“নজরুল রিমান্ডে, খালেককে ও তার ছেলেকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ, ডঃমোশারফ হেমায়েত ধরাছোঁয়ার বাইরে?”


দুর্ধর্ষ্য অর্থ পাচারকারী ও অর্থ আত্মসাৎ মামলায় নজরুল রিমান্ডে, পুত্রসহ খালেককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর প্রাইম ইন্সু্যুরেন্স এখন কান্ডারি বিহীন, ডঃ মোশারফ হোসেন এবং হেমায়েত উল্লাহ কি পার পেয়ে গেল ???
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুর্ধর্ষ্য অর্থ পাচারকারী কোম্পানিটির সাবেক ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে দু’দিনের রিমান্ড দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুব আহমেদের আদালত সেইসাথে বীমা কোম্পানিটির সাবেক পরিচালক এম এ খালেক এবং তার ছেলে রুবায়াত খালেককে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ প্রদান করেছেন উল্লেখিত আদালতের এই বিচারক।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মাহবুব আহমেদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বীমা গ্রাহকদের খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে অবৈধভাবে গ্রাহকদের জমাকৃত ৮শ’ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে শাহবাগ থানায় করা উল্লেখিত মামলা নং ১৫(৯)২২ দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনি। সম্প্রতি ফারইস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যলয়ের অপর এক মামলায় এম এ খালেক গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তিতে জামিনে বেরিয়ে আসেন। দূর্ধন্ড প্রতাপশালি ও সুচতুর নজরুল ইসলাম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির চোখফাঁকি দিয়ে কৌশলে গ্রেপ্তার এড়িয়ে এক্স্যুয়েলি এবং ভার্চ্যুয়ালি অফিসিয়াল কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও শেষপর্যন্ত শেষরক্ষা করতে পারেন নাই নিজেকে, ধরা তাকে পড়তেই হল নিঝুম রাতের শেষে ভোরের শান্ত প্রহরে সেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির হাতে।
মামলার সুষ্ঠুতদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে একই সঙ্গে নজরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড ও এম এ খালেক এবং তার ছেলে রুবায়াত খালেকের দুই দিনের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন ফকির। চলতি বছরের ৮ মার্চ ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও সাবেক পরিচালক এম এ খালেকসহ কোম্পানিটির ৯ পরিচালক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামীরা হলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক কে এম খালেদ, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খালেদ, পরিচালক এম এ খালেক, পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক ফরিদউদ্দিন এফসিএ, পরিচালক আসাদ খান, কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আবদুল আজিজ এবং অপসারিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহ।
মামলা দুটি প্রাইম এশিয়া ফাউন্ডেশন এবং পিএফআই প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামক দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ১৫৮তম পর্ষদ সভার ভুয়া সার-সংক্ষেপ তৈরি করে সেটির বরাত দিয়ে কোম্পানিটির ৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করে দুদক।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের বর্নিত আয় ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ‘বীমা দাবি পাচ্ছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকরা’ অফিসে গ্রাহকদের উপস্থিতিতে সিকিউরিটি কতৃক নিরিহ গ্রাহকদের মারপিট ও তাড়িয়ে দেওয়াসহ একই বছরে কোম্পানীর ‘সাড়ে ১৪ কোটি টাকার জমিতে বালু ফেলতেই খরচ ১৪২ কোটি টাকা’ খরচ দেখানো মিলিয়ে বিভিন্ন শিরোনামে অনলাইন পোর্টাল অর্থনতির ৩০ দিনবিডিটকম ধারাবাহিক ভাবে ১০/১১টি সংবাদ প্রকাশ করে এবং এসব সংবাদ আমলে নিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সরকারের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যার ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর ২০২১ বীমা কোম্পানিটিতে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ না করলে নয় যে, ২০১২ থেকে ২০১৭সাল পর্যন্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীটিতে লুটপাট, গ্রাহক হয়রানি, অর্থপাচার এবং আত্মস্বাতের মহা উৎসব চলছিল তখন কোম্পানীটির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন সম্প্রতি পদত্যাগ করা আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান ডঃ মোশারফ হোসেন এফসিএ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিএফও) ছিলেন হেমায়েত উল্লাহ, যিনি বর্তমানে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বহু অঘটনের পরও কোন অদৃশ্য শক্তিতে ডঃ মোশারফ হোসেন প্রথমে আইডিআরএ’র মেম্বার এবং পরে চোয়ারম্যান পদে আসিন হন, তা এখনো অজানা। অনেকের মতে ডঃ মোশারফ হোসেন বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রন সংস্থা (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে একটা উন্নয়নমুখি দেশের বীমাখাতকে বেহাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা অর্থ কেলেঙ্কারি এবং ক্ষমতা অপব্যবহার কোনকিছু থেকে পিচপা হন নাই, যার ধারাবাহিকতায় অনলাইন পোর্টাল অর্থনতির ৩০ দিনবিডিটকম ধারাবাহিক ভাবে ৫টি সংবাদ প্রকাশ করে এবং পরবর্তিতে আরো বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একযোগে এসব কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার কারনে তিনি আইডিআরএ এর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এখন বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন একটাই, একটা উন্নয়নশীল বীমাখাতকে এবং দেশকে আর্থীক ভাবে বিপর্জয়ের মুখে দাঁড় করানো চিহ্নিত অপরাধী নজরুল-খালেক গংরা আইনের আওতায় আসলেও মোশারফ হেমায়েত উল্লাহরা বাইরে থাকবে কেন এবং তাদেরকে কবে আইনের আওতায় আনা হবে???