বিএবির অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে দেশী বিদেশী ৫৯ প্রতিষ্ঠান

৩০ দিন নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) এখন পর্যন্ত মোট ৫৯টি দেশী-বিদেশী ল্যাবরেটরি ও প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি টেস্টিং ল্যাবরেটরি, ছয়টি ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরি, দুটি মেডিকেল ল্যাবরেটরি, দুটি ইন্সপেকশন সংস্থা ও দুটি সনদ প্রদানকারী সংস্থা রয়েছে। বিএবির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই দেশী-বিদেশী অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দেয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের নীতিসহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার ফলে বিএবির পরিচিতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়া অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০১৮ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বিএবি আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব ও বিএবির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্। বিএবির মহাপরিচালক মো. মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম, বিএবির পর্ষদ সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম ইমদাদুল হক, বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শমশদ কোরোয়াসী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান মারুফ কবির ও আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরি এসজিএস বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধি মোস্তাক পারভেজ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটি অর্জন করা গেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে সক্ষম হবে। বিএবি প্রতিষ্ঠার ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জনের পথ সুগম হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এরই মধ্যে বাংলাদেশ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।
বক্তারা বিএবির কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করতে এর কারিগরি জনবল বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে তারা দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিএবির পরিচিতি বাড়ানোর তাগিদ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব বলেন, বিএবির কার্যক্রম জোরদারের ফলে বাংলাদেশী পণ্য ও সেবার গুণগত মানের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। ধীরে ধীরে উন্নত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশ করছে। ফলে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ বাড়ছে ও বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিএবির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বিএবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ এবং এসডিজি ২০৩০-এর সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সময়, অর্থ ও পরিদর্শন সাশ্রয়নীতির ভিত্তিতে সেবাদান প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।