
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকসহ চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ন্যাশনাল ব্যাংকসহ চারটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। তবে এতেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এ ছাড়া এ সব পরিচালকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠে। অবশেষে চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বেসরকারি খাতের ব্যাংক চারটি হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিয়োগ দিয়ে এই সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। ফলে একই ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক বসিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী বার্তা দিতে চায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানোর বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন গভর্নর সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরীকে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১ এর পরিচালক একেএম কামরুজ্জামানকে। পর্যবেক্ষকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত তুলে ধরবেন।
এর আগে, ঋণ জালিয়াতি, নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তালিকায় এই চার ব্যাংকও ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পলাতক।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করতো জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। আইএফআইসি ব্যাংক পরিচালনা করতো সালমান এফ রহমান ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।












