আচরন, লোভ লালসা, অতৃপ্ততা এবং মনের সঙ্কির্ণতার ঊর্ধ্বে থেকে (অসন্মান করে নয়) উভয়ের স্নেহ মমতা ও নিজেকে সংযত রাখার অভিপ্রায় যৌথ জীবন বা দাম্পত্ত জীবনকে অত্যদিক সুন্দর এবং সুখময় করে তোলে, যেটাকে স্বর্গ সুখ বলা চলে, তার ব্যতিক্রম হলে বা লোভ-লালসা স্নেহমমতা, ভক্তি, শ্রদ্ধাবোধ, অপ্রাপ্তির মনমানষিকতা, রাগ বিরাগ এবং নিজেকে সকলের সাথে মানিয়ে না নেয়ার প্রবনতা থাকলে জীবন নরকের চেয়েও খারাপ হয়ে যায়।। আমরা জানি “আগুন যখন ছোট হয়ে জ্বলে, তখন আলোক বিকিরন করে আর সেই আগুন যখন বড় হয়ে জ্বলে তখন সব কিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়”। স্নেহের পরসে যেমন জীবন সুন্দর হয় ঠিক তেমনি উভয়ের স্নেহ মমতায় মাতৃত্ব জেগে উঠে। সেই আকণ্ঠ নিমজ্জিত বালবাসার মমতায় আমাদের সুখি জীবনের প্রথম উপহার পাই ১৯৯৪ সালে এবং দ্বিতীয় উপহার আসে ২০০১ সালে, আমরা উঠে আসি স্বপ্নচুড়ায়। দুই কণ্যা সন্তান সহ পারিবারিক ভাবে আমরা চারজন সুখের জোয়ারে ভাসতে থাকি। অঘাধ বিশ্বাস ছাড়া কোন রকম মিথ্যা সন্দেহ, মিথ্যা প্রলোভন, কঠিন বাস্তবতার কোন কষাঘাতই আমাদের সুখ সমৃদ্দিকে একটুও নষ্ট করতে পারেনাই, পারেনাই আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে, সব সময় মনে হত ফুলের কানে ভ্রমর এসে নিরবে বলে যায়, তোমার আমার দুটি হৃদয় সারাক্ষন জড়িয়ে থাকতে চায়, মাযে মাযে তাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম, হৃদয়েরও মনের আদরিনি বউ আয়লো কাছে আয়, এই তৃপ্ততার শেষ কোথায় তখন তা অনুভব করতে পারিনাই। বাইরের কাজকর্ম সেরে বাসায় ফিরে এসে দরজা নক করার সাথে সাথে বুঝে যেত আমার আগমন, তার নিজ হাতে দরজা খোলার পর তার তৃপ্ত দৃষ্টি আমার সমস্ত দিনের ক্লান্তিকে মুহুর্তের মাঝে মুছে দিয়ে মনে হত আমরাই আল্লাহর শৃষ্ট পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখি মানুষ।
কিন্তু অপ্রত্যাসিতভাবে তোমার অনাকাঙ্খিত চলে যাওয়ার পর থেকে আমি একটি রাতও সুখে ঘুমুতে পারিনাই। তুমি দেখে যাওনাই বটে, তোমার রেখে যাওয়া দায়িত্ব শতভাগ পালন করতে চেষ্টা করেচি। তোমার নাড়ীকাটা ধন দুই মেয়ে, বড় জনকে ডাক্তার হিসাবে দেখতে না পারলেও সবচেয়ে সন্মানজনক পেসার ডাক্তার বানিয়ে তার অভিষ্ট লক্ষে পৌছে দিয়েছি, প্রয়োজনে সব রকম ত্যাগ স্বিকার করে হলেও তোমার ছোট মেয়েকেও তার নির্দিষ্ট লক্ষ অর্জন থেকে বঞ্চিত করবনা। প্রিয় মানুষের রেখে যাওয়া দায়িত্য পালন করতে গিয়ে মাঝ পথের কোন একটা ভুল জীবনটাকে আরো অভিশপ্ত বানিয়ে দিয়েছে। আসলে আমি মানুষ চিনতে করেছিলাম ভুল,এটা ছিল রং করা পুতুল, তাই কিছু ভুলের মাশুল সারা জীবন দিতে হয়। যখন সোনায় সোহাগা না দিয়ে সোনায় তামা বা পিতল দেওয়া হয় সোনার অবমুল্যায়ন হয় সাথে সাথে এর ব্যবহার কারিকেও অবমুল্যায়িত করা হয়। রং ফর্শা কারি ক্রিম কালো মানুষকে সুন্দর করতে পারে কিন্তু কালো মনকে কখনো সুন্দর করতে পারেনা। নরম ঘাসের মাথায় জমে থাকা এক ফোটা শিশিরে ভোরের সোনালি রোদ পড়ার সাথে সাথে যেমন মুক্তার মত আলোক রস্মি চারিদিকে ছড়িয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, সাগরের বিশাল জলরাসি তা করতে পারে না, এটা আমারই ব্যর্থতা যে, আসলে বানরের গলায় মুক্তার হার শোভা পায়না, সব কিছুকে ফল মনে করে দাঁতে কেটে ফেলে। তবুও মনে প্রানে দোয়া করি সব অন্ধকার কাটিয়ে যেন ভোরের সোনালি আলোয় আলোয় জীবনটা আলোকিত হয়ে উঠে, রুদ্রু-ছায়ার খেলা যাতে না থাকে। প্রত্যেকটা মানুষকে এটা মনে রাখতে হবে যে ‘পথে হাটতে গিয়ে পায়ে কাঁটা ফুটলে হাটা বন্ধ করে পথ পরিহার করতে হয় না,পায়ের এবং পথের কাঁটা গুলো পরিস্কার করেই পথ চলতে হয়’। সারাক্ষন কারো দোষত্রুটির দিকে না তাকিয়ে নিজেদের দোষত্রুটি গুলির দিকে তাকাতে হয়। লোভ-লালসা,রাগ-বিরাগ,মনের সঙ্কির্নতা যেমন জীবনকে কষ্টদায়ক করে তেমনি এসব পরিহার করে সকলের সাথে সুন্দর ব্যবহার সু-সম্পর্ক, যোগাযোগ এবং মতামতের আদান প্রদানের মাধ্যমে জীবন সুখের করে তোলে। সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা এই যে পরবর্তিতে যেন আর কোন ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। জীবনের শেষ বাটে এসে কেহই যাতে কারো ঘাটের মড়া না হতে হয়, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে এবং সকলের শৈল্পিক মনের মমতা তৈরির অপেক্ষায়।
প্রিয়তমার জন্য..
তোমাকে যেন ভুলে না যাই, সে আসিস দাও মোরে
মরনের পরেও তোমায় যেন কাছে পাই…।
লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন মানবাধীকার কর্মী।












