“ প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানী কি ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পথেই হাঁটছে???”

চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং এমডি/সিইও দের অতিলোভ এবং অনৈতিকতাই এর জন্য দায়ী, এখনই লাগাম টেনে না ধরলে আইডিআরএ এবং অর্থমন্ত্রনালয়কেই দায়ী হতে হবে
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড কি দুর্নীতিগ্রস্থ কোম্পানীগুলির দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত কোম্পনীর চেয়ারম্যান, পরিচালক ও মুখ্যনির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে এবং তাদের সহযোগিতায় আরেকটি ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হইতে যাইতেছে??
অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, মিথ্যাতথ্য দিয়ে তহবিল আত্মস্বাত, কোন রকম বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে বা কোন রকম নিয়ম নীতি বা রিক্রুটমেন্ট পলিসির অনুসরন ছাড়াই ভুয়া নিয়োগ দেখানোর মধ্যদিয়ে বেতন ভাতার নামে বিশাল অঙ্কের টাকা উত্তলোন করে নেওয়া, অবৈধ পথে জনগনের জমানো অর্থ বিদেশে পাচার করা, সরকারের কর ফাকি দেওয়া, আইডিআরএ’র বেঁধে দেয়া আইন ভঙ্গকরে অতিরিক্ত কমিশনে ব্যবসা কারা, অতিরিক্ত কমিশনকে জায়েজ করার জন্য ডামি কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে অনৈতিক ভাবে পলিসি/ কাভারনোট বাতিল করে প্রিমিয়ামের টাকা গোপন করে উপঢৌকনের নাম করে মালিকদের বাসায় ব্যাগ ও কার্টুন ভর্তীকরে প্রতি সপ্তাহে টাকা পাঠানো, অনৈতিক মনোভাব নিয়ে স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্যতা না থাকাসত্ত্বেও পরিচালনা পর্যদের দুই-তৃতিয়াংশের সন্মতি ছাড়া নিজের পছন্দসই (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এমডি/সিইইউ/ মুখ্য নির্বহী কর্মকর্তা চলতি দায়ীত্ত্বে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে ফারইষ্ট ইসলামি লাইফের একই সিন্ডিকেট প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানীকেও ঠিক একই অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের অবস্থা দেখে পরিলক্ষিত হয়যে “এযেন নতুন বোতলে পুরোনো মদ।” এ খাতের অনেকের মতে, একটার পর একটা কোম্পনীর দেউলিয়াত্ব দেশের আর্থীক খাতের জন্য অশনি সঙ্কেত ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)কেসহ অর্থমন্ত্রনালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে (লাইফ-ননলাইফ) বীমা কোম্পানীগুলি বেশকিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি), চেয়ারম্যান এবং পরিচালকরা এহেন দুর্নীতি, এবং লুটপাটের মহা উৎসবে নেমে পড়েছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দক্ষতায় অযোগ্য ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)‘র সুযোগ সন্ধানী কর্মকর্তরা স্বীয় স্বার্থ হাসিলের কারনে এবং প্রজতন্ত্রের কর্মচারি হিসাবে নিজেদের অবস্থান এবং নৈতিকতার কথা ভুলেগিয়ে অবৈধ আয়ের নেশায় বোঁধ হয়ে নিজেদের আখের গোছানোতে ব্যাস্থ হয়ে পড়েছেন, যা সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইনে আইডিআরএ‘র চেয়ারম্যানের উচ্ছ আদালত কর্তৃক দশে ত্যাগে নিষেধাগ্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং দুদকের তদন্ত, সারা দেশের ব্যাংক,বীমা ও আর্থীক সেক্টরের লোকেদের নিকট টক অব দা ডেতে পরিনত হয়েছে।
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলির অবিভাবক ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) এবং অর্থমন্ত্রনালয়ের দুর্বলতার সুযোগে প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড দুর্নীতিগ্রস্থ কোম্পানীগুলির দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত কোম্পনীর চেয়ারম্যান, পরিচালক ও মুখ্যনির্বাহী কর্মকর্তাদের হযবরল অবস্থার মধ্যে থাকা কোম্পানীগুলির তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে নজরুল ইসলাম গং এখন প্রাইম ইন্স্যুরেন্স নিয়ে হুলিখেলায় মেতে উঠেছে। বর্তমানে কোম্পানীটির ইন্টার্নেল অডিট (আহম্মেদ জাকির এন্ড কো:) চললেও