নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৫৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকুঞ্জতে অবস্থিত ডিএসই ভবনের মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয় ডিএসই। একই সঙ্গে নতুন পরিচালক নিয়োগ, কৌশলগত বিনিয়োগকারী বাছাই ও ডিএসইর ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়েও আলোচনা হয় এজিএমে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সর্বশেষ হিসাব বছরে স্টক এক্সচেঞ্জটির কার্যক্রম ও নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান। এ সময় ডিএসইর পরিচালক মনোয়ারা হাকিম আলী, শাকিল রিজভী, বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যে ড. আবুল হাশেম বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে পুঁজিবাজারকে সমানভাব এগিয়ে নিতে ডিএসই কাজ করছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে পুঁজিবাজারকে তার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ডিএসই তাদের প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ, পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও আস্থা বাড়াতে কাজ করছে।
ডিএসইর উন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মনোভাব ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী আনার বিষয়ে গেল বছর ডিএসই অনেক বেশি পরিশ্রম করেছে। কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের একটি কনসোর্টিয়াম ডিএসইর মালিকানা নিতে প্রস্তাব দিয়েছে। বিএসইসিও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্ধারণ করতে পারব।
এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিএলআই সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ডিএসইর নবনির্বাচিত পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ সাদেক, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জহিরুল ইসলাম, লংকাবাংলা ক্যাপিটাল মার্কেট অপারেশন্সের এমডি ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, কাজী ফিরোজ রশিদ সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের এমডি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আনোয়ার সিকিউরিটিজের আনোয়ার হোসেন, শ্যামল ইকুইটিজের মো. সাজেদুল ইসলাম, গ্লোবাল সিকিউরিটিজের রিচার্ড ডি রোজারিও, মডার্ন সিকিউরিটিজের খুজিস্তা নূর-ই নাহরিন, ডেল্টা ক্যাপিটালের জিয়েদ রহমান, অলোকো সিকিউরিটিজের এনএম সফিউল কবীর চৌধুরী, কাইয়ূম সিকিউরিটিজের নাঈম মো. কাইয়ূম, গ্রিনল্যান্ড ইকুইটিজের রাজিব এহসান ও ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মোনা ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান আহসানুল ইসলাম টিটুসহ বেশ কয়েকটি সিকিউরিটিজ হাউজের প্রধান নির্বাহীরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের কনসোর্টিয়াম শেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। চীনা ও ভারতীয় কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবের নানা বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণও উল্লেখ করেন শেয়ারহোল্ডাররা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ডিএসই। গেল বছর ডিএসইর কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বছর শেষে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৯ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৬৬ পয়সা।












