ধারাবাহিক মুনাফায় বাটা শু

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
ধারাবাহিক মুনাফায় রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু। বিক্রি বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। বেড়েছে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন মুনাফাও। একই সঙ্গে ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদও।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মতে, বাংলাদেশে বাটার মার্কেট অনেক বড়। যে কারণে দীর্ঘদিন সফলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তারা, যার প্রভাব পড়ছে মুনাফায়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ১৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ বছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট পণ্য বিক্রি হয় ৯০৪ কোটি টাকার। ২০১৬ সালে এ পরিমাণ ছিল ৮৭৪ কোটি টাকা।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি করপরবর্তী মুনাফা করে ১১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ কোটি টাকার বেশি। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা করে ১০৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর ২০১৫ সালে বাটা শু’র মুনাফার পরিমাণ ছিল ৮৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব মো. হাসিম রেজা বলেন, আমরা ‘সবসময় পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখার চেষ্টা করি। সে কারণে প্রতি বছরই বিক্রি বাড়ছে। তাছাড়া আমাদের মার্কেটও ভালো যে কারণে কোম্পানিটি ধারাবাহিক মুনাফা করতে পারছে।’
এদিকে তালিকাভুক্ত বাটা শু’র চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন ১৮) শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়েছে। প্রথমার্ধে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৪৬ টাকা ৪২ পয়সা। এর পরিমাণ আগের বছর একই সময়ে হয়েছিল ৩৯ টাকা ২৯ পয়সা। এ হিসাবে ইপিএস বেড়েছে সাত টাকা ১৩ পয়সা।
এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন ১৮) ইপিএস হয়েছে ৩৩ টাকা ৫৬ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৬ টাকা ৭৪ পয়সা। এ হিসাবে ইপিএস বেড়েছে ছয় টাকা ৮২ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৪৪ টাকা ৭৫ পয়সা।
এদিকে ধারাবাহিক মুনাফা থাকলেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চীন থেকে নি¤œমানের জুতা এনে নিজেদের শোরুমে সাপ্লাই দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, নিজস্ব ব্র্যান্ডের পাশাপাশি আরো ১৮টি ব্রান্ডের জুতা বিক্রে করছে, যা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
বাটায় অন্য ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি হয় কিনাÑএমন প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি সচিব হাশিম রেজা বলেন, ‘আমরা কিছু পণ্য আমদানি করে। এগুলো কোম্পানির পক্ষ থেকে অর্ডার দিয়ে করানো হয়। সে কারণে এগুলো আমাদের নিজস্ব পণ্য।’
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশের হারও নিয়মিত বাড়ছে। সর্বশেষ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন দেয় ৩৩৫ শতাংশ। যেখানে প্রকৃত লভ্যাংশের হার দাঁড়ায় দুই দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর আগের বছর লভ্যাংশ দেয় ৩৩০ শতাংশ। আর ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩২০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, বহুজাতিক এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তখন দেশের সবখানে বাটা শু’র একচেটিয়া ব্যবসা ছিল। পরবর্তীতে দেশি কয়েকটি কোম্পানি জুতা রফতানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করায় বাটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৭০ শতাংশ রয়েছে পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে আট দশমিক ৫৮ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী ও দুই দশমিক শূন্য দুই শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশিদের কাছে।