অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
সময়মতো নবায়ন না করায় বাতিল হয়ে গেছে আরও প্রায় এক লাখ বিও অ্যাকাউন্ট। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ নিয়ে বছরের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেল আড়াই লাখ বিও অ্যাকাউন্ট। সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা পরিস্থিতি সেই সঙ্গে আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে বাতিল অ্যাকাউন্টের তালিকা পাঠানোর পর বর্তমান বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪০৪টি। ২১ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী বিও সংখ্যা ছিল পাঠানো ২৭ লাখ এক হাজার ৪১৪টি। অর্থাৎ এ সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে ৮১ হাজার ১০টি বিও অ্যাকাউন্ট। বাতিল হওয়ার পর গত বছর বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৭৫৬টি। সেই হিসাবে গত এক বছরে অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়েছে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৩৫২টি।
স্মরণকালের (২০১০ সালের) ভয়াবহ ধসের পর আর স্বরূপে ফিরতে পারেনি পুঁজিবাজার। মাঝে মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আরও পতনের ধাক্কা লেগেছে বাজারে। ফলে বাজার বিমুখ হয়ে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যার ধাক্কা লেগেছে বিও অ্যাকাউন্টে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৫ সালের জুনে মোট বিওর সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ চার হাজার ৬০২টি। ২০১৬-এর জুনে এসে বিও সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১টিতে। সর্বশেষ ২০১৭-এর জুনে অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৫টিতে। ২০১৮তে যা নেমে আসে ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪০৪টিতে। মূলত পুঁজিবাজারে আইপিও প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর প্রধানত দুই কারণে অসংখ্য বিও বাতিল হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাজারের মন্দা পরিস্থিতি অন্যটি প্রাইমারি মার্কেট থেকে বিনিয়োগকারীদের সুবিধা না পাওয়া। তবে এ বছর বিও বাতিল হওয়ার জন্য প্রাইমারি মার্কেটের নাজুক পরিস্থিতি দায়ী করেন তারা। যে কারণে বিনিয়োগকারীরা অনেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীন বলেন, যেসব অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়েছে তার বেশিরভাগই আইপিওতে আবেদন করার জন্য খোলা হয়েছিল। বছর শেষে তারা এসব অ্যাকাউন্ট নবায়ন করেননি। ফলে অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বাতিল অ্যাকাউন্টের মধ্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে ব্যবসা করা হতো এমন হিসাব সংখ্যা সীমিত।
বর্তমানে সচল বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫২টি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক লাখ ৫৫ হাজার ৫১টি এবং বিভিন্ন কোম্পানি ১১ হাজার ৮৯২টি। এদিকে সচল বিওর মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১৯ লাখ ১৪ হাজার। আর নারীদের বিও রয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৬০৮টি।
নিয়মানুযায়ী জুন মাসে বিও ফি পরিশোধ না করলে সেসব অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যেসব হিসাবে শেয়ার কিংবা টাকা থাকে সেসব হিসাব বন্ধ হয় না। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩-এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়। এর আগে পঞ্জিকা বর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেওয়া হতো।
২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও হিসাব নবায়নের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। না হলে তা বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল। বর্তমানে বিও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা।












