অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রায়। দেশের সবচেয়ে বড় এই কেন্দ্র যৌথভাবে নির্মাণ করবে জার্মানির সিমেন্স এজি এবং বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)। আমদানি করা এলএনজি দিয়ে চলবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
দুই দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এ প্রকল্পের দুই দশমিক ৪০ বিলিয়ন আসবে ঋণ থেকে। বাকি ৪০০ মিলিয়ন ডলার থাকবে মূলধন হিসেবে দুই সংস্থা সমানভাবে সরবরাহ করবে। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিমেন্স ও নর্থ ওয়েস্টের মধ্যে যৌথ উন্নয়ন চুক্তিতে (জেডিএ) স্বাক্ষর হয়।
চুক্তিতে সই করেন সিমেন্সের পক্ষে কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট (গ্যাস এবং ওয়ার ) রিচার্ড ক্লেটন রেজিং এবং নর্থ ওয়েস্টের কোম্পানি সচিব দীপক কুমার ঢালী। এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই সংস্থা। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, জেডিএ হওয়ার কথা ছিল জুনে, হলো সেপ্টেম্বরে। আগামীতে দ্রুত কাজ করে এই বিলম্ব পুষিয়ে নিতে হবে।
বর্তমানে পায়রায় চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেই নতুন এ কেন্দ্রের জন্য ১০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। ৩৬০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াটের মোট তিনটি ইউনিট থাকবে। এরমধ্যে প্রথম ইউনিট ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে আসার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্য দুটি ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হতে পারে।
জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই কেন্দ্রের সঙ্গে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট থাকবে। ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে ৪০০ কিলোভোল্টের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজ চলছে।
স্বাক্ষরিত জেডিএর আওতায় পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, পরিবেশগত সমীক্ষা, প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, ঠিকাদার নিয়োগ, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি সম্পাদন করা হবে। এ ছাড়া ঋণ সংগ্রহ ও যৌথ কোম্পানি গঠন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির ডেপুটি হেড অব মিশন মাইকেল সুথাই, সিমেন্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবাল বোস, পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ,এনডব্লিউপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।