কোম্পানীটি গত জুন,জুলাই ২০২১‘এ বেতন ভাতা ওঅন্যান্য খরচ বাবদ (পরিচালন ব্যায়) ৬২ লক্ষ(প্রায়) খরচ করলেও প্রায় ৬০০ এর ও বেশি ডামি অফিসার নিয়োগ দেখিয়ে মাত্র ৬/৭ মাসের ব্যবধানে গত ফেব্রুয়ারি ২০২২‘তে কোম্পনিটির বেতন ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ অর্থ্যাৎ পরিচালন ব্যায় একলাফে আড়াই কোটিতে এসে দাড়ায়,যা কোন হিসাবের সাথে সমাঞ্জস্বপুর্ণ বলে মনে হয় নাই, এ ব্যপারে জানতে চাইলে কাগজপত্রে ক্রুটি হিসাবের গড়মিল এবং অতিরিক্ত ব্যায় সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেনাই কর্তৃপক্ষ। দুএকজন আবার কোম্পানীটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও পরিচালকদের উপর দ্বায় চাপিয়ে আমরা তাদের চাকুরি করি বলে ব্যপারটি এড়িয়ে যান।
ক্রমান্ময়ে আমাদের হাতে আরো বেশ কটি কোম্পানীর নাম প্রাথমিকভাবে অনিয়মের তালিকায় আসছে। যথাক্রমে অন্যান্য কোম্পানীগুলির বিষয়েও আমাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২/ রূপালী ইন্স্যুরেন্স, যার একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল ২০২২‘এ অর্থনীতির ৩০ দিন বিডি ডটকমসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং অনলাইনে প্রকাশিত হয়। ৩/ ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, ৪/ ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, ৫/ এসিয়া ইন্স্যুরেন্স, ৬/ রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, ৭/ এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স, ৮/ গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ৯/ প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, ১০/ মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, ১১/ পেরামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ১২/ তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, ১৩/ ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, ১৪/ নর্দার্ণ ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ১৫/ পুরবি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ১৬/ ইষ্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স,১৭/ বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কো: লি: এবং ১৮/ সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। বিশেষ প্রতিনিধি দ্বারা আমাদের হাতে সংগ্রিহীত থাকা ননলাইফ এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পনীগুলির আরো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে…।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত কবছর আগে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স যখন মোটা মোটি অবস্থানে চলতেছিল ঠিক তখনই ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ঠুকরে খাওয়া পরিচালনা পর্যদের কিছু শকুনের লোলুপ দুষ্টি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের উপর পড়ে, তারা সুকৌশলে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্যদে ডুকে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একজন সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদি খানমকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে, এরপর থেকে শুরু হয় কোম্পানীতে অনিয়মের সূত্রপাত। ডিএমডি ছৈয়দ মনিরুল হককে দেওয়া হয় এমডি সিসি‘র দায়ীত্ত্বে। পরবর্তিতে পদ্দতিগতভাবে বায়জিদ মুজতবা সিদ্দিকিকে তিন বছরের জন্য পুর্ণ এমডি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নৈতিকতার সাথে আপোস না হওয়া বায়জিদ মুজতবা সিদ্দিকি অদৃশ্য কারনে একবছরের মাথায় পদত্যাগ করেন। বায়জিদ মুজতবা সিদ্দিকির পদত্যাগের পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র দন্ডপ্রাপ্ত সুজিত কুমার ভৌমিককে এমডি সিসি দায়ীত্ত্ব দেওয়া হয়। দুর্নীতির বরপুত্র সুজিত কুমার ভৌমিককে এমডি সিসি দায়ীত্ত্ব দেওয়ার পর থেকেই শুরুহয় প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের দুর্নীতির মহাউৎসব। পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে সুজিত কুমার ভৌমিকের পরিবর্তে এমডি সিসি‘র দায়ীত্ত্ব দেওয়া হয় ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স থেকে বিতাড়িত নিজ বলয়ের আরেক মহারথী আবদুল্লা আল্ মামুনকে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)ও এ ব্যপারে নিরব ভুমিকা পালন করে।
