
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ:
শিক্ষা সনদ জাল-জালিয়াতির ঘটনা আমাদের দেশের নতুন কোন ঘটনা না হলেও বর্তমানে তা প্রকট আকার ধারন করছে বলেই প্রতিয়মান, লেখা পড়া না করেই জহাল সনদ সংগ্রহ এখন যেনো মহামারী আকার ধারন করেছে। তাও আবার দেশের অন্যান্য কর্মখেত্রের চেয়ে বীমা সেক্টরেই (লাইফ-ননলাইফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যেই সনদ জাল-জালিয়াতির ঘটনা বহুলাংশে পরিলক্ষিত। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক মুখ্য নির্বাহী কমকর্তা (চলতি দায়িত্ব) রফিকুল ইসলামও এর থেকে বাদ পড়েন নাই।
বর্তমানে বহুল আলোচিত সমালোচিত এবং পারিবারিক পরিচালনা পর্যদে (শশুর, জামাই, মেয়ে ছেলে) পরিচালিত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক মুখ্য নির্বাহী কমকর্তা (চলতি দায়িত্ব) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোঘ উত্থাপিত হওয়ায় মামলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর বিরদ্ধে বীমা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইডিআরএকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামকেও চিঠি দিয়েছে সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে শিক্ষা সনদ জাল-জালিয়াতি প্রমাণিত উল্লেখ করে- বিষয়টি বীমা আইন ২০১০ ধারা ১৩১ বিধান মতে ফৌজদারী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গন্য করা হয়।
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জানুয়ারী মাসে মোঃ রফিকুল ইসলামকে সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ থেকে মূখ্য নির্বাহী কমকর্তা হিসাবে অনুমোদনের ফাইল আইডিআরএ পাঠানো হয়। সে সময় তাঁর ডিগ্রী ও মাষ্টার্স এর দুইটি সার্টিফিকেট জাল- তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস (অব:) ফাইল চেক করার পর বিষয় ধরা পরে। কারন তাঁর ডিগ্রী ও মাষ্টার্সের সার্টিফিকেটের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর, সেশন ও সাল একই রকম উল্লেখ করা।
‘দুইটি সার্টিফিকেট জাল’ উল্লেখ করে সোনালী লাইফের মানব সম্পদ বিভাগের এজিএম রাফি-উর-জামান সাক্ষরিত চিঠিতে- আইডিআরএকে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়। একইসঙ্গে প্রশাসক থেকে স্থানীয় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি মামলার নির্দেশনা দেয়া হয় বলেও জানানো হয়।
এদিকে রফিকুল ইসলামের এসএসসি, এইচএসসি, অর্নাস এবং মার্ষ্টাসের শিক্ষা সনদ যাচাই-বাচাই করে সেখানে প্রতিটি সনদেই অসংগতি দেখা গেছে। শিক্ষা সনদগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯২ সালে তিনি ‘সুধীর কুমার উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে এসএসসি পাশ করেন। সেখানে তাঁর নাম লিখা হয়েছে ‘মো. রফিকুল ইসলাম’ এবং পিতার নাম লিখা হয়েছে ‘মৃত ইমাজ উদ্দিন’। অন্যদিকে সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ থেকে পাশ করা তাঁর এইচএসসির সার্টিফিকেটে নাম ‘মোহা: রফিকুল ইসলাম’ এবং পিতার নাম ‘মৃত ইয়াজ উদ্দিন’ লিখা হয়েছে। এছাড়াও তাঁর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা অনার্সের প্রভিশনাল সার্টিফিকেটে রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার- ২৮৯৫৩, সেশন- ১৯৯৫-৯৬ এবং সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ ০১-০৩-০৫ উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে মার্ষ্টাস এর শিক্ষা সনদেও রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার- ২৮৯৫৩, সেশন- ১৯৯৫-৯৬ ও সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ ০১-০৩-০৫ উল্লেখ করা হয়। এমনকি মার্ষ্টাস এর সনদে পরীক্ষার ‘সন’ এর স্থানের কলম দিয়ে কাটা ছেঁড়া রয়েছে। অনার্স এবং মার্ষ্টাসের পাশের একই সন ‘২০০০’ বলে উল্লেখ রয়েছে। সোনালী লাইফের এএমডি ও মোট্রো প্রজেক্টের এই কমকর্তা রফিকুল ইসলামের প্রতিটি শিক্ষা সনদে এমন অসংগতি ধরা পড়লে- আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করে উর্ধ্বতন কতৃপর্ক্ষ। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলামের সার্টিফিকেট ’জাল’ উল্লেখ করে আইডিআরএকে চিঠি দেয়া হয়। এমনকি আজ তাকে ‘বরখাস্ত’ করা হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে জালিয়াতির এই অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত’ এমন দাবী করে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার সকল শিক্ষা সনদ সঠিক, কোথাও কোন ভুল থাকলে তা শিক্ষা বোর্ড করেছে, আমি মানহানী মামলা করবো।’’
এ বিষয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস কে ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।
শিক্ষা সনদ জালিয়াতি নিয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএর মুখপাত্র ও পরিচালক (উপসচিব) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘‘রফিকুল ইসলামের সনদ নিয়ে সমস্যার কথা শুনেছি, যেহেতু সোনালী লাইফের সিইও হিসেবে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ অনুমোদন দেয় নি আইডিআরএ, তার ফাইল বাতিল করে দেয়া হয়েছে- সেহেতু সার্টিফিকেট সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে নতুন করে কথা বলার কিছু নেই।’’
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরিচালক (উপসচিব) আব্দুল মজিদ বলেন, সোনালী লাইফ থেকে সার্টিফিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ আইডিআরএ এসেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতির কোন অভিযোগ উঠলে- বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।












