খোন্দকার জিল্লুর রহমান:
একটা দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলির অবিভাবক হিসাবে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক একইভাবে বীমা কোম্পানীগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)। আর এই বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কতটুকু দায়িত্বশীল তা প্রশ্নবিদ্ব? এটাকে ধরে রাখতে হলে তার জন্য দরকার আইনের সুুষ্ঠ প্রয়োগ এবং সঠিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। এই অবকাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর সবটুকুর জন্য দায়ী প্রশাসনিক পদে যারা যারা আছেন তাদের কর্ম কৌশল, দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা। এর কোনটার ব্যত্যয় ঘটলে কোন অবস্থাতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যবে না। আর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদের লোকেরা যদি দুর্নীতি ও লোভের স্বীকার হয় তাইলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ।
আমাদের দেশের টেকসই অর্থনীতিতে বিশেষ করে আমাদের দেশের বীমা খাতের অবদান অনস্বীকার্য, কারন এক হিসাবে অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড ধরা হয় এই বীমা খাতটিকে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বড় একটি অংশই নির্ভর করে আমাদের বীমাখাতের স্থিতিশীলতার উপর।
ব্যাংকিং, আমদানী-রপ্তানী, শেয়ারবাজার বা শিল্প বিকাশের পাশাপাশি বিনিয়োগ পুনঃ বিনিয়োগের আর্থিক খাতটিই মূলত বীমা নির্ভর। আর এ সব কাজের জন্য বীমা প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা ও স্থিতিশীলতাকে বিবেচনায় নেয়া একান্ত জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বর্তমান অবস্থায় বীমা খাতটি পুরুপুরি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। এক কথায় বলতে গেলে বীমা খাতটি অদক্ষ, অযোগ্য আর দূর্নীতিবাজদের দখলে চলে গেছে,এবং এখানে চলছে দুর্নীতির এক মহা উৎসব।
সাধারণ বীমার নানা দূর্নীতি, অব্যবস্থাপনাকে অসাধারন প্রতিযোগিতায় পেছনে ফেলে জীবন বীমা খাতের কাহিনী অর্থনীতিবিধদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষকে পর্যন্ত নির্বাক করে দিয়েছে। বীমাখাতের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বীমাবিধদের পাশাপাশি দেখা যায় ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আডিআরএ) বীমা কোম্পানীগুলির অভিভাবকতো নয়ই বরং তল্পি বাহক হিসাবেই চিহ্নিত করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে নিজেকে বিশ্বাষ করার অবস্থা না হয়ে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য আসাতে চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠে। বীমা খাতের এই চরম বেহাল অবস্থার জন্য মুলত অব্যবস্থাপনা, নৈরাজ্য, দূর্নীতি ও স্বজন প্রিতির পেছনে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র প্রধান থেকে উচ্ছ পদস্থ কর্মকর্তা, কর্মচারিদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, আইনী দূর্বলতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্টতাকে দূষছেন এই খাতের সাথে জড়িত অর্থনীতিবিধ ও সুশীল সমাজ সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের নিজেদের অবস্থান ভুলে গিয়ে অতিলোভ ও আইন ভাঙ্গার প্রবণতার পাশাপাশি দূর্নীতির কারণে সেই সুযোগে অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীগুলো লুটপাট, জনগনের অর্থ আত্মস্বাৎ, ঋন কেলেঙ্কারিসহ নির্লজ প্রতারণায় নেমে পড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই সকল নিয়ম ভেঙ্গে চলছে জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো, যার দ্বায় ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আডিআরএ) এর এড়ানোর কোন সুযোগ নাই। এখানে অর্থনীতির সুশাসনের প্রয়োজনটাই ভুলতে বসেছে এ খাত সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর লুটপাটের ঘটনায় কোম্পানির উদ্বোক্তা পরিচালক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো: ফখরুল ইসলাম সহ ৭জন পরিচালকের উচ্ছ আদালতে এক রিটের কারনে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক উভয়ের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে পুরু দেশের জনগনের মাঝে টক-অফ দ্যা ডেতে পরিনত হয়েছে। উল্লেখ্য যে সাত জনের মধ্যে – মো. ফখরুল ইসলাম, যিনি কোম্পানীর উদ্বোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, কিন্ত খালেক-নজরুল গংদের দুর্নীতির মহড়া দেখে ২০০৯ সালে পরিচালনা পর্যদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বাকি ৬জন পরিচালক সম্প্রতি বিএসইসি কর্তৃক অপসারিত পর্যদের সদস্য ছিলেন। ধারাবাহিক ভাবে চলবে…….