ফারইষ্ট ইসলামি লাইফকে দেউলিয়া করার পর নজরুল গং সুক্ষ কৌশলের মাধ্যমে ফারইষ্ট ইসলামি লাইফের চাকুরি হারানো সেসব কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেন, তাদের মধ্যে কোম্পানী সেক্রেটারি হিসাবে মাহমুদুল ইসলামকে নিয়োগ দেন. হেড অব অডিট হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় কামাল হোসেনকে এবং হেডঅব এডমিন হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র বর্তমান চেয়ারম্যান ড,মোশারফ হোসেনের বোন ফারহানা ইয়াসমিনকে, যিনি ফারইষ্টে থাকা অবস্থায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে নয়বছরের প্রমোশনকে প্রায় তিনবছরেরও কম সময়ে দখল করে নেন।
লুটপাটের ঘটনা হিসাবে উল্লেখ্য যে পাবনা এমএম জুটমিলের বীমার দাবী পরিশোধের জন্য সাধারন বীমাকে ঘুষ দেওয়ার নামে পার্টি থেকে ৩০লক্ষ টাকা সারাসরি ঘুষ লেনদেন হয় প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে, যার সত্যতা পাওয়া যায় এমএম জুটমিলের মালিকানায় থাকা সাহাবুদ্দিন মল্লিক এবং সামিউদ্দিন মল্লিক এর সাথে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় আইওইউ সিøপের মাধ্যমে কোটিকোটি টাকা যে ভাবে লোন দেওয়া হয়েছে তা কিভাবে দেওয়া হয়েছে তারও কোন হদিছ পাওয়া যায় নাই। বিশেষ প্রক্রিয়ায় ও গোপন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় প্রাইম ইন্স্যুরেন্সে ক্যাশিয়ার সাদ্দাম হোসেন সুজিত কুমার ভৌমিক এমডি সিসি‘র মাধ্যমে এসব নিয়ন্ত্রন করে থাকেন বলে প্রমান পাওয়া যায়।
একজন শাখাপ্রধানের মাধ্যমে জানা যায়,সম্প্রতি কোম্পানীতে গত ৪মাসে ১৫কোটি টাকা বাকি পড়েছে,যা ২০/০৪/২০২২ তারিখে ম্যানেজারদের কোঅর্ডিনেশন মিটিং ডেকে কোম্পনীর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভার্চুয়ালী অংশ গ্রহন করেন এবং এই ১৫কোটি টাকার জন্য তিনি ম্যানেজমেন্টের উপর বেশ নাখোশ হন এবং এটাকা আদায় না হলে কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বোনাস দেওয়া হবেনা বলে সতর্ক করে দেন।
কোম্পানীর এই কালচার কবে থেকে শুরুহয় জানতে চাইলে নাম নাবলার স্বার্থে দুএকজন বলেন, সুজিত কুমার ভৌমিক এমডি সিসি‘র দায়ীত্ত্ব প্রাপ্তি এবং অতি চালাক লোক হিসাবে খেতাব প্রাপ্ত এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স থেকে অবসর গ্রহন করা এমডি ছাইদুর রহমানের উপদেষ্টা হিসাবে জয়েন্ট করার পর থেকেই বিশেষ ভাবে পরিলক্ষীত হয়। চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং এমডি/ সিইও দের অতিলোভ এবং অনৈতিকাই এর জন্য দায়ী, এখনই লাগাম টেনে না ধরলে প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের অবস্থাও ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মত দেউলিয়া অবস্থানে যেতে বেশী সময়ের প্রয়োজন হবেনা বলে এখাতের অনেকে মত প্রকাশ করেন।
সরকারের বিচার বিভাগ ও নির্বহী বিভাগের দর্ব্লতার সুযোগে এক শ্রেনীর ধুর্ত কিছু কোম্পানীর চেয়ারম্যান পরিচালক এবং মুখ্য নির্বহী কর্মকর্তা মিলে লেজুড় বিত্তির মাধ্যমে সরকার এবং প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তাদের কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে সরকারের ভিতর আরেকটি অদৃশ্য শক্তিশালী সরকার গঠন করে সততা ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দুনীতি, লুটপাট, এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে নিজেদের রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে তুলেছে। তাদের ভিত এতই শক্ত যে, তারা একটা দেশের সরকার তথা, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগসহ কোন কিছুকেই কোন রকম পরোয়া না করে পরিপুর্নভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন।এর প্রতিকার অত্যন্ত জরুরী ।