
সঠিক আইডেন্ডিটি নম্বর ছাড়া পলিসি ইস্যু বৈধ হবে না, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ৯ রেগটেক মডিউল চালু
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক:
বীমা খাতের ডিজিটাল নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশের হযবরল লাইফ ও নন-লাইফ বীমা খাতের সকল কোম্পানির জন্য রেগটেক/সুপটেক প্ল্যাটফর্মের ৯টি মডিউল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার মাধ্যেম। ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রশাসন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
আইডিআরএ’র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বীমা খাত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মডিউলগুলো এখন থেকে নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
রেগটেক এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানকে আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা মেনে চলতে সহায়তা করে। অপরদিকে সুপটেক হলো এমন প্রযুক্তি যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকরভাবে তদারকি করার জন্য।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইভ অপারেশনে যাওয়া মডিউলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ড্যাশবোর্ড ও অথেনটিকেশন নম্বর জেনারেশন, পলিসি রেজিস্ট্রেশন, প্রোডাক্ট অ্যাপ্রুভাল, শেয়ার ট্রান্সফার, ওয়েব পোর্টাল ও কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, এজেন্ট/ব্রোকার ম্যানেজমেন্ট এবং রিপোর্ট রিটার্ন।
নির্দেশনা অনুসারে, কোনো পলিসি ইস্যুর আগে ‘ইউনিক অথেনটিকেশন নম্বর’ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। এই নম্বর ছাড়া কোনো পলিসি ইস্যু করা যাবে না। তথ্য যাতে সরাসরি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পৌঁছায়, একই সঙ্গে বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজস্ব সফটওয়্যারের সঙ্গে আইডিআরএর এপিআই ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করতে হয়। কোম্পানিগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত আইডিআরএ’কে জানানো এবং সিস্টেম ব্যবহারের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে উক্ত নির্দেশনায়।

রেগটেক/সুপটেক বাস্তবায়নের ইতিবাচক দিক
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি পলিসির জন্য ইউনিক অথেনটিকেশন নম্বর বাধ্যতামূলক হওয়ায় কারনে একই পলিসি একাধিকবার দেখানো যেমন যাবে না ঠিক একইভাবে ভুয়া পলিসি তৈরি করাও কঠিন হবে। এতে গ্রাহক প্রতারণা কমবে। এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর তথ্য সরাসরি আইডিআরএ’র সিস্টেমে যাবে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসা, পলিসি ইস্যু, এজেন্ট কার্যক্রম ও রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
কল সেন্টার ও কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) মডিউল চালু হওয়ায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা আরও কাঠামোবদ্ধ হবে এবং গ্রাহকের অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। এজেন্ট, সার্ভেয়র, ব্রোকার ম্যানেজমেন্ট মডিউলের মাধ্যমে নিবন্ধন, নিয়োগ ও কার্যক্রম ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে অননুমোদিত বা ভুয়া এজেন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। রিপোর্ট রিটার্ন ডিজিটাল হওয়ায় প্রিমিয়াম, দাবি, সম্পদ ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য গোপন বা বিলম্বিত করার সুযোগ তেমন একটা থাকবে না। নতুন বীমা পণ্য অনুমোদন, এজেন্ট নিয়োগ, শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় কমবে। এ ছাড়াও দেশের সব বীমা কোম্পানির তথ্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে জমা হওয়ায় আইডিআরএ তথ্যের বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এই উদ্যোগ সফল করতে আইডিআরএ-কে কিছু চ্যালেঞ্জর মুখামুখি হতে হবে, অনেক কোম্পানিকে তাদের বিদ্যমান সফটওয়্যার নতুন এপিআই’র সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এক কথায় রেগটেক/সুপটেক পদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে দেশের বীমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং ডিজিটাল সুশাসন উল্লেখযোগ্যভাবে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এতেকরে গ্রাহকের আস্থা বাড়ানো মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের এগিয়ে যাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।












